এবার পুরুলিয়ার বুকে তৈরি হবে দেশের প্রতিরক্ষার বিভিন্ন সরঞ্জাম। জেলায় স্টিল ও সিমেন্ট শিল্পেও জোয়ার আসছে। নতুন করে মোট ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে জেলায়। পুরুলিয়ায় রিলিজিয়াস ও ফরেস্ট ট্যুরিজমে জোড় দিচ্ছে রাজ্য সরকার। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টানতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহলে এই প্রথম কোনও অভয়ারণ্য তৈরির অনুমোদন মিলেছে। তৈরি হতে চলেছে বিমানবন্দর। বিগত সরকারের আমলে পুরুলিয়ায় একাধিক প্রকল্প ঘোষণা হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। পালাবদলের পর এবার আক্ষরিক অর্থেই জেলায় কাটতে চলেছে শিল্পায়নের খরা। তবে কোনও প্রকল্পের জন্য পাহাড়-গাছ কাটা হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জেলার প্রত্যেক বিধায়কই চাইছেন, তাঁদের বিধানসভা এলাকায় শিল্প আসুক। কিন্তু জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বলরামপুর, বান্দোয়ানে কারখানা তৈরির প্রস্তাব জমা পড়লেও এখনও সিলমোহর পড়েনি। জেলায় শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত করতে প্রয়োজন ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই কারণে পুরুলিয়া শহরের ছররায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য আগেই ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এই নিয়ে বিমান মন্ত্রকের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরিত হবে। ছররার পাশাপাশি বালুরঘাটের কলাইকুন্ডা, হাসিমারা বিমানবন্দরের জন্যও মউ স্বাক্ষর হবে। প্রস্তাবে মালদহের একটি বিমানবন্দর থাকলেও সেখানে বর্তমানে পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। তাই আপাতত সেখানকার মউ স্বাক্ষর হবে না।
আরও পড়ুন:
জেলায় বিমানবন্দর তৈরি হলে শিল্পের পাশাপাশি জেলার পর্যটনের দরজাও খুলে যাবে। পুরুলিয়ায় বিদেশি পর্যটক টানতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র তৈরির পথে হাঁটছে রাজ্য। জঙ্গলমহলে প্রথবার অভয়ারণ্য তৈরি হবে। রবিবারই এই অভয়ারণ্যের অনুমোদন মিলেছে। পুরুলিয়ার কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি ও নোয়াহাতু বিট ও ঝালদা বনাঞ্চলেন কলমা বিটের ৩৬০০ একরের বেশি জমিতে এই অভয়ারণ্য তৈরি হবে। তবে অভয়ারণ্য তৈরির জন্য কোনও মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হবেন না। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থাতে তৈরি হবে জঙ্গলমহলের প্রথম অভয়ারণ্য। এটিই এর বিশেষত্ব।
পর্যটনকে ত্বরান্বিত করতে ফরেস্ট ট্যুরিজমের সঙ্গে রিলিজিয়াস ট্যুরিজমের উপরও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বহুযুগ আগে পুরুলিয়ায় জৈনদের বসবাস ছিল। তাই জেলায় জৈনদের পুরাতত্ত্ব ও পুরাকীর্তি রয়েছে। এগুলিকে ঘিরে তৈরি হতে চলেছে পর্যটনকেন্দ্র। জয়পুরের দেউলঘাটা, রঘুনাথপুরের তেলকুপি, বান্দা, পুঞ্চার পাকবিররা-সহ একাধিক জায়গা পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্রের রূপ পাবে। তবে সব হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে তৈরি হবে ট্রেকিং রুট। বনদপ্তরের গেস্ট হাউসগুলিকে ঢেলে সাজানো হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে পুরুলিয়ার মিনি চিড়িয়াখানায় আসছে লেপার্ড।
রবিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুরুলিয়ায় বিমান নামবে প্রস্তুতি চলছে। আরও থানা হবে আরও পুলিশ আসবে। পর্যটনেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনার মৃত্যুর সংখ্যা লুকোচ্ছে আমেরিকা! হেগসেথ বললেন, ‘যত্তসব বাজে কথা’
-
মানসিক চাপ ফুটে ওঠে ত্বকেও, পুজোর আগে ‘স্ট্রেসড স্কিন’ থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?
-
ভরা মঞ্চে মোদির মাকে নিয়ে মশকরা! ‘অপমান করেনি তো’, রাহুলের পাশে দাঁড়াল মমতা তৃণমূল
-
তারেকের বাংলাদেশে দুষ্কৃতীরাজ! দেশজুড়ে অসংখ্য বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণ, পাকড়াও ৫১৫
-
জাতীয় ক্রীড়ানীতির আওতায় আসতে রাজি নয় বিসিসিআই, কারণ ব্যাখ্যা বোর্ড সচিবের