সন্দেশখালি আন্দোলনের প্রধান মুখ তিনি। স্পষ্টবক্তা। তাঁর রাজনৈতিক উত্থান নজরকাড়া। বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি অবিচল। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিধানসভা নির্বাচনে হিঙ্গলগঞ্জের সেই বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র (Rekha Patra)।
প্রশ্ন: সন্দেশখালি থেকে এসে হিঙ্গলগঞ্জের লড়াই কতখানি কঠিন বলে মনে হচ্ছে?
উত্তর: হিঙ্গলগঞ্জ হোক বা সন্দেশখালি- আমাদের আসল লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। অন্যায়-দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দিই না। মানুষ চেয়েও একাধিকবার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পায় না। সেখানে দল আমাকে না চাইতেই হিঙ্গলগঞ্জের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জবাসীর জন্য মরণপণ লড়াই করব। সন্দেশখালি আমার জন্মস্থান ও বাসস্থান। সেখানে আমার পরিবার-পরিজন আছে। ফলে আমার লড়াই সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জ- দুই জায়গার জন্যই। আমি মনে করি, হিঙ্গলগঞ্জ আমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: তৃণমূলের দাবি, সন্দেশখালিতে আপনি হেরে যাবেন জেনেই দলের এই নিরাপদ আসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। কী বলবেন?
উত্তর: সন্দেশখালি একটি তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত আসন। সেখানে অন্য কোনও জাতিগত পরিচয়ের প্রার্থী, এমনকী শিডিউল কাস্ট প্রার্থীও লড়তে পারে না। যাঁরা অপপ্রচার করছেন, তাঁরা সম্ভবত এই সাধারণ নিয়মটি জানেন না। তৃণমূলের চরিত্রই হল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে যে ওরা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে, তা নিজেরাও বুঝতে পারছে। তাই মরিয়া হয়ে অপপ্রচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। খেয়াল করছে না যে তাতে অর্ধেক কথা ভুল বলা হয়ে যাচ্ছে!
“তৃণমূল শক্তিশালী হয়েছে কেবল দুর্নীতি করে। মানুষের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে। এছাড়া তৃণমূলের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক সমর্থন আমার অন্তত চোখে পড়ছে না। সাধারণ মানুষ চরম অসহায়ত্বের মধ্যে আছে।”
প্রশ্ন: হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলে আপনার প্রাথমিক কাজ কী কী হবে?
উত্তর: সন্দেশখালি থেকেই আমার লড়াই শুরু নারী সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে। হিঙ্গলগঞ্জে জিতলেও নারী সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেব। ২০০৯ সাল থেকে হাসনাবাদ রেললাইনের কাজ আটকে রেখেছে তৃণমূল সরকার। আমরা চাই এই রেললাইন স্বরূপনগর বর্ডার এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাক। আমাদের ডবল ইঞ্জিন সরকার এলেই তা করে দেখাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গ্রামের মানুষকে হাজারও শারীরিক সমস্যা নিয়ে, বড় কষ্ট করে শহরে ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়। এখানে রাস্তাঘাটের দুর্দশা নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। রেললাইন প্রতিষ্ঠার পর আমি দুলদুলি-লেবুখালির উপর ব্রিজ নির্মাণে জোর দেব। এই প্রাথমিক চাহিদাগুলো মিটলে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য-শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেব। নদীবাঁধ সংস্কার তো থাকছেই। আমি চাই, হিঙ্গলগঞ্জের যুবক-যুবতীরাও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক। চাকরি করুক, নিজের বিধানসভা এলেকার মধ্যে থেকেই।
প্রশ্ন: এখান থেকে বহু মানুষ ভারতের নানা প্রান্তে কাজের জন্য যান। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রী ভাতা চালু করেছেন। তাঁদের জন্য আপনারা স্পেশাল কিছু ভেবেছেন?
উত্তর: আমি নিজেও এক সময় পরিযায়ী শ্রমিক ছিলাম। হয়তো আজ দল আমাকে সুযোগ দিয়েছে বলে পার্টির হয়ে কাজ করতে পারছি। তা বলে বড় নেতা হয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন আমি ভুলে গিয়েছি, তা নয়। আমি আজও সন্দেশখালির সেই দরিদ্র পরিবারের মেয়েই আছি। সাধারণ গৃহবধূ আছি। সন্দেশখালির মায়েদের গড়ে তোলা আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে আছি। আগামী দিনেও তাই থাকতে চাই।
প্রশ্ন: বিরোধীরা বলছেন, বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার পর খ্যাতি আপনাকে বদলে দিয়েছে। আপনি অহংকারী হয়েছেন। আপনার প্রতিবেশী, সতীর্থদের অনেকেরও একই অভিযোগ।
উত্তর: মানুষের চাহিদা অনন্ত। আপনি যতই দিয়ে যান না কেন, তাদের প্রত্যাশা বেড়েই যাবে। আমার যতটুকু সামর্থ্য, তার বাইরে কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে কেউ যদি আমাকে অহংকারী ভাবেন, আমার কিছু করার নেই। আমি হাত জোড় করে তাঁদের জানাতে চাই যে, ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আমি একেবারেই একইরকম রয়েছি। এখানকার মানুষ যদি চান, যেমনভাবে চান, তেমনভাবেই আমি তাঁদের হয়ে কাজ করতে চাই।
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে, রেখা পাত্র প্রার্থী হয়েছেন, এটা নিয়ে আপনার দলের অন্দরেই চাপা ক্ষোভ রয়েছে, ফলে আপনি প্রয়োজনে সাহায্য পাচ্ছেন না?
উত্তর: আমার দলের কারও কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ সরাসরি আমার কাছে এখনও আসেনি।
প্রশ্ন: তৃণমূল এখানে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?
উত্তর: তৃণমূল শক্তিশালী হয়েছে কেবল দুর্নীতি করে। মানুষের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে। সাধারণ মানুষ চরম অসহায়ত্বের মধ্যে আছে।

প্রশ্ন: আপনি একাধিকবার দাবি করেছেন, শেখ শাহজাহান সন্দেশখালিতে ফিরলে আবারও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হবে। আপনি কি এখনও এই অবস্থানে অনড়? আপনি কি নিরাপত্তার খাতিরেই কলকাতায় থাকছেন?
উত্তর: শুধু আমি নই, সন্দেশখালির প্রতিটি মা, প্রতিটি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে, আমি হিঙ্গলগঞ্জে জিতলে আমার প্রথম পদক্ষেপ হবে, শেখ শাহজাহানের ফাঁসির আবেদন জানানো। ওর মতো দুর্নীতিবাজ ক্রিমিনাল যদি আবার বাইরে আসে, তবে কখনওই মানুষকে ছেড়ে দেবে না। নিজের অপরাধের জন্য যে সেন্ট্রাল জেলে রয়েছে, তার বডি ল্যাঙ্গুজেয়ে কী ভীষণ ঔধত্য! সন্দেশখালির মানুষ আন্দোলনে আমার সঙ্গ দিয়েছিলেন। তাঁদের রক্ষা করা আমার কর্তব্য।
প্রশ্ন: কখনও কি মনে হয় যে, সন্দেশখালি আন্দোলনের প্রধান মুখ না হয়ে উঠলে নির্বিঘ্নে সাদাসিধে জীবন কাটাতে পারতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, আমার আগের জীবনটাই সুন্দর ছিল। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতীর অত্যাচারে তা নরক হয়ে উঠেছিল। তাই এই লড়াই শুরু করতে বাধ্য হয়েছি। কেন্দ্র হয়তো অনুমান করেছে আমার প্রাণ সংশয় রয়েছে। তাই আমার জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি কি শেখ সাজাহানের বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করছেন? সে কারণেই রাতে সন্দেশখালিতে থাকা হয় না আপনার?
উত্তর: আমি জানি যে সন্দেশখালির মায়েদের সঙ্গে যে অত্যাচার হয়েছে, তারপরেও যদি আমরা তৃণমূল সরকারের সঙ্গ দিতাম, যদি আমি তৃণমূলের প্রার্থী হতাম, তাহলে এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হত না। বিজেপির প্রতিনিধি হয়েছি বলে, অধিকারের লড়াই করার সুযোগ পেয়েছি বলেই এত সমস্যা। কেবল তো আমাদের নয়, এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদেরকেও তৃণমূল ক্রমাগত ব্যবহার করে গিয়েছে। আজ সেই সম্প্রদায়ের ভুল ভেঙেছে। তারা আজ আমার লড়াইয়ে সঙ্গ দিতে চাইছে। আমার এই সংগ্রামকে কুর্নিশ জানাচ্ছে।
প্রশ্ন: স্বামী-সন্তান নিয়ে ভরা সংসার আপনার। এই যে কঠিন লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন, কখনও ভয় করে না?
উত্তর: নিজের জন্য ভয় করে না। আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তারপর যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতাম, সেটাই বরং অনুচিত হত। এখন মনে হয়, এই লড়াইতে যদি প্রাণও হারাই, আক্ষেপ হবে না। কেবল আমার একার সন্তানরা তো নয়, হিঙ্গলগঞ্জের বাড়িতে বাড়িতেই শিশুরা রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের সন্তানরাও রয়েছে এই পরিবেশেই। সংগ্রাম থামিয়ে দিলে তারাও জানবে যে এখানে সম্মানের কোনও মূল্য নেই।
“মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করছেন যে আমরা নাকি ‘গুদাম-পচা!’ মুখ ঢেকে প্রতিবাদ করেছি বলে বলা হল, বিজেপি নাকি ভাড়া করে নিয়ে এসেছে আমাদের। সেই অবস্থায় যখন মানুষের জন্য লড়াই করতে পেরেছি, সব অবস্থাতেই পারবো। অন্য কে আমার সঙ্গে থাকল বা থাকল না, তাতে আমার যায়-আসে না।”
প্রশ্ন: তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সন্দেশখালির পিঠে বানানোর ঘটনা আদতে ভিত্তিহীন। নির্বাচনে সুবিধা পেতেই আপনারা নাটকীয়ভাবে ওই কাহিনি সাজিয়েছিলেন। আপনারাও কি সত্যিই এমন কোনও নাটকে ব্যবহৃত হয়েছিলেন?
উত্তর: ব্যবহৃত হয়েছি নিঃসন্দেহে, তবে তা করেছে মিথ্যাচারী তৃণমূল সরকার। আমরা কেউ পরের বাড়িতে কাজ করি, কেউ মাঠেঘাটে চাষবাস করি। আমাদের নানা মিথ্যে বলে তৃণমূল ব্যবহার করেছে। এমনকী প্রাথমিকভাবে অসম্মানিত হওয়ার কথা বাড়ির লোক, একান্ত আপনার জনদেরকেও খুলে বলতে পারিনি। গ্রামের অনেক পরিবারই চান না, নিগৃহীত হয়েছে এমন কোনও মহিলাকে পরিবারে রেখে পরিবারের সম্মানহানি করতে। বিজেপি আমাকে টিকিট দিয়ে লড়াইয়ের সুযোগ করে দিয়েছিল। আমি তো জিতেই গিয়েছিলাম। তৃণমূল সরকার পরিকল্পনা করে আমাকে হারিয়েছে। আমার বিপক্ষে থাকা তৃণমূল প্রার্থী হাজী নুরুল ইসলাম মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছেন, ‘আমি হেরে গিয়েছি, রেখা পাত্র জিতে গিয়েছে’! গুজবের কোনও প্রশ্নই নেই। সন্দেশখালির বহু নারী নিগৃহীত হয়েছিল। কিন্তু যারা তৃণমূলকে বেছে নিল, তাদের ওরা টাকা-পয়সা দিয়েছে। এভাবে তো সকলকে নিজেদের পক্ষে কথা বলিয়ে নেওয়া যায় না। আমার হৃদয়ে আজও সন্দেশখালির আঘাত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং জেলাস্তরের নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কাউকে নেতা বলে আমরা মানি না। এঁরাই আমাদের ভালো চেয়ে, পাশে এসেছেন। যে গৃহবধূ সারা বছর বাড়ির বাইরে পা রাখে না, রাতে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর ভয়ে বেরতেই পারে না, তার নামেও ওরা মিথ্যে অভিযোগ এনেছে। আমার নামেও মিথ্যে অভিযোগ লাগাতে কসুর করেনি। আর এই অবস্থায় আমাদের পক্ষে পদক্ষেপ করা তো দূরের কথা, মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করছেন যে আমরা নাকি ‘গুদাম-পচা!’ মুখ ঢেকে প্রতিবাদ করেছি বলে বলা হল, বিজেপি নাকি ভাড়া করে নিয়ে এসেছে আমাদের। দেশ জুড়ে বহু মানুষ আমার এই সংগ্রামকে সমর্থন করেন, আমি জানি।
প্রশ্ন: আপনার প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল নাকি বাম?
উত্তর: প্রথমেই তৃণমূল, তারপর বাম। সত্যি বলতে বামেরাও এমন কিছু ভালো করে যায়নি মানুষের জন্য। আমরা হয়তো ছোট ছিলাম। কিন্তু পরিবারের বড়দের কাছ থেকেই শুনেছি ওদের কুকীর্তির কথা। এরপর ২০১১ থেকে তৃণমূল সরকারের অত্যাচার দেখতে শুরু করলাম। তৃণমূল কর্মী দেবেশ মণ্ডল হিঙ্গলগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক। তিনি এক হিন্দু, সমাজে সম্মানীয় ব্যক্তি। কোনও কুরুচিকর মন্তব্য আমি তাঁর সম্পর্কে করতে পারি না। তবে আমার ধারণা, হয়তো তাৎক্ষনিক চাপে পড়ে তিনি ওই দলের সঙ্গ দিচ্ছেন। তৃণমূল যে বরাবরই মানুষকে ব্যবহার করে যায়, তা এক সময় বুঝতে পারবেন আশা রাখি। কী করলে ওদের আধিপত্য বিস্তার হবে, তা নিয়েই কেবল চিন্তিত ওরা। ওরা সত্যি শুভাকাঙ্ক্ষী হলে হিঙ্গলগঞ্জের এত দুরবস্থা হত না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দিল্লিতে ফের বিক্ষোভে ‘ককরোচ’, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে অনড়, শাহের পুলিশের সঙ্গে ‘সংঘাতে’ অভিজিৎ
-
হাওড়ার ‘জলছবি’ বদলাতে বড় পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের, ময়দানে নামলেন খোদ মন্ত্রী-বিধায়ক
-
গ্রন্থাগার মন্ত্রীকে নিয়ে তৃণমূলের মিথ্যাচার! চেয়ার বিতর্কে কী বললেন গৌরীশংকর
-
বাড়িতে ওয়াই-ফাই লাগিয়েও স্পিড নেই? এই উপায়ে রকেটের গতিতে ছুটবে ইন্টারনেট
-
‘বঙ্গেই প্রথম বন্দে মাতরম ধ্বনি…’, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে শুভেন্দুকে বাংলায় চিঠি মোদির
নিবেদিত


