Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Desun Hospital Heart Attack Survivors Meet

হার্ট অ্যাটাকের পর নতুন জীবন, ডিসানে রোগীদের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

হার্ট অ্যাটাক সারভাইভার্স মিটে চিকিৎসা-প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে রোগীর নিজের অভিজ্ঞতা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৬:৪৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৬:৪৬

options
link
হার্ট অ্যাটাকের পর নতুন জীবন, ডিসানে রোগীদের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প zoom
ডিসান হসপিটাল আয়োজিত হার্ট অ্যাটাক সারভাইভার্স মিট। ছবি: নিজস্ব
Advertisement

হার্ট অ্যাটাকের মুহূর্তটা কেমন? আর সেই ধাক্কা সামলে কীভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়? সেই অভিজ্ঞতাই নিজেদের মুখে তুলে ধরলেন হার্ট অ্যাটাক থেকে সুস্থ জীবনে ফেরা রোগীরা।

কারও ক্ষেত্রে আচমকা শুরু হয়েছিল বুকে ব্যথা, কারও লড়াই ছিল একাধিক শারীরিক জটিলতার সঙ্গে। তাঁদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আলোচনায় এল আধুনিক হৃদ্‌রোগ চিকিৎসা এবং রোবটিক কার্ডিয়াক সার্জারির অগ্রগতিও। ডিসান হসপিটালে আয়োজিত হল ‘হার্ট অ্যাটাক সারভাইভার্স মিট’। অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ জন হার্ট অ্যাটাক সারভাইভার এবং বিশিষ্ট হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিশ্ব হার্ট হেলথ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা, সুস্থ হয়ে ওঠা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন রোগীরা।

চিকিৎসকদের আলোচনায় উঠে আসে দ্রুত রোগ নির্ণয়, সময়মতো চিকিৎসা এবং পরবর্তী পর্যায়ে নিয়মিত ফলোআপের গুরুত্ব। পাশাপাশি হার্টের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।

heart attack survivors meet robotic cabg advancement desun hospital kolkata
সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসরা। ছবি: নিজস্ব

জটিল হৃদ্‌রোগ, রোবটিক পদ্ধতিতে বাইপাস
এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উঠে আসে বিহারের ৬৪ বছর বয়সি আহমদ কামালের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা। তাঁর গুরুতর থ্রি-ভেসেল হার্ট ডিজিজ ধরা পড়ে। প্রধান ধমনীতেও ছিল জটিলতা। তার সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যানিমিয়া এবং দুর্বল হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা থাকায় চিকিৎসাও ছিল যথেষ্ট জটিল।

প্রথমে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়। এরপর রোবটিক-সহায়তায় মিনিম্যালি ইনভেসিভ বাইপাস সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহের জন্য দুটি নতুন পথ তৈরি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। সার্জারির প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজে শ্বাস নিতে সক্ষম হন। নবম দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়।

heart attack survivors meet robotic cabg advancement desun hospital kolkata
চিকিৎসকের পরামর্শ। ছবি: নিজস্ব

রাতের হালকা ব্যথা, তারপর কলকাতায়
নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আহমদ কামাল জানান, রাত প্রায় ৯টার দিকে তাঁর  বুকে হালকা ব্যথা শুরু হয়। পরে কাশি হয়। বোনের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ডিসান হসপিটালে আনা হয়।

হসপিটালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়েও নিজের কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, হসপিটালে আসার পর কখনও নিজেকে শুধুমাত্র রোগী বলে মনে হয়নি। চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রশংসা করে তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর ব্যথাও ছিল খুব সামান্য। তাঁর মনে হচ্ছিল, যেন কোনও অপারেশনই হয়নি। চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল টিমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

heart attack survivors meet robotic cabg advancement desun hospital kolkata
সুস্থতার পর। ছবি: নিজস্ব

চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীদের কথোপকথন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিসান হসপিটালের ডিরেক্টর, কার্ডিওলজি ডা. সঞ্জীব পাত্র, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. অভীক কারক, ডা. বিয়াউস সামন্ত ও ডা. সুদেব মুখোপাধ্যায়, সিটিভিএস কনসালট্যান্ট ডা. সৌম্যজিৎ ঘোষ এবং ডা. ঝুলান কুমার জেনা। হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে ফেরা রোগীদের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় করেন। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. সঞ্জীব পাত্র বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাক একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তবে সময়মতো চিকিৎসা, সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং নিয়মিত ফলোআপ সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হার্ট অ্যাটাক থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের একত্রিত করার মাধ্যমে তাঁদের লড়াই ও সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা যায়। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি এবং কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে নতুন নতুন অগ্রগতি, যার মধ্যে উন্নত মিনিম্যালি ইনভেসিভ পদ্ধতিও রয়েছে, উপযুক্ত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।’

heart attack survivors meet robotic cabg advancement desun hospital kolkata
সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীকে শুভেচ্ছা। ছবি: সংগৃহীত

সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
আলোচনায় বারবার ফিরে আসে একটি বিষয়, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা। রোগীদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চিকিৎসকরাও জানান, উপসর্গকে হালকা ভাবে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে আলোচনায়।

ডিসান হসপিটালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত বলেন, ‘প্রতিটি হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে ফেরা মানুষের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাহস, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ হয়ে ওঠার এক দীর্ঘ যাত্রা। সেই গল্পগুলিকে সামনে নিয়ে আসা এবং সময়মতো ও উন্নত হৃদ্‌রোগ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। ডিসান হসপিটালে আমরা আমাদের কার্ডিয়াক কেয়ারের সক্ষমতা আরও অত্যাধুনিক করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

হার্ট অ্যাটাক সারভাইভার্স মিটে চিকিৎসা-প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে রোগীর নিজের অভিজ্ঞতা। একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের মুখোমুখি এনে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয় এই অনুষ্ঠানে। ফলে চিকিৎসার তথ্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে হার্ট অ্যাটাকের পর নতুন করে জীবনে ফেরার বাস্তব গল্প।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.