ব্যাপক কড়াকড়ির মাঝেই মার্কিন মুলুকে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে ভারতীয়ের সংখ্যা। রিপোর্ট বলছে, গত ২০ বছরে আমেরিকায় ৫০টির বেশি এলাকায় গড়ে উঠেছে ভারতীয় কলোনি। যাকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলেন সেখানকার অধিবাসীরা। অনুমান করা হচ্ছে, আগামী ৫ বছরে এই বসতির সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৭৫টি। অর্থাৎ ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের কড়াকড়ির মাঝেই ভারতীয়দের মার্কিন সফর ও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ঘটনা বেড়েই চলেছে। পুরো আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়ের বাস ক্যালিফোর্নিয়াতে। প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ ভারতীয় এখানে বসবাস করেন।
মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের বসবাস সংক্রান্ত যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং ঔষধশিল্পের মতো ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগের জেরে আমেরিকায় ভারতীয়ের সংখ্যা বাড়ছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকায় তৈরি হওয়া এইসব মিনি ইন্ডিয়াতে ভারতীয় পরিবারগুলির গড় বার্ষিক আয় আমেরিকানদের তুলনায় অনেক বেশি। মার্কিন পরিবারগুলির গড় আয় যেখানে বার্ষিক ৮০ লক্ষ টাকা, সেখানে ভারতীয় পরিবারগুলির আয় ১.৫৪ কোটি টাকা। আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী বছরগুলিতে এই ব্যবধান আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়ের বাস ক্যালিফোর্নিয়াতে। ৯.৩ লক্ষ ভারতীয় এখানে বাস করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়ের বাস ক্যালিফোর্নিয়াতে। ৯.৩ লক্ষ ভারতীয় এখানে বাস করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস। এখানে ৫.৪ লক্ষ ভারতীয় থাকেন। ফ্রিস্কোর মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ২৫ বছর আগে টেক্সাসের ফ্রিসকো শহর ছিল মূলত কৃষিক্ষেত্র। বর্তমানে এখানকার জনসংখ্যা আড়াই লক্ষের বেশি। নিকটবর্তী শহর প্লানো ও অ্যালেনেও ভারতীয় মন্দির, রেস্তোরাঁ ও দোকানের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন এবং সান রামোন এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ। ডাবলিনের স্কুলগুলিতে ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে ভারতীয়দের ব্যাপক দাপট রয়েছে। বর্তমানে সিলিকন ভ্যালির প্রায় ৩৫ শতাংশ স্টার্টআপের অন্তত একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ভারতীয়দের এই যাত্রা প্রায় ২৫ বছর আগে শুরু হয়েছিল, এখন তা আরও বেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতীয়দের এই দাপট আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলগুলিতেও নতুন ‘মিনি ইন্ডিয়া’ গড়ে তুলবে। মার্কিন অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে ভারতীয়রা। যা অন্য যে কোনও প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভিসার খরচ বাড়ানো ও কঠোর নিয়ম আনা হলেও, তার বিশেষ প্রভাব ভারতীয়দের উপর পড়েনি বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগে কঠোর ডায়েট, স্বাদ বদলাতে বানিয়ে ফেলুন কম ক্যালোরির চকোলেট ব্রাউনি
-
কোচবিহার থেকে বর্ধমান, রাজ্যের ৬ সড়কপথ উন্নয়নে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৩ কোটি! কেন্দ্রকে ‘ধন্যবাদ’ শুভেন্দুর
-
ব্রিকসে তারেককে আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত? বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলল নয়াদিল্লি
-
ভারতীয় ক্রিকেটকে বাঁচাতে সৌরভ-শচীন-দ্রাবিড়দের নিয়ে কমিটি হোক, বোর্ডকে পরামর্শ গাভাসকরের
-
ফ্রিজে হঠাৎ বিস্ফোরণে মৃত ৪! ঘরে আগুন লেগে ঝলসে গেলেন আরও ২