Advertisement
Advertisement
Biman Bose

বিজেপি ও তৃণমূলের জন্মদাতা সংঘ, দুই দলের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক লড়াই নেই: বিমান বসু

'আমার মৃত্যুর পরেও জাগরূক থাকবে সমাজতন্ত্রের লড়াই', বলছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। দিলেন আরও নানা কঠিন প্রশ্নের উত্তর।

Advertisement
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ২১:৩৭

link
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ২১:৩৭

options
link
বিজেপি ও তৃণমূলের জন্মদাতা সংঘ, দুই দলের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক লড়াই নেই: বিমান বসু zoom

বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান। সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য। ৩৪ বছরের শাসনের সাক্ষী তিনি। একইভাবে দেখেছেন পরের ক্ষমতাহীন ১৫ বছর। শূন্যের ফাঁড়া আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) কাটবে? সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে অকপট বিমান বসু (Biman Bose)।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন হোক কিংবা পথে-ঘাটে- আপনি বারেবারে দৃপ্তকণ্ঠে বলছেন, এবার আর আপনারা মহাশূন্যে আটকে থাকবেন না। এই প্রবল আত্মবিশ্বাসের কারণ কী?
উত্তর: অভিজ্ঞতা বলে, নেড়া বারবার বেলতলায় যায় না! ২০১১ সালে নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতিতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হত, ‘বদলা নয়, বদল চাই’। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর যখন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করল, সেই রাতে আর বাড়ি ফেরা হল না পূর্ণিমা ঘোড়ুইয়ের। বর্ধমান থেকে কাটোয়া যাওয়ার পথেই তাঁর লাশ পড়ে রইল। এরপর গড়বেতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপর অত্যাচার নেমে এল। ২০২১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারকরা এই মর্মে প্রচার শুরু করল যে, ‘বামপন্থীদের ভোট দিয়ে লাভ নেই, ওরা জিতবে না! তাই তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভোট দাও।’ দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের নেতারা অপরাধ করলে বিজেপিও চাইছে না তাদের প্রকৃত শাস্তি হোক। শিক্ষক নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে গেল। এ তো তাদের বোঝাপড়ার রাজনীতিই। অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকরা বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থাকছেন। দেখা যাচ্ছে, তাঁরা ক্রমাগত একে অপরকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন। এখানে রাজনীতির বালাই নেই! বাংলাকে বাঁচাতে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই পরাস্ত করতে হবে— এই স্লোগানটি এক অংশের মানুষের কাছে এখন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে, যা আগের নির্বাচনে হয়নি। এর ভিত্তিতে বলা যায়, মহাশূন্যে বিচরণ করার দিন শেষ।

Advertisement

“আমরা কারও ভোটকাটুয়া নই! যারা আমাদের ভোট দেন, তাঁরা বামপন্থাকেই সমর্থন করেন। কমিউনিস্টদের পছন্দ করেন বলেই আমাদের প্রার্থীদের ভোট দেন। কোভিডের সময় কমিউনিস্টরা জীবনের বাজি রেখে মানুষের সেবা করেছে, এটা মানুষ দেখেছে।”

প্রশ্ন: সমাজমাধ্যমে আপনাদের কর্মীদের উপস্থিতি তাক লাগানো। রেড ভলান্টিয়াররা কোভিডকালে প্রাণপাত করেছেন। কিন্তু তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এর কারণ কী?
উত্তর: আমার ধারণা অতীতের চাইতে খানিক ব্যক্তিক্রমী ঘটনা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঘটবে। আর জি কর কাণ্ড ঘিরে নাগরিক আন্দোলন গড়ে উঠল। গণ আন্দোলন রুখে দেওয়ার যে চিরন্তন প্রয়াস, তা যেন খানিক ঘা খেল। ভারতীয় জনতা পার্টির জন্মদাতা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মদাতাও তো তারাই। একটি বামপন্থা-ঘেঁষা। অন্যটি উগ্র ডানপন্থী। যাতে মানুষ এই দু’টোকে ভিন্ন রাজনৈতিক দল ভেবে ভুল করে। আজ মানুষ বুঝতে পারছে যে, তৃণমূল আর বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করছে না। বেকার ভাতায় স্পষ্ট, রাজ্যের এক কোটি মানুষ প্রথাগত কর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। যাঁরা বেকার নন, তাঁরা যে নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করছেন, তাও নয়! এই অবস্থায় যখন বিজেপি আর তৃণমূল পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখন তাতে কোনও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নেই। দুই দলের সাজানো খেলা মাত্র। ফলে বামফ্রন্টের স্থানীয় জমায়েতে মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। 

প্রশ্ন: এবারের বিধানসভায় মেহনতি মানুষের কতজন প্রতিনিধিকে দেখতে পাওয়া যাবে বলে মনে হয়?
উত্তর: এটা এখনই বলার সময় আসেনি। অবস্থায় দোলাচল দেখা যাচ্ছে। আমার ধারণা, প্রথম পর্বের নির্বাচনের সময়ই খানিকটা বোঝা যাবে। দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনের আগে বাকিটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: ৩৪ বছরের শাসনের পর কোনও দুঃস্বপ্নেও কি এমনটা হতে পারে ভেবেছিলেন?
উত্তর: না, ভাবা যায়নি। শূন্য থেকেই শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে কমরেড রূপনারায়ণ রায়, কমরেড রতনলাল ব্রাহ্মণ, কমরেড জ্যোতি বসু— তিনজন জেতার আগে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় আমাদের কোনও প্রতিনিধি ছিল না। কিন্তু জেতার পর আমাদের প্রতিনিধি ধারাবাহিকভাবে থেকেছে। সংখ্যায় কম হলেও শূন্য কোনওদিন হয়ে যায়নি। তাই আজ শূন্য হয়ে গিয়েছে, এটা শুনতে তো ভালো লাগে না। লাগার কথাও নয়।

প্রশ্ন: এই অবস্থাতেই তৃণমূল-বিজেপির পক্ষ থেকে আপনাদের গায়ে ‘ভোটকাটুয়া’র তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর: আমরা কারও ভোটকাটুয়া নই! যারা আমাদের ভোট দেন, তাঁরা বামপন্থাকেই সমর্থন করেন। কমিউনিস্টদের পছন্দ করেন বলেই আমাদের প্রার্থীদের ভোট দেন। কোভিডের সময় কমিউনিস্টরা জীবনের বাজি রেখে মানুষের সেবা করেছে, এটা মানুষ দেখেছে। ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী মানুষ ধর্মাচরণ করবেন, এতে সমস্যা নেই। কিন্তু ধর্ম আর রাজনীতি মিলেমিশে গেলে সর্বনাশী সংঘাত হয়। আমরা তা থেকে মানুষকে বাঁচাতে চাই। এই অপশক্তিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাই।

প্রশ্ন: বর্তমান রাজনীতিতে ব্যক্তিগত কদর্য আক্রমণ নেমে আসে প্রায়শই। আবার উলটো ছবিও দেখতে পাই। যেমন রাজ্যপালের অনুষ্ঠানে আপনার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্য। আবার বেলেঘাটায় বাম প্রার্থীর পোস্টারের উপর কুণাল ঘোষের পোস্টার লাগানোয় তিনি নিজে গিয়ে সেটা ছিঁড়ে দেন। দল-মত নির্বিশেষে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এ নিয়ে কী বার্তা দেবেন?
উত্তর: সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে, সমাজের স্বাভাবিক নিয়মকানুন অব্যাহত রাখতে, মানুষকে ‘মানুষ’ হিসেবে গ্রহণ করতে, রাজনৈতিক দলের মতবিরোধের সঙ্গে কখনওই ব্যক্তিগত মনুষ্যত্ববোধকে গুলিয়ে ফেললে চলে না।

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Biman Basu

প্রশ্ন: আপনি বোধহয় সেলফি তুলতে পছন্দ করেন না। অথচ আপনার দলেও তো এমন সদস্যরা রয়েছেন, যারা আত্মপ্রচারে ব্যস্ত?
উত্তর: আমি মনে করি, আত্মপ্রচার কারওরই করা উচিত নয়। মানুষ সেটা ভালো চোখে দেখেন না। আমি নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করি না। যে কাজ করতে চেয়েছি, আজীবন তার সঙ্গেই যুক্ত থেকেছি। ছবি তুলতে তো আমার আপত্তি নেই। এসব ব্যক্তিগত অভিরুচির প্রশ্ন।

প্রশ্ন: রাজ্যের শিল্পনীতি কী হবে, কৃষিনীতি কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে কোনও দলই সঠিক করে কিছু বলছে না। সব দলের ইস্তেহারই কমবেশি ধন্দে ফেলছে মানুষকে। এই রাজনীতি কতটা কাম্য?
উত্তর: এ কথা সার্বিক সত্য নয়। আমরা যে ইস্তেহার প্রকাশ করেছি, তাতে বলেছি যে প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যের জন্য স্থায়ী কাজ। প্রত্যেক বেকারকে অন্তত দুটি চাকরির কল দিতে হবে। গরীব মানুষের জন্য শহরে ১২০ দিন, গ্রামে ২০০ দিন কাজের ব্যবস্থা। ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি। পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ। বছর বছর স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি মেনে এসএসসি, সিএসসি, পিএসসি পরীক্ষা গ্রহণ। ভারী ও মাঝারি শিল্প, যা এখানে ছিল কিন্তু চলে গিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে দেশে প্রথম স্থান পুনরুদ্ধার। নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পার্ট তৈরি, প্রতিটি জেলায় শিল্পতালুক। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ন্যুনতম ৭০০ টাকা। সমকাজে সমমজুরি, কর্মরত নারী শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ক্রেশ, তৃতীয় লিং ও কুইয়ার শ্রমিকদের সমকাজে সমমজুরি, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মীর মর্যাদা। এরকম ১৩টা প্রতিশ্রুতি ‘একনজরে’ রাখা হয়েছে। 

প্রশ্ন: প্রার্থীরা জিতে এলে তাঁর কেন্দ্রের জন্য কী করবেন, এসবের থেকে তিনি কী খাচ্ছেন, কী পরছেন তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারের কি আদৌ এতে কোনও আগ্রহ আছে, নাকি এ স্রেফ সময়ের চাহিদা?
উত্তর: স্রেফ সময়ের চাহিদা নয়, বিরাজনীতিকরণের প্রচেষ্টা। কোনও এক চ্যানেলে এক কমেডিয়ান বলেছিলেন, গ্রামের লোকেরা এখন রান্না হওয়ার পর আগেভাগেই খেয়ে নিচ্ছে। কারণ প্রার্থীরা নিজেদের সাধারণ মানুষের কাছের লোক প্রমাণ করার জন্য এসে বসে খেয়ে চলে যাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী সভায় এসে “দিদি, ও দিদি” বলে কথা শুরু করছেন। আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন “মোটাভাই এসে সব করে দিল!” প্রত্যেকের তো নাম আছে! এই সমস্তই রাজনীতিকে নিচু করে দেওয়ার লক্ষণ।

“এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দপ্তর যা করেছে, এর জন্য দায়ী রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি এসআইআর করতে দেব না।’ এ কেমন কথা? ভোটার লিস্টকে স্যানিটাইজ করার কাজ তো আগেও হয়েছে। ২০০২ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ছিল। সে সময় যে এসআইআর হয়েছে, তা কাকপক্ষীও জানতে পারেনি।”

প্রশ্ন: আপনাদের প্রার্থী তালিকায় তামান্নার মায়ের নাম। তিনি আপনাদের নেতৃত্ব, সেলিমদা, মীনাক্ষী— সকলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তামান্নার মা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, অভয়ার মা কেন নয়?
উত্তর: তামান্নার মা মেয়ের মৃত্যুর আগে থেকেই বামপন্থী। তামান্নার বাড়ির লোক রাজনীতি করত বলেই তামান্নাকে খুন করা হয়েছে। তামান্নার মায়ের মতো মহিলা আমি খুব কম দেখেছি। আমি তামান্নার ছবি রেখে দিয়েছি। যে-ফুল ও ভালোবাসত, সেই গাছ আমি লাগিয়ে দিয়ে এসেছি ওর কবরস্থানে। কিন্তু অভয়ার মা রাজনীতি করতেন না। তার জন্য আমি তাঁকে তাচ্ছিল্য করছি না। তিনি প্রবীণা। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী রাজনীতি করছেন। নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। কিন্তু অভয়া ও তামান্নার মায়ের নির্বাচনী ক্ষেত্র এক নয়।

প্রশ্ন: আপনারা বারবার বলেন, বাংলায় আরএসএস-বিজেপির বাড়বাড়ন্তের পিছনে প্রছন্ন মদত তৃণমূলের। আবার তৃণমূলের তরফ থেকে আপনাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ।
উত্তর: এসব বাজে কথা। বিজেপির মন্ত্রীসভায় রেলমন্ত্রী হিসেবে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তখন তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। মুখ্যমন্ত্রীর মা মালপোয়া ভেজেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তা খেয়েছিলেন। তাহলে বিজেপির মন্ত্রীসভার যে-সদস্য বর্তমানে রাজ্যের দায়িত্বে, তিনি বিজেপিকে রাজ্যে ডেকে আনেননি এ কথা বিশ্বাসযোগ্য? সবথেকে বড় কথা, কমরেড জ্যোতি বসু বারবার বলতেন, মমতার সবথেকে বড় দোষ যে ও হাত ধরে বিজেপিকে বাংলায় নিয়ে এসেছে। 

প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে অন্যতম বড় ইস্যু এসআইআর। আপনারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন। গোটা প্রক্রিয়াটিকে কীভাবে দেখেন?
উত্তর: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দপ্তর যা করেছে, এর জন্য দায়ী রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি এসআইআর করতে দেব না।’ এ কেমন কথা? ভোটার লিস্টকে স্যানিটাইজ করার কাজ তো আগেও হয়েছে। ২০০২ সালে যে হয়েছে, এখনও মানুষ সে প্রসঙ্গ তুলছে বলে জানতে পারছেন। সে সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ছিল। এসআইআর হয়েছে, তা কাকপক্ষীও জানতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের দূরদর্শিতার অভাবই বলব। প্রান্তিক নিঃস্ব গরিব মানুষের পক্ষে ডকুমেন্ট রাখার সমস্যা হয়। কিন্তু দেখছি পাসপোর্ট আছে এমন মানুষের নামও ডিলিট হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে। এ তো রাজ্য সরকারের দেখা উচিত। 

প্রশ্ন: বিজেপি প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে তৃণমূল বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়েছে। তাদেরকেই এই পদ্ধতির মাধ্যমে বাদ দেওয়া হবে। তারা বাদ গেলে কি আপনাদেরও সুবিধা নয়?
উত্তর: দ্বিজেন মুখার্জি একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মারা গেলেন, অথচ তার ভোট কেউ দিয়ে আসল। কে দিল? নির্বাচনী কর্মীদেরই তো কাজ তা দেখা।
প্রশ্ন: আপনি এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিক, যিনি রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক মুখ্যমন্ত্রীকেই দেখেছেন। আপনাকে যদি পারফরম্যান্সের নিরিখে তাঁদের একটা তালিকা করতে বলা হয়, প্রথম পাঁচ, আপনি কীভাবে সাজাবেন?
উত্তর: প্রথম পাঁচ বলা মুশকিল হবে। বিধান রায় আর জ্যোতি বসু— দু’জনেই মানুষের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। এই দুইজন ছাড়া আমি আর কাউকে তালিকায় রাখতে পারবো না।
প্রশ্ন: কাঁচা বয়সে আমরা অনেকেই রাজনীতি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। আপনি একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহীরুহ। এখনও কি মনে করেন ভারতবর্ষে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
উত্তর: সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই জাগরূক থাকবে। আমি মারা যাওয়া মানে এই নয় যে দেশে সমাজ বদলের লড়াই বন্ধ হয়ে যাবে। যতদিন না লড়াইয়ে সাফল্য আসবে, লড়াই চলবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.