২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জঙ্গি শনাক্তকরণে সুবিধার জন্য বোরখা নিষিদ্ধ শ্রীলঙ্কায়, সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: April 29, 2019 7:02 pm|    Updated: April 29, 2019 7:02 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কোনও বোরখা নয়৷ পথেঘাটে বেরোলে আর বোরখা ব্যবহার করতে পারবেন না সিংহলি মহিলারা৷ গত সপ্তাহের ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার পর সোমবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হল৷ জরুরি অবস্থা চলাকালীন বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একথা ঘোষণা করলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা৷ প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে বোরখার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ মুখ ঢেকে প্রশাসনের পক্ষে নাগরিকদের শনাক্ত করার কাজ কঠিন করে দেবেন না৷’

[ আরও পড়ুন : গুগলের ক্যাম্পাসে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ক্রেন, মৃত ৪]

শ্রীলঙ্কায় দ্বিতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিম৷ গোটা জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ৷ খ্রিস্টানদের সংখ্যা তুলনায় কম, ৭ শতাংশ৷ গত সপ্তাহে ইস্টার সানডে কলম্বোয় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, প্রাণহানির নেপথ্যে ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর মদত থাকার তথ্য উঠে আসার পর সন্দেহ গিয়ে পড়েছে সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর৷ সাধারণত মুসলিম মহিলারা পথেঘাটে বেরোন বোরখায় মুখ ঢেকে৷ কিন্তু শ্রীলঙ্কা প্রশাসন মনে করছে তাতে মুখ দেখে কাউকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে৷ যা এই সন্ত্রাস পরবর্তী দেশে তদন্তের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে৷

[ আরও পড়ুন : প্রথমবার হিন্দু বাবা ও মুসলিম মায়ের সন্তানকে জন্মের শংসাপত্র দিল আরব আমিরশাহী]

ইস্টার সানডেতে কলম্বোর তিনটি গির্জা এবং হোটেলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে৷ তদন্তে উঠে এসেছে আইএস প্রভাবিত স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের নাম৷ ৯ জন আত্মঘাতী জঙ্গির প্রত্যেকেই এই গোষ্ঠীর সদস্য৷ বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত ১০৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে রয়েছে এক তামিল শিক্ষক এবং স্কুলের প্রিন্সিপাল৷ তদন্ত প্রক্রিয়া এগোতে এঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তদন্তকারীদের সন্দেহ, বোরখার ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে কোনও পুরুষও মহিলা সেজে এধরনের নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকতে পারে৷ সেক্ষেত্রে শনাক্ত করার কাজ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা৷ তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত৷ কিন্তু শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে প্রশ্নও উঠছে৷ জঙ্গি শনাক্ত করার জন্য কোনও সম্প্রদায়ের ব্যবহারিক রীতিকে এভাবে আঘাত করা কতটা যুক্তিপূর্ণ? প্রশ্ন আরও, বোরখা নিষিদ্ধ করেই কি জঙ্গিদমন সম্ভব?  এর আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম-সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে মহিলাদের বোরখা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পিছনে এরকম কোনও কারণ ছিল না৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement