২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হুইল চেয়ারে বসে ফুটবল হাতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার সেই ‘হেভিওয়েট’ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘ফুটবলার’ প্রতীক জুটেছে মমতার। ঋত এবং কালীঘাটের মধ্যে প্রতীক ‘যুদ্ধে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আদি লোগো বা জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এহেন পরিস্থিতিতে ভোটের আগে নতুন লোগো প্রকাশ করল মমতা তৃণমূল। যেখানে একেবারে মাঝেই রয়েছে নতুন প্রতীক ফুটবলার। একেবারে নীল প্রেক্ষাপটের উপরে সাদা হরফে বড় বড় করে লেখা রয়েছে দলের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। তার মাঝে রয়েছে জাতীয় পতাকায় থাকা তিন রং। অর্থাৎ গেরুয়া, সাদা এবং সবুজের ছোঁয়া।
ইতিমধ্যে সমস্ত নেতা-কর্মীকে নতুন লোগো এবং প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য একটাই, নতুন লোগো এবং প্রতীক চেনানো।
আরও পড়ুন:
আগামী ৬ অক্টোবর উপ নির্বাচন রয়েছে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে। এমনকী ভোট মিটলেই কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে। তার আগেই নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাতছাড়া দলের নাম এবং তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক। যা নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় ধাক্কা। যদিও এহেন পরিস্থিতিতে কৌশলী পদক্ষেপ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন তিনটি নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলেন যাতে মমতাও থাকবে আবার তৃণমূলও থাকবে। সেরকমই একটি নামে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। লোগো হিসেবে মমতার দুটি পছন্দ ছিল, একটি ফুটবলার ও একটি ব্যাট। শেষ পর্যন্ত ফুটবলার চিহ্নই এই স্বীকৃতি দিয়েছে কমিশন।
তবে কালীঘাট তৃণমূলের নয়া এই লোগো সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা জায়গা করে নিতে পারবে? মানুষ আদৌ মমতার লোগো চিনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। যদিও ইতিমধ্যে সমস্ত নেতা-কর্মীকে নতুন লোগো এবং প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য একটাই, নতুন লোগো এবং প্রতীক চেনানো। দলের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে মমতাপন্থী একাধিক তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়ক সমাজমাধ্যমে নতুন লোগোর ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন। তা বেশ সাড়াও পেয়েছে।
বলে রাখা ভালো, ছাব্বিশের ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই সদ্যপ্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয় মুষলপর্ব। জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে যান। দ্বিধাবিভক্ত দলে নাম, প্রতীক ও তহবিল নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। দুই শিবিরই দলের নাম, প্রতীক, তহবিল হাতে রাখতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বরাস্থ হয়ে নিজেদের প্রমাণ পেশ করে। কিন্তু কমিশন দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। শেষমেশ ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ইতি পড়ে এই প্রতীক যুদ্ধে। বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানায়, জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস – কোনওটিরই অস্তিত্ব নেই। মমতার শিবিরের নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘ফুটবলার’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘খাম’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের সংঘাত! খার্কি উর্দিতে কতটা জমল করিনা, পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের ‘দায়রা’?
-
মানাসলুর তুষারঝড় থেকে বেঁচে ফেরেন! ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে সেই ভয়াবহ অতীত স্মরণ পর্বতারোহীর
-
দেবীর সঙ্গে পূজিতা দুই দাসীও, বাংলার শতাব্দী প্রাচীন পুজোর নেপথ্য কাহিনি কী?
-
রাম মন্দিরে শতাধিকবার চুরি, ধরা পড়ে সিসিটিভিতেই, তবু কেন অধরা ছিল দোষীরা?
-
ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু, পলাতক ভুয়ো ডাক্তার, মৃতের মায়ের নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!