Advertisement
Advertisement
Dilip Ghosh

বিজেপি জিতলে উপমুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ? সাক্ষাৎকারে সোজাসাপ্টা জবাব ‘দাবাং’ প্রার্থীর

কেউ বলেন খড়্গপুরের ‘মসিহা’! পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ তিনি, এ কথা বললে বোধহয় ভুল হয় না। পুরনো আসনে ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ। লড়াই কতখানি কঠিন হবে? সরাসরি জানাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ।

Advertisement
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:৪৪

link
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:৪৪

options
link
বিজেপি জিতলে উপমুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ? সাক্ষাৎকারে সোজাসাপ্টা জবাব ‘দাবাং’ প্রার্থীর zoom

একাধিকবার জয়ী হয়েছেন খড়্গপুর আসনে। তাই কি এবারের বিধানসভার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে বিজেপির ভরসা ‘দাবাং’ নেতা? সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ছাব্বিশের নির্বাচনে খড়্গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

প্রশ্ন: অনেকদিন পর আবার বিধানসভা নির্বাচনে ফিরেছেন। লড়াই কতখানি কঠিন?
উত্তর: কঠিনকে সহজ করাই রাজনীতি, দিলীপ ঘোষ সেটা করে দেখিয়েছে। সেই কারণেই হয়তো আমাকে আবার খড়্গপুরে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

প্রশ্ন: ২০১৬ সালে সিপিআইএম-কংগ্রেস জোট থাকাকালীন খড়্গপুর আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তিন বছর থাকলেন। তারপর আবার লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতলেন। তিন বছরে মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। আবার ফিরলে আর কী কী কাজ করা বাকি?
উত্তর: বাকি বলে কিছু হয় না, পুরো খড়্গপুরকেই পালটাতে হবে! এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা, শহরের অর্ধেক অংশ রেলের অধীনে এবং অর্ধেক মিউনিসিপ্যালিটির। রেলের এলাকাতেও মিউনিসিপ্যালিটির কাউন্সিলর নির্বাচন হয়, মানুষ ভোট দেন, কিন্তু সেই এলাকায় মিউনিসিপ্যালিটির তেমন কোনও পরিষেবা পৌঁছায় না। এরা কিছু করে, ওরা কিছু করে, শেষ পর্যন্ত কেউই ঠিকমতো কিছু করে না। রেলের এলাকায় রাস্তা তবুও ভালো। কিন্তু মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থা, জল জমা, কাদা, অপরিষ্কার ডাস্টবিন। তাই রেলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। দেশের প্রথম আইআইটি রয়েছে এখানে। এমন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা নগর উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে পারি। কাশীর মতো প্রাচীন শহর যদি প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বদলে যেতে পারে, তাহলে খড়্গপুরে কেন নয়? ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের জন্য এখানে অনেক টাকা এসেছে, কিন্তু সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

“রাজনীতিতে ম্যাজিক বলে কিছু নেই, লড়াই করতে হয়। হ্যাঁ অবশ্যই এমন অনেকে আছেন, যারা জীবনে তেমন কিছু না করেও নাচ-গান করে জিতে যান। আবার পাঁচ বছর পর হাওয়া হয়ে যান। আসলে জিততে হলে কাজ করতে হয়, জনতার সঙ্গে থাকতে হয়।”

প্রশ্ন: আপনার প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। বিজেপির অভিযোগ, তাঁর এলাকাতেও জল জমে। আপনিও তো আগে বিধায়ক ছিলেন, এই সমস্যাগুলির সমাধানে আপনার দিক থেকে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
উত্তর: কিছু ড্রেন তৈরি করেছি, ফুটপাত বানিয়েছি। কিন্তু বিরোধী দলে থেকে একজন বিধায়ক কতটা করতে পারে? তখন পৌরসভায় এই প্রদীপবাবুই চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ডিএম-কে চিঠি লিখে জানালেন, বিধায়কের তহবিল তাদের প্রয়োজন নেই। এখন উনি প্রশ্ন তুলছেন, আমি কী করেছি। আমি বিধায়ক ছিলাম, সাংসদও ছিলাম, তার চাইতেও বড় কথা, গত ১০ বছর ধরে আমি খড়্গপুরের বাসিন্দা। আগামীতেও থাকব। যখন বুঝলাম এরা আমাকে কাজ করতে দেবে না, তখন রেলকে মাধ্যম করে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ওই পাঁচ বছরে একাধিক ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস তৈরি হয়েছে।

খড়্গপুর-মেদিনীপুরের মধ্যে কাঁসাই নদীর উপরের সেতুটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে। সেতুটি রাজ্য সরকারের অধীনে, তারপরেও আমি সেন্ট্রাল পিডব্লিউডির মাধ্যমে ৩০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করিয়েছি, সেটা প্রসেসের মধ্যে আছে। এখানকার হাসপাতাল তো নরক, মৃত্যুপুরী! একটি গ্রামীণ হাসপাতালও রয়েছে। বিধায়ক হওয়ার পর প্রোটোকল অনুযায়ী আমাকে দু’টি হাসপাতালেরই চেয়ারম্যান করা হয়। অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিয়ে জেলার ডিএম-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রশ্ন তুলি। তারপরই দু’মাসের মধ্যে আমাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: আপনার মুখকে সামনে রেখে হিরণ চট্টোপাধ্যায় খড়্গপুরে জয়ী হন। তবে ২০২১-এর পর ২০২৪ সালে আপনি মেদিনীপুর আসন পেলেন না। বরং এমন একটি আসন দেওয়া হল, যেখানে তৃণমূল শক্তিশালী। আপনি হারলেন। কোন ম্যাজিকে দিলীপ ঘোষ ২৬-এ আবার পুরনো আসনে ফিরলেন?
উত্তর: এখানে আমার কোনও ব্যক্তিগত ভূমিকা নেই, পুরোপুরি দলের সিদ্ধান্ত। দল যা নির্দেশ দিয়েছে, আমি সেটাই পালন করেছি। রাজনীতিতে এটাকেই মেনে নিতে হয়।
প্রশ্ন: খড়্গপুর সদর আসনে ভোটে জেতার ম্যাজিক কি এখন আরও সহজ বলে মনে হয়?
উত্তর: রাজনীতিতে ম্যাজিক বলে কিছু নেই, লড়াই করতে হয়। হ্যাঁ অবশ্যই এমন অনেকে আছেন, যারা জীবনে তেমন কিছু না করেও নাচ-গান করে জিতে যান। আবার পাঁচ বছর পর হাওয়া হয়ে যান। আসলে জিততে হলে কাজ করতে হয়, জনতার সঙ্গে থাকতে হয়।

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Dilip Ghosh

প্রশ্ন: দিলীপ ঘোষ এত মুখ খোলেন কেন? প্রার্থী হওয়ার পরেই বলছেন বোমা-গুলির কথা। 
উত্তর: আমি তো খড়্গপুরে এসেই বোমা-গুলি দেখতে শিখলাম। দিনের বেলা সোনার দোকানে গিয়ে বন্দুক ঠেকিয়ে টাকা লুট করা হয়। রাস্তায় ব্যবসায়ীদের ধরে টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। সাধারণ এক ছেলেকে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে। আবার গুন্ডারা পিটিয়ে মেরেছে সিভিক পুলিশকে। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এই ভাষা না বললে নিজেও আউট হয়ে যেত, বিজেপিও এখানে টিকত না!
প্রশ্ন: ২০১৬ সালে আপনার আসার পর অনেক গ্যাংস্টার নাকি ঘরে ঢুকে গিয়েছে!
উত্তর: ওরা নিজেরাই নিজেদের শেষ করে দিয়েছে। কিছুটা শান্ত হয়েছে, তবে পুরোপুরি হয় না। এখানে তৃণমূল ও পুলিশের মদতে গুন্ডা-মাফিয়া তৈরি হয়, তারা টাকা তুলে দেয় ওদের। আমরা সেই সিস্টেম ভাঙতে চাই। 

প্রশ্ন: আপনার ভয় লাগে না? যতই নিরাপত্তা থাক…?
উত্তর: প্রথম নির্বাচনে যখন আমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তখন কোথায় নিরাপত্তা? রাজ্য পুলিশও ছিল না, কেন্দ্রীয় বাহিনীও ছিল না। আমার ওপর একের পর এক আক্রমণ হয়েছে, গাড়ি ভাঙা হয়েছে। তখন দল মনে করল, আমাকে সুরক্ষা দেওয়া দরকার। কারণ আমি নির্ভয়ে যে কোনও জায়গায় ঢুকে পড়তাম। বড় বড় নেতাদের আমাদের দলে এনেছি, বহু দুর্গ ভেঙেছি। আমার উপর শারীরিক হামলাও হয়েছে, কিন্তু আমি দেখাই না। আমি চোখে চোখ রেখে লড়েছি বলেই আজ বিজেপি দাঁড়াতে পেরেছে, এবং অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে। কেউই দিলীপ ঘোষকে দমাতে পারেনি। আমি সবসময় প্রস্তুত আছি।

প্রশ্ন: আপনার মধ্যে কিন্তু সত্যিই একটা ‘দাবাং’ ব্যাপার রয়েছে! আর কিছু হোক না হোক, দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এসেছে মানেই তোড়ফাঁড় করে দেবে! এটা কি আপনার রাজনৈতিক কৌশল?
উত্তর: অবশ্যই, কর্মীদের ভরসা দেওয়ার জন্যই আমি সামনে থাকি। সবসময় বলি, ‘আমি আছি’। কে বলতে পারে এরকম গুলি-বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে? এটাকে যদি কৌশল বলেন, স্টান্ট বলেন, তাহলে তাই। দিলীপ ঘোষের সেই ক্ষমতা আছে। এখানে অনেক নেতা আছেন, যারা কংগ্রেস থেকে এসেছে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলে, আর এখন মাফিয়ার কোলে বসে রয়েছে। 
প্রশ্ন: আপনাকে দেখে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া, হঠাৎ করে আপনার গাড়ির সামনে ভিড় জমিয়ে দেওয়া—উপভোগ করেন, নাকি তেড়ে যান?
উত্তর: উপভোগও করি, তেড়েও যাই। কারণ আমি এগিয়ে না-গেলে, কর্মীরাও সাহস পাবে না। অনেকবার আমার গাড়ি ভাঙা হচ্ছে, আমি নিজেই গাড়ির ভিতর থেকে তার ভিডিও করেছি। রোজ হতে হতে সয়ে গিয়েছে। রোজ যদি বৃষ্টি হয়, আপনি ছাতা নিয়েই তো বেরোবেন। আমার রাজনৈতিক পথচলা এইভাবেই শুরু হয়েছে, এভাবেই চলছে। যতদিন না বাংলায় পরিবর্তন আসছে, এরকমই চলবে।

“আমি কিছু না করলেও খবর হয়ে যাচ্ছি। কেউ আবার আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত হচ্ছে। দিলীপ ঘোষ আছে বলেই মানুষ তাদের চেনে, ইন্টারভিউ নেয়—নইলে কে নিত? লড়াই করাটা আমার স্বভাব। জয়-পরাজয় জনতা ঠিক করবে। আমি কোনও কাজে খামতি দিই না।”

প্রশ্ন: খড়্গপুর আসনে জয় নিয়ে আপনি কতটা নিশ্চিত?
উত্তর: আমি দু’বার জিতেছি। খড়্গপুরের মানুষ বিজেপিকেই জিতিয়েছেন। তবে লুটপাট করে মিউনিসিপ্যালিটিতে তৃণমূল জিতে যায়। এমনিতে কখনওই জিততে পারত না।
প্রশ্ন: আপনার দলেরই কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে, খড়্গপুর আসনের ক্ষেত্রে তৃণমূল নাকি আপনাকে প্রছন্ন মদত দিচ্ছে।
উত্তর: দেখতেই তো পাচ্ছেন, আমি কিছু না করলেও খবর হয়ে যাচ্ছি। কেউ আবার আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত হচ্ছে। লড়াই করাটা আমার স্বভাব। জয়-পরাজয় জনতা ঠিক করবে। আমি কোনও কাজে খামতি দিই না।

প্রশ্ন: তৃণমূল কি প্রছন্নভাবে আপনাকে দলে চান? আপনি কিন্তু সেই নেতা, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরেও জগন্নাথ মন্দিরে আমন্ত্রিত হয়েছেন।
উত্তর: আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন প্রদীপ সরকার। আমি তাকে বন্ধু বলি। উনি চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি বিধায়ক ছিলাম— একসঙ্গে বহু বৈঠকও করেছি। আমার সবসময়ই বক্তব্য ছিল, আমরা দু’জনই যখন সুযোগ পেয়েছি, তাহলে একসঙ্গে এলাকার জন্য কাজ করি। কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য উন্নয়ন নয়। খড়্গপুরের কোনও বাড়িতে ভালো-মন্দ যাই ঘটুক, আমি উপস্থিত থাকি। সময়ে না যেতে পারলে, পরে গিয়ে দেখা করে আসি। মানুষ আমাকে কেন চাইবে না বলতে পারেন?
প্রশ্ন: তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের সময় এলাকায় আপনাকে পাওয়া যায় না।
উত্তর: যাদের চোখ খারাপ, তারাই দিলীপ ঘোষকে দেখতে পায় না। এখানে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে জিগ্যেস করুন দিলীপ ঘোষ কোথায় থাকেন, ওরা বলে দেবে।

প্রশ্ন: দিলীপ ঘোষ নিজের ‘মাছেভাতে বাঙালি’ পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেন, নাকি খড়্গপুরের হিন্দিভাষী জনতার কথাই মাথায় রাখেন বেশি?
উত্তর: এখানে মন্দিরেই শুধু নিরামিষ খাবার হয়। বাকি সবাই আমিষ খায়। ধুমধাড়াক্কা পার্টি হয়! আমি এক সময় মাছ, মাংস, ডিম—সবই খেতাম। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো ছেড়ে দিয়েছিলাম আন্দামানে যাওয়ার পর। এখন আবার মাছ খাওয়া শুরু করেছি, বাঙালি বাড়িতে গেলে খেতেই হয়।
প্রশ্ন: এসআইআর, ভোট কাটাকাটি— নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠছে।
উত্তর: মানুষ ভাবছে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে না। কিন্তু যা করছে, ঠিকই তা জানতে পারবে সময়ে। সর্বত্র হিংসা, ঘেরাও, নির্বাচন কমিশনারকে কালো পতাকা দেখানো, কমিশনারকে আটকানো— এসব চলছে। আমি নিজেও অভ্যস্ত। আমাকে কমপক্ষে ৫০বার কালো পতাকা দেখানো হয়েছে, ‘গো ব্যাক’ বলা হয়েছে, ২০বার গাড়ি ভাঙা হয়েছে। আজ নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, এমনকি সুপ্রিম কোর্টকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। যেখানে বিচারপতিকেই আটকে রাখা হয়, সেখানে বিচারব্যবস্থা কোথায়? সংবিধানই বা কোথায়?

প্রশ্ন: ভোট তো এসেই গেল। এভাবে যদি অভিযোগ-পালটা অভিযোগ চলতেই থাকে, ভোট ঠিকমতো হবে?
উত্তর: ২০১১ সালে তৃণমূল জয়ের পর বলেছিল, সেন্ট্রাল ফোর্স চাই, রাষ্ট্রপতি শাসন চাই! তখন সিপিআইএম তো আরও বড় মাপের মাফিয়া ছিল! মানুষ তাদের বাতিল করেছে। নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ করুক, সাধারণ মানুষ নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
প্রশ্ন: পরবর্তী টার্গেট কী?
উত্তর: টার্গেট একটাই। আমি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি না, লড়ছি তৃণমূলের গুন্ডাগিরি, মাফিয়াগিরি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে। কারণ আমরা পরিবর্তন চাই। বাংলায় পরিবর্তন দরকার।
প্রশ্ন: কোন জীবনটা বেশি উপভোগ করেন? বিয়ের আগের নাকি পরের?
উত্তর: জীবনের সবটুকুই উপভোগ করি। এমএলএ, এমপি-র পদ সামলানোর পরেও একটা সামান্য সিঙ্গল খাটে শুয়ে জীবন কাটিয়ে দিই। মানুষের বাড়িতে থাকি প্রয়োজনে, পার্টি অফিসেও থাকতে পারি। আজও আমার ব্যাগে গামছা রাখা থাকে। তেমন পরিস্থিতি হলে, রাস্তায় কলের নিচে স্নান করে নিতে পারি।

প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী বলবেন?
উত্তর: সময় হয়ে এসেছে। ১৫ বছর চেষ্টা করেছেন, অসফল হয়েছেন। এবার ভালোয় ভালোয় বিদায় নিন। শরীর ভালো রাখুন, ভালো কাজ করুন।
প্রশ্ন: শোনা গিয়েছে, বিজেপি জিতলে আপনি উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন।
উত্তর: কে এসব ঠিক করছে, আমার জানা নেই। নানা সময় এমন রটনা শোনা যায়। আমি নিজেকে পার্টিকর্মী মনে করি। দল যা বলে দেবে, তাই করব।
প্রশ্ন: আপনার ফিটনেসের রহস্য কী?
উত্তর: আমি সবসময়ই ফিট থাকার চেষ্টা করি। সারা জীবন সমাজের জন্য কাজ করেছি। নিজেকে ঠিক রাখার দায়িত্ব আমারই। কেউ নেই আমার সঙ্গে। একদিন এমনভাবেই চলে যাবো!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.