১২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  সোমবার ২৭ মে ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ দেশের রায় LIVE রাজ্যের ফলাফল LIVE বিধানসভা নির্বাচনের রায় মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সরকার গঠনে তাঁদের সমর্থনের ধার ধারে না কেউ৷ স্বল্প সংখ্যক ভোটের কোনও গুরুত্ব নেই কোনও দলের কাছেই৷ তবু ফি বছর গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দিতে উৎসাহের অন্ত নেই অসমবাসী চিনা সম্প্রদায়ের মানুষজনের কাছে৷ এবারও আগ্রহ তাঁদের তুঙ্গে৷ ইভিএম-এর বোতাম টিপে আঙুলে কালি লাগাতে ভোর ভোরই বেরিয়ে পড়বেন৷

                                                 [ আরও পড়ুন : কাশ্মীরে আরএসএস নেতাকে গুলি বন্দুকবাজের, নিহত পুলিশকর্মী-সহ ২]

সেই ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের বদান্যতায় চিনের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে কাজের জন্য এসেছিলেন কয়েকজন৷ চা বাগানে কাজ করার জন্য তাঁদের প্রায় জোর করেই আনা হয়েছিল৷ তারপর হোয়াংহো, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে গড়িয়ে গেছে অনেক জল৷ অনেকেই রয়ে গিয়েছেন ভারতে৷ আশ্রয় নিয়েছেন অসম সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায়৷ বিয়ে করেছেন ভারতীয় মেয়েকে৷ বংশ পরম্পরায় এদেশেই রয়ে গিয়েছেন৷ আপার অসমের তিনসুকিয়া, পানিটোলা, ডিগবয় এলাকায় এই চিনা বংশোদ্ভূত ভারতীয়দের বাস৷ তবে সংখ্যাটা প্রায় নগণ্যই৷ রাজ্যজুড়ে এরকম পরিবারের সংখ্যা মেরেকেটে ৫০৷ সকলেই উদগ্রীব লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিতে৷

assam-chinese

তিনসুকিয়ায় চিনা পাত্তি নামে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ চালান জন ওং৷ চিনা ভাষা নয়, চোস্ত অসমীয়াতে কথা বলেন৷ তিনি বলছেন, ‘৬০ এর দশকে আমার পূর্বপুরুষরা এখানে চলে এসেছিলেন৷ সেই থেকে আমরাও এখানে৷ আর চিনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা হয়নি৷ এখন আমরা এখানকারই নাগরিক৷ মা, বাবা এখানকার একটি চাইনিজ স্কুল চালিয়েছেন৷ আমি রেস্তোরাঁ চালাই৷ আমার মায়ের বয়স ৯০ পেরিয়েছে৷ আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্কা ভোটার মা৷’ জন আরও জানাচ্ছেন, তাঁরা এবারও ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছেন৷ ভাগনে রাজীব মুম্বইতে চাকরি করেন৷ কিন্তু ভোট দিতে বাড়ি ফিরবে৷ তরুণ টুং চিন থাম, অসম-চিনা সম্প্রদায়ের তৃতীয় প্রজন্ম৷ অসম পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং ইংরাজির প্রশিক্ষক৷ থামের কথায়, ‘আমাদের পরিচয় দিতে গিয়ে অসমবাসী চিনা যখন বলা হয়, তখন ওটা শুধু কথার কথাই৷ এখন আর আমরা আলাদাভাবে কিছু মনে করি না৷ ভারতীয়দের সঙ্গে আমরা মিশে গিয়েছি৷ আর এখানকার উন্নয়নের সুবিধা আমরাও সমানভাবে পাই৷’ সকলেই বলছেন, এদেশের আর পাঁচজনের মতোই তাঁরা ভোট দেন৷

                                            [ আরও পড়ুন : জঙ্গিদের ডেরায় ঢুকে খতম করাই নতুন ভারতের নীতি: নরেন্দ্র মোদি]

 

এবছর অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে৷ তা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছে কি এই ৫০ অসম-চিনা পরিবারের? জানা গেল, এনআরসি-র কথা শুনে কিছুটা আশঙ্কাই হয়েছিল তাঁদের৷ এতদিনের বসবাস ছাড়তে হতে পারে, এই ভেবে৷ কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আশঙ্কা অমূলক৷ প্রত্যেকের নাম রয়েছে নাগরিকপঞ্জিতে৷ তাই এবার ভোটদানের উৎসাহ আরও বেশি৷ আগামী ১১ তারিখ অসমে প্রথম দফার ভোটে সকলেই কাজ বন্ধ রেখে দাঁড়াবেন ভোটের লাইনে৷ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের একটা ক্ষুদ্র অংশ হয়েই খুশি থাকবেন৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং