চেক বাউন্স মামলার অভিশাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না! ফের বিপাকে রাজপাল যাদব। বকেয়া টাকা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত জুলাই মাসেই অভিনেতাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। এমনকী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজপালকে অত্মসমর্পণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বলিউডের ‘ছোটে পণ্ডিত’। সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে এবার কিনা নিজেই বিপাকে পড়লেন রাজপাল যাদব। সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল বলিউডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতাকে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়, “উনি নাটক করতে ওস্তাদ, কিন্তু এটা তো আদালত। এর আগেও আদালতের নির্দেশ মানেনি উনি।”
আরও পড়ুন:
গত ৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে রাজপাল যাদবকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ৫ কোটি টাকা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারও আদালতের নির্দেশানুযায়ী মামলাকারীকে বকেয়া টাকা মেটাতে ব্যর্থ হন ‘ছোটে পণ্ডিত’। সেই প্রেক্ষিতেই ‘সুপ্রিম’ ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল রাজপালকে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়, “উনি নাটক করতে ওস্তাদ, কিন্তু এটা তো আদালত। এর আগেও আদালতের নির্দেশ মানেনি উনি।” এরপর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দুই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা রাজপাল যাদবকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া টাকা মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালতের রেজিস্ট্রি বাবদ ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তবে আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলেও আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজপাল যাদবকে ছাড় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি সেদিনই হবে।

‘হাম কোই মন্দির কা ঘণ্টা হ্যায়, কি কোই ভি আকে বাজা যাতা হ্যায়?’, রাজপাল যাদবের এহেন বিখ্যাত সংলাপ আমজনতার পেটে খিল ধরালেও এই কথাগুলিই যেন তাঁর বাস্তবজীবনের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে খাটে! ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এদিকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া না মেটাতে পারায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। জেলযাত্রার প্রাক্কালে করুণ সুরে বলেছিলেন, “আমার কোনও বন্ধু নেই যে বকেয়া টাকা মেটাবে।” এর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা অর্থ ফেরত দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত। কিন্তু দু’দফায় ২.২৫ কোটি টাকা মেটালেও বাকিটা বকেয়া রয়ে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার রাজপাল যাদবকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগে কঠোর ডায়েট, স্বাদ বদলাতে বানিয়ে ফেলুন কম ক্যালোরির চকোলেট ব্রাউনি
-
কোচবিহার থেকে বর্ধমান, রাজ্যের ৬ সড়কপথ উন্নয়নে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৩ কোটি! কেন্দ্রকে ‘ধন্যবাদ’ শুভেন্দুর
-
ব্রিকসে তারেককে আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত? বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলল নয়াদিল্লি
-
ভারতীয় ক্রিকেটকে বাঁচাতে সৌরভ-শচীন-দ্রাবিড়দের নিয়ে কমিটি হোক, বোর্ডকে পরামর্শ গাভাসকরের
-
ফ্রিজে হঠাৎ বিস্ফোরণে মৃত ৪! ঘরে আগুন লেগে ঝলসে গেলেন আরও ২