পুজো হচ্ছেই। অনিশ্চয়তা মেঘ সরিয়ে বাগবাজার সার্বজনীনে যেন একফালি রোদ ঝলমলে শরতের আকাশ। মাস পেরোলই দুর্গাপুজো। হাতে এক মাসেরও কম সময়। বৃষ্টিমুখর সকালে বাগবাজার পুজোপ্রাঙ্গনে বেজে উঠল ঢাকের বাদ্যি। নতুন কমিটির হাতে পুজোর সূচনা হল রবিবার। সাড়ম্বরে খুঁটিপুজোর মাধ্যমে ১০৮ বছরের পুজোর শুভারম্ভ করল বাগবাজার সার্বজনীন।
বরাবরই থিম পুজোর জোয়ারে গা না ভাসিয়ে শতাব্দী প্রাচীন তথা বনেদি সংস্কৃতির অন্যতম মুখ এই মাতৃপ্রতিমা রাজকীয় বনেদিয়ানা আজও বাংলার দুর্গাপুজোর গর্ব। তাই ভক্তদের মধ্যে এই পুজোর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। চলতি বছর এই পুজো নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মনখারাপ হয়ে যায় শহরবাসীর। কিন্তু পরে জানা যায় আসল সত্য। হাই কোর্টের হস্তক্ষেপে ১০৮ বছরের প্রাচীন বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর কমিটি নিয়ে জট কাটে মঙ্গলবার। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সঠিক। ১০ তারিখ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিল হাই কোর্ট। গত মঙ্গলবার আবেদনকারী রবিশংকর সেনগুপ্তের আবেদন খারিজ করা হয়।
বাগবাজারের পুজো কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েন চলছিল। আদালতের নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে এবছরের পুজো কমিটির ভোটাভুটি হয়। তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭, যার মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দেখা যায়, সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ৩৩টি করে সমান ভোট পান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন একই পরিবারের দুই ভাই-গৌতম ও ভাস্কর নিয়োগী। দু’জনেই সমান ভোট পাওয়ায় জয়ী প্রার্থী না মেলায় কমিটি নির্বাচনে জট কাটার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। এ ছাড়াও ১২ জন কার্যকরী সদস্যর মধ্যে চারজন আবার ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও ‘টাই’ হয়ে যায়। তবে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে যান।
বাগবাজার সার্বজনীন পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, “১০৮ বছরের ঐতিহ্য-গরিমা অক্ষুণ্ণ থাকবেই। পুজো হবে কি না, তা নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা ছিলই না। দুই গোষ্ঠীর মতানৈক্য ছিল, এক পক্ষ কোর্টে গেছে। সেখান থেকে আমরা রায় পেয়ে গেছি। চতুর্থীতেই পুজোর উদ্বোধন হবে আরও জাঁকজমকে।”
জটিলতা কাটাতে তখন আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলেন। সভাপতির কাস্টিং ভোট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন ওই দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ করেন এক মহিলা সদস্যও। স্বভাবতই পুজো নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। পরে নিম্ন আদালত থেকে হাই কোর্টে গড়ায় মামলা। রায় দানের আগেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। অবশেষে পুজোর ২৮ দিন আগে বাগবাজারে সার্বজনীনে খুঁটিপুজো করা হল। বাগবাজার সার্বজনীন পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, “১০৮ বছরের ঐতিহ্য-গরিমা অক্ষুণ্ণ থাকবেই। পুজো হবে কি না, তা নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা ছিলই না। দুই গোষ্ঠীর মতানৈক্য ছিল, এক পক্ষ কোর্টে গেছে। সেখান থেকে আমরা রায় পেয়ে গেছি। চতুর্থীতেই পুজোর উদ্বোধন হবে আরও জাঁকজমকে।”

১৯১৯ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়। সেই সময় ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে পরিচিত ছিল পুজোটি। তারপর পশুপতি বোস লেন ও বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পুজো হয়। পরে যদিও স্থায়ীভাবে বাগবাজারে পুজো শুরু হয়। বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব নামে কমিটি তৈরি হয়। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি হন। ১৯৩২ সালে সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বাগবাজারের পুজো। ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬, ২০১০ সালে নির্বাচন হয়। ১২ বছর পর সেই নির্বাচন জট তৈরি হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশে চিরাচরিত সাবেকিয়ানা বজায় রেখেই বাগবাজার সার্বজনীনে ফিরছেন উমা।
সর্বশেষ খবর
-
রবিবাসরীয় সকালে সোহিনীর কোলে ফুটফুটে সন্তান, ঘরে এল পুত্র না কন্যা?
-
দাঁত দিয়ে যায় চেনা, বয়স ‘চুরি’ রুখতে নয়া পদ্ধতির শরণাপন্ন হতে পারে বোর্ড
-
পরপর ৩ দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট! মাসের শেষে সম্পূর্ণ বন্ধ হতে পারে পরিষেবা, জরুরি বৈঠক অর্থমন্ত্রকের
-
এক বছরে তিন ‘আত্মহত্যা’, তবু শাস্তি হয়নি! আইআইটি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর পুত্রহারা মায়ের
-
‘আলোয় আলো আকাশ’, ছায়াপথ-বায়ুমণ্ডল ফুঁড়ে মায়াবী আলোয় উদয় শুক্রের! ভাইরাল অপূর্ব ছবি