মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা সমর্থন ঘোষণা, প্রার্থীর গ্রেপ্তারি। একই দিনে দুই ঘটনা বঙ্গ কংগ্রেসকে যেন শীতঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছে। নন্দীগ্রামকে (Nandigram) কেন্দ্র করেই রাজ্যে দলকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে হাত শিবির। শুধু প্রদেশ কংগ্রেস নয়, প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় নন্দীগ্রামকে জাতীয় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বও। মূল উদ্দেশ্য, ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় দলকে বিজেপির বিকল্প হিসাবে তুলে ধরা। এবং নন্দীগ্রামের প্রার্থীর গ্রেপ্তারিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরে বিজেপির ‘স্বৈরাচারী’ রূপ দেশবাসীর সামনে আনা।
নন্দীগ্রামের প্রার্থীর গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। শনিবার এ নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। তাঁর বক্তব্য, “নন্দীগ্রামের প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারি ভোটচুরির নির্লজ্জ চেষ্টা। বিজেপি সামান্য উপনির্বাচন নিয়ে এত ভীত। প্রধানমন্ত্রী দেশকে গণতন্ত্রের জননী বলে গর্ব করেন আর বাংলায় তাঁর দল গণতন্ত্রের হত্যা করছে।” সূত্রের খবর, এআইসিসি এই লড়াইটাকে শুধু সোশাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। মাঠে নেমে এ নিয়ে আন্দোলন করতে চাইছে। এবং নন্দীগ্রামের লড়াইয়েও সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে। কংগ্রেস জানে, নন্দীগ্রামে জয়ের স্বপ্ন দেখা দুরূহ ব্যাপার। ২০২৬ নির্বাচনে রাজ্যের ওই হেভিওয়েট কেন্দ্রে হাজার ভোটও পড়েনি হাত চিহ্নে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু উপনির্বাচনে পরিস্থিতি দলের ভোটবৃদ্ধির অনুকূলে। আর নন্দীগ্রামে জয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের বিজেপির চ্যালেঞ্জার হিসাবে তুলে ধরা। আর সেই লড়াইয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চায় কংগ্রেস। সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে ইতিমধ্যেই প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে ফোন করে সবরকমভাবে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রার্থীর জামিন করানোর জন্য দরকার পড়লে দিল্লি থেকে অভিষেক মনু সিংভির মতো নামী আইনজীবী পাঠানো হবে। যদিও শুভঙ্কর জানিয়েছেন, এখনই তার দরকার নেই। তমলুক আদালতে মিলন জামিন না পেলে হাই কোর্টে আবেদন করা হবে। তখন দিল্লির আইনজীবীদের দরকার পড়তে পারে। এআইসিসি প্রদেশ কংগ্রেসকে জানিয়েছে, প্রার্থী জেলে থাকলেও প্রচারে যেন খামতি না থাকে। দরকারে দিল্লি থেকে কোনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত কোনও মুখকে প্রচারে পাঠানো হবে। উদ্দেশ্য একটাই, যতটা সম্ভব ভোট বাড়িয়ে নেওয়া।
এসবের মধ্যে আরও একটা প্রশ্ন প্রদেশ কংগ্রেসের সামনে রয়েছে। সেটা হল কালীঘাট তৃণমূল অর্থাৎ মমতা তৃণমূল নিয়ে দলের অবস্থান কী? সূত্র বলছে, তৃণমূল প্রতীক ফেরানোর লড়াইয়ে কংগ্রেস সবরকমভাবে পাশে রয়েছে। অভিষেক মনু সিংভির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ভালো। তিনি তৃণমূলকে এ বিষয়ে আইনি সহায়তা দিতে পারেন। আবার দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার কাজটিও তিনি করতে পারেন। তবে নির্বাচনী জোটের ক্ষেত্রে কংগ্রেস সাবধানী। দলের তরফে ঠিক করা হয়েছে, কংগ্রেসের তরফে কালীঘাটকে জোটের প্রস্তাব দেওয়া হবে না। কারণ নিচুতলার কর্মীরা এখনও তৃণমূলের ‘অত্যাচার’ ভোলেননি। তবে তৃণমূল যদি আগ বাড়িতে জোট প্রস্তাব দেয়, সেটা ভেবে দেখা হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সিজেপি পৌঁছতেই স্কুল ঠিক করার হিড়িক রাজস্থান সরকারের, ৪৭২ স্কুলে বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি!
-
‘অশোকনগর তৈলক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়’, স্পট বার্তা শমীকের
-
হার্ট অ্যাটাকের পর নতুন জীবন, ডিসানে রোগীদের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
-
গলার কাঁটা ‘মুসলিম ন্যাটো’! ‘এবার তোমাদের পালা’, সৌদিকে ‘কাঁদিয়ে’ পাকিস্তানকে হুমকি হাউথির
-
সিপিএমের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙা হল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবিও! চাঞ্চল্য গোঘাটে