‘মতুয়াগড়’ বাগদার উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। ঠাকুরবাড়ির নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে পা রাখেন রাজনীতিতে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও বাগদা আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তিনিই। বিপক্ষে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর, যিনি সম্পর্কে মধুপর্ণার বউদি। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মধুপর্ণা ঠাকুর (Madhuparna Thakur)।
প্রশ্ন: বয়সে আপনি অনেকটাই ছোট। রাজনীতিতে প্রচণ্ড কাদা ছোড়াছুড়ি, ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়। কীভাবে সামলাচ্ছেন?
উত্তর: উপনির্বাচনে জয়ী হই। প্রথমদিন থেকে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল কর্মীদের সাপোর্ট পাচ্ছি। কোথাও ভুল করলে, মানুষ সেটাও বুঝিয়ে দেয়।
প্রশ্ন: বাগদা বিধানসভায় প্রায় ৩ লক্ষ ভোটার রয়েছে। এসআইআর কতটা কার্যকর হচ্ছে এখানে? আপনার জয়ের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে?
উত্তর: এসআইআর শুধু বিজেপি সরকারের কথায় হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের ধরার জন্য। কিন্তু আমরা যখন তালিকা দেখি, জানতে পারি প্রচুর মতুয়া-নমঃশূদ্রর নাম বাদ পড়েছে। আমিও মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ঠাকুরবাড়ির মেয়ে। বিজেপি-তৃণমূল-কংগ্রেস— সব দলেই মতুয়া সমর্থক আছে, তাদের ক্ষতি হয়েছে। বিজেপি সরকার কেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে খেলছে, সেটাই প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: এ বছর বাগদা বিধানসভায় আপনার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী সম্পর্কে আপনার বউদি হন। বাড়িও একেবারে কাছেই। এই ননদ-বউদি লড়াই কি সহজ? নাকি তাঁকে প্রতিপক্ষ মনে করা কঠিন হয়ে পড়ছে?
উত্তর: সত্যি বলতে, লড়াইটা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। তবে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সেসবের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমি দেড় বছর ধরে এই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলাম, এলাকা আমার চেনা। তাই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কে দাঁড়াল, তা দেখার দরকার নেই।
“আমার দ্রুত হাঁটার ভঙ্গি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেই রপ্ত করা। উনি অত্যন্ত সংগ্রাম করেছেন জীবনে। আজ আমিও ওঁর দলেরই অংশ। ওঁকে দেখেই মানসিকভাবে এতখানি শক্ত হয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করতে পেরেছি। ওঁর আশীর্বাদ ও আস্থা আমার এগিয়ে চলার মূল অনুপ্রেরণা।”
প্রশ্ন: প্রচারে আপনারা এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ আক্রমণ করছে। আপনাদের কি আরও জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা উচিত? এই আসনে বিজেপিই কি প্রধান প্রতিপক্ষ?
উত্তর: আমি বিজেপি নিয়ে কোনও কথা বলবই না। নিজের দল নিয়ে বলতে চাই। কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াব, সে নিয়েই ভাবছি। মানুষ আমাকে দেখেছে এতদিন। জবাব ভোটবাক্সে মানুষই দেবে। বিজেপি-সিপিআইএম-কংগ্রেস কী করছে, তা একেবারেই আমার মাথাব্যথা নয়।
প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আপনিও জোরে হাঁটেন। এই ঘরানা কি তাঁর থেকে শেখা? জনসংযোগের সচেতন কৌশল?
উত্তর: আমরা প্রথম থেকেই ডোর-টু-ডোর প্রচারে জোর দিচ্ছি। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে এই হাঁটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেই রপ্ত করা। উনি অত্যন্ত সংগ্রাম করেছেন জীবনে। আজ আমিও ওঁর দলেরই অংশ। ওঁকে দেখেই মানসিকভাবে এতখানি শক্ত হয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করতে পেরেছি। ওঁর আশীর্বাদ ও আস্থা আমার এগিয়ে চলার মূল অনুপ্রেরণা।

প্রশ্ন: এখানে তোলাবাজি, হিংসা, সন্ত্রাসের সম্ভাবনা অনেকখানি বেশি। ফলে বিধায়কের কাজ এমনিতেই কঠিন হয়ে যায়। কীভাবে এই এলাকা সামলাচ্ছেন? আর আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে, আপনার মূল লক্ষ্য কী হবে?
উত্তর: বাগদা বিধানসভা মূলত নদীকেন্দ্রিক ও কৃষিনির্ভর এলাকা। গত দেড় বছরে, সময় খুবই কম পাওয়ায় কৃষির বিষয়টিতে বেশি কিছু করতে পারিনি। আবার সুযোগ পেলে, আমি কৃষকদের জন্য কাজ করতে চাই। নদীতে কয়েকটি ব্রিজ গড়ে তোলার অনুমোদন দিয়েছি। সেগুলোর কাজ এখনও আটকে আছে, তা পুনরায় চালু করতে চাই। এছাড়া রাস্তা, আলো- যা-কিছু চাহিদা সাধারণ মানুষের থাকতে পারে, তা পূরণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
“তৃণমূল কংগ্রেসে লবিবাজি আছে, মনে করি না। আমি নিজেকে একজন এমএলএ নয়, বরং সাধারণ কর্মী হিসেবেই দেখি। অন্যান্য তৃণমূল কর্মীরা আমাকে খুব ভালোবাসেন, সমর্থন করেন, নিজের মেয়ের মতো মনে করেন।”
প্রশ্ন: কখনও কি ভয় করে? এমন মনে হয় যে বয়সে ছোট হওয়ার কারণে আপনি এখনও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল? কাজ কীভাবে করা উচিত, তা বড়রাই বলে দিচ্ছেন। নাকি গত দেড় বছর বিধায়ক পদে থাকাকালীন এমন সমস্ত ভয় কেটে গিয়েছে? প্রথম নির্বাচনের থেকে এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কতটা আলাদা?
উত্তর: সত্যি বলতে, কখনওই এমন বলব না যে তৃণমূল কংগ্রেসে লবিবাজি আছে। আমি নিজেকে একজন এমএলএ নয়, বরং সাধারণ কর্মী হিসেবেই দেখি। অন্যান্য তৃণমূল কর্মীরা আমাকে খুব ভালোবাসেন, সমর্থন করেন, নিজের মেয়ের মতো মনে করেন। আমি সবসময় একই কথা বলি যে, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। যদি আমার কাজে ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়, বুঝিয়ে দেবেন। দেড় বছরে অনেক কিছু শিখেছি, এর আগে তো ‘জিরো’ ছিলাম। আসলে পরিস্থিতিই মানুষকে গড়ে নেয়। এখন শুধু জয়ের অপেক্ষা। ৪ঠা মে-তে সকলেই জেনে যাবেন যে, আমি আবারও বিধায়ক হচ্ছি।
প্রশ্ন: মতুয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে কি বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে? আপনি তো তাঁদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এসআইআরে তাদের নাম কাটা যাচ্ছে, মানুষকে ট্রাইব্যুনালের দারস্থ হতে হচ্ছে। কী বলবেন?
উত্তর: অবশ্যই, আমার মা, মমতা ঠাকুর, রাজ্যসভার সাংসদ এবং সংঘাধিপতি। তিনি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে ঠাকুরবাড়িতে ধর্ণা রেখেছিলেন। অনেক বৈধ ভোটারেরও নাম কাটা পড়েছে এসআইআর-এ, অথচ তাদের কাছে সমস্ত নথি রয়েছে। আমাদের দাবি একটাই, নিঃস্বার্থ নাগরিকত্ব চাই। কেন এই সাধারণ অধিকার দেওয়ার পিছনে এত স্বার্থ দেখতে হবে? মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সবসময় সাপোর্ট করেছেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে এই এলাকায়। নতুন রাস্তা নির্মাণ, আলোর ব্যবস্থা, কামনাসাগরের পুকুরে ঘাট বাঁধানো হয়েছে। আমি এবং আমার মতো মতুয়া সমাজের সকল মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখি। আমরা যাতে সুস্থভাবে বাংলার বুকে থাকতে পারি, তা তিনি বরাবর সুনিশ্চিত করেছেন।
নিবেদিত


