দলের প্রতীক নেই। নাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। নিজের তৈরি রাজপাট খুইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজনৈতিকভাবে কার্যত নিঃস্ব, রিক্ত। এবার নিজের করা প্রতিজ্ঞাও ভেঙে ফেললেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো। রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তথাকথিত ‘গোদি মিডিয়া’র সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না তিনি। সেই প্রতিজ্ঞা তিনি ভাঙছেন।
৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর একবার মাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মমতা। সেদিনই জানিয়ে দেন, গদি মিডিয়ার সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক রাখবেন না। তাঁর অভিযোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি। তারপর গত পাঁচ মাস কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, কোনও সাক্ষাৎকার দেননি কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো। নিজের যাবতীয় বক্তব্য তিনি তুলে ধরেন ফেসবুক লাইভে, যেখানে পালটা প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে না। এর মধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে বহু বদল এসেছে, তাঁর দল ভেঙেছে। কিন্তু মমতার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন:
এবার সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলেন করলেন কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের প্রতীক হারানোর পর আজ বিকাল চারটেয় সাংবাদিক সম্মেলন করবে কালীঘাট তৃণমূল। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার কমিশনের সিদ্ধান্ত জানার পর রাতেই ঠিক হয় এ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। তাতে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা নিজেও বক্তব্য রাখবেন। যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বলা ভালো, পাঁচ মাস পর ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগল।
এদিকে দলের নামের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগ জুড়ে দিতে চাইছে কালীঘাট শিবির। সেকারণে দলের যে তিনটি নামের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে মমতার নাম রয়েছে। তিনটি বিকল্প হল, ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’, ‘তৃণমূল কংগ্রেস মমতা।’ কালীঘাট তৃণমূলের বক্তব্য, “নেত্রীই আমাদের মুখ। দলের প্রত্যেকে মমতার সৈনিক। তাই তাঁর নাম থাকলে কর্মীদের আবেগ দলের সঙ্গে থাকবে।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাদ্রাসা অভিযান দেশের মুসলিম স্বার্থের পরিপন্থী নয়
-
বচ্চনের ছবি দেখে হিন্দি শেখা! গাভাসকরদের পাশে বসে সেই ভাষাতে ধারাভাষ্য আফগানি শাকিরের
-
‘ফুটবলারে’র সঙ্গে লড়াইয়ে ‘খাম’, আপাতত প্রতীক যুদ্ধে ইতি টেনে মমতা-ঋতকে ‘নাম-সিম্বল’ দিল কমিশন
-
নিঠারির ‘নরখাদক’, সুপ্রিম কোর্টে নির্দোষ ও জেলমুক্তির পর হরিদ্বারের ‘আত্মঘাতী’ সুরেন্দ্র কোলি
-
‘আকুতি’ই যেখানে ‘আরাধনা’, কীভাবে বাংলার রাধাপ্রেম জয় করল বিশ্বমানবের হৃদয়?