Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
ইমাম, শান্তি

নতুন সরকার সম্প্রীতি বজায়ে জোর দিক, প্রার্থনা আসানসোলের পুত্রহারা ইমামের

সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে পুত্রকে হারিয়েও সম্প্রীতিতেই ভরসা রাখছেন ইমাম রশিদি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৯, ১৫:৫৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৯, ১৫:৫৯

options
link
নতুন সরকার সম্প্রীতি বজায়ে জোর দিক, প্রার্থনা আসানসোলের পুত্রহারা ইমামের zoom

শুভময় মণ্ডল: সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে নাবালক পুত্রকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন তিনি৷ তবু, পুত্রশোক তাঁকে ইসলামের স্বরূপ থেকে বিচ্যুত করেনি৷ মর্মান্তিক বেদনা বুকে চেপে শুনিয়েছেন শান্তির বার্তা৷ আজ যখন নির্বাচনী অশান্তির আশঙ্কা আরও একবার দেখা দিয়েছে বাংলায়, তখনও সেই অহিংসাকেই পাথেয় করছেন আপন আদর্শে নিষ্ঠ মানুষটি৷ তিনি মহম্মদ ইমদাদউল্লাহ রশিদি৷ আসানসোলের নূরানি মসজিদের ইমাম৷ রশিদি বলছেন, দেশজুড়ে ঘৃণার বাতাবরণ দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে৷ ধর্মে-ধর্মে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যের অভাব প্রকট হচ্ছে৷ প্রেমের আবহ ছড়িয়ে পড়ুক দেশে, শান্তিতে থাকুন দেশবাসী৷

                                  [ আরও পড়ুন : টেলিভিশনে বিতর্কের রেশ, বিজেপির উপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কর্মী

বছর খানেক আগে রামনবমীর মিছিল ঘিরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল ইমামের নাবালক ছেলে মহম্মদ শিবঘাতুল্লার৷ নিতান্তই দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে নিহত হয় বছর ষোলর ছেলেটি৷ এমন ঘটনায় স্বভাবতই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা উসকে ওঠে৷ রে রে করে তারাও পালটা আক্রমণের পথে হাঁটতে চান৷ কিন্তু রুখে দাঁড়ান সদ্য পুত্রহারা ইমাম রশিদি৷ এমন সংকটকালেও একা গলা তুলে কার্যত নির্দেশ দেন, ‘কোনও প্রতিশোধের পথে হাঁটবে না কেউ৷ এই মুহূর্তে এলাকায় শান্তি বজায় রাখা জরুরি৷’ একমাত্র ইমামের কথায় সেদিনের মতো বড়সড় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল আসানসোল। শুধু আসানসোল নয়, বলা ভাল গোটা বাংলাই৷ আর ওই পরিস্থিতিতে একেবারে ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ইমাম ইমদাদউল্লাহ রশিদি৷

Advertisement

সেই ঘটনার পর এক বছর কেটে গিয়েছে৷ আসানসোল তথা রাজ্যের পরিস্থিতি পালটেছে অনেক৷ এসে গিয়েছে লোকসভা নির্বাচন৷ এই সময় দাঁড়িয়েও ইমাম তাঁর আদর্শে মেরুদণ্ড ঋজু রেখে দিয়ে চলেছেন শান্তির বার্তা৷ বলছেন, ‘যা হয়ে গেছে, তা ভুলে যেতে হবে৷ নতুন করে জীবন শুরু হয়েছে৷ সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই পারস্পরিক ভালবাসা, আস্থার জায়গা থাকা উচিৎ৷ সব ধর্ম তার নিজের ভাল দিকগুলি ছড়িয়ে দিক৷ এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের ভালবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হোক৷’ কথায় কথায় জানা গেল, তিনি ছেলে শিবঘাতুল্লার নামে একটি স্কুল খুলতে চান এলাকায়৷ সেখানে সর্বধর্মে সমন্বয়ের বাতাবরণ থাকবে৷ পড়ুয়াদের মধ্যে সম্প্রীতির পাঠ দেবেন৷

                               [ আরও পড়ুন : সিপিএম-বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস, অধীরের ডেরায় অভিযোগ মমতার]

এবার আসা গেল আসল কথায়৷ ‘এই পরিস্থিতির পর ভোট দেবেন? কী ভাবছেন?’- এই প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ শান্ত সুরেই ইমাম জানালেন, প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ভোট দেওয়া৷ সেই নাগরিক অধিকার পালন করা উচিৎ৷ একজন নাগরিক হিসেবে তিনিও নিজের কর্তব্য করবেন৷ কিন্তু কাকে সরকারে চাইছেন? কেমন সরকারই বা প্রত্যাশিত? রশিদি বলছেন, ‘সরকার যে-ই গঠন করুক, তারা যেন সহিষ্ণুতার বার্তা দেন৷ প্রেম, সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেন দেশজুড়ে৷ নাহলে দেশ পিছিয়ে পড়বে৷’ ইমামের এসব কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনি দিতে চাইলেন সহিষ্ণুতার বার্তা৷ আসানসোলের নূরানি মসজিদের ইমামই এখন এলাকার সবচেয়ে বড় শান্তির প্রতীক, এলাকাবাসীর আদর্শ, অনুপ্রেরণা৷ ইমাম রশিদির সংস্পর্শে থেকে তাঁরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন, প্রতিশোধস্পৃহার জোর ততটা নেই, যতটা আছে সংযত আচরণের মধ্যে৷ যতটা আছে দুঃসহ স্মৃতি ভুলে যাওয়ার মধ্যে৷ তাই তাঁরা বলছেন, ‘আমরা বেশ শান্তিতেই আছি৷’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.