চাই ঝলমলে ত্বক। আর সেই ‘ইনস্ট্যান্ট গ্লো’-এর আশায় সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্লুটাথায়ন আইভি ড্রিপ। ত্বক ফর্সা করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো থেকে বয়সের ছাপ কমানোর নানা দাবিতে এই ‘বিউটি ড্রিপ’ বা স্যালাইনের প্রচার চলছে।
কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য শিরায় গ্লুটাথায়ন নেওয়ার আগে ভাবুন দু’বার। কারণ, উপকারের প্রমাণ যেমন সীমিত, তেমনই রয়েছে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা।
আরও পড়ুন:
গ্লুটাথায়ন কী?
গ্লুটাথায়ন শরীরের স্বাভাবিকভাবে তৈরি একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করা এবং শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ত্বক ফর্সা বা উজ্জ্বল করার জন্য আইভি-এর মাধ্যমে গ্লুটাথায়ন দেওয়ার বিষয়টি আলাদা।
আরও পড়ুন:
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ত্বক ফর্সা করার উদ্দেশ্যে ইন্ট্রাভেনাস গ্লুটাথিয়ন ব্যবহারের পক্ষে এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অনেক প্রচারই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ছোট পরিসরের গবেষণার উপর নির্ভরশীল।

গ্লো কি থাকবে?
গ্লুটাথায়ন নিলে ত্বকের রং হালকা বা উজ্জ্বল দেখালেও সেই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ, শরীরের স্বাভাবিক মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। ফলে পুজোর আগে দ্রুত ‘গ্লো’ পাওয়ার আশায় একাধিক আইভি সেশন নেওয়া আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আইভি ড্রিপে বিপদ কোথায়?
মুখে খাওয়ার সাপ্লিমেন্টের তুলনায় আইভি চিকিৎসায় সতর্কতা বেশি জরুরি। কারণ, কোনও পদার্থ সরাসরি রক্তপ্রবাহে পৌঁছে যায়। তাই দ্রবণের গুণমান, মাত্রা, প্রস্তুত প্রক্রিয়া এবং জীবাণুমুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, কিছু কসমেটিক বা ওয়েলনেস ক্লিনিকে ব্যবহৃত আইভি গ্লুটাথায়ন কম্পাউন্ডিং বা মিশ্রণের মাধ্যমে প্রস্তুত হতে পারে। প্রস্তুতিতে দূষণ বা জীবাণু থাকলে গুরুতর সংক্রমণ-সহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আগস্ট ২০২৬-এ মার্কিন এফডিএ-র একটি নিরাপত্তা সতর্কতায় আইভি গ্লুটাথায়ন নেওয়ার পর কয়েকজনের তীব্র অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল। তাঁদের জ্বর, কাঁপুনি, রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায় এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ব্যবহৃত প্রস্তুতিতে ব্যাকটিরিয়াল এন্ডোটক্সিন দূষণের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?
উচ্চমাত্রায় শিরায় গ্লুটাথায়ন দেওয়ার সঙ্গে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, অ্যানাফাইল্যাক্সিস, লিভার বা কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা এবং স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম ও টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিসের মতো গুরুতর ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
নেওয়ার আগে যা জানবেন
পুজোর আগে ত্বকে দ্রুত গ্লো আনার তাগিদে কোনও আইভি কসমেটিক ট্রিটমেন্ট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হুট করে না নেওয়াই ভালো। কে চিকিৎসাটি দিচ্ছেন, কী দ্রবণ শিরায় দেওয়া হচ্ছে, সেটি কোথা থেকে এসেছে, যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তার জন্য অনুমোদিত কি না এবং গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘রাষ্ট্রসংঘে স্থায়ী সদস্যপদ পাক ভারত’, কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিল্লির পাশে ইউরোপের ৪ দেশ
-
ক্যাশলেস থেকে ক্যাশে! প্রশ্নের মুখে ভারতের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
-
রানি মুখোপাধ্যায়ের মাতৃবিয়োগ, প্রয়াত দেবশ্রীর দিদি কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়
-
ক্ষমতাচ্যুত বিজয়নের পিঠেও দুর্নীতির দাগ! ইডির প্রস্তাবে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ কং সরকারের
-
‘হনুমান মূর্তি গুঁড়িয়ে দাও’, ট্রাম্পের দেশে চরমে হিন্দুবিদ্বেষ! তুঙ্গে বিতর্ক