ঘরের ভোল পালটে দেবে এই দশ পাতাবাহার, যত্নআত্তির প্রয়োজনই নেই!
বৈচিত্র আনতে ফুলগাছের বদলে বসান পাতাবাহার। সাধারণত বেশিরভাগ পাতাবাহার গাছ নিজের থেকেই বেড়ে ওঠে। আলাদা করে নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন পড়ে না।
বৈচিত্র আনতে ফুলগাছের বদলে বসান পাতাবাহার। সাধারণত বেশিরভাগ পাতাবাহার গাছ নিজের থেকেই বেড়ে ওঠে। আলাদা করে নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন পড়ে না। ঘরের ভিতর অপর্যাপ্ত আলো-হাওয়াতেও তারা দিব্যি বাঁচতে পারে। সপ্তাহে বড়জোর এক-দুবার জল। এ ধরনের গাছ খুব দ্রুত বাড়ে না। একান্ত তা অনেকখানি ছড়িয়ে গেলে, অল্প একটু ছেঁটে দিলেই যথেষ্ট!
আরও পড়ুন:
ইংলিশ আইভি - ছোট ছোট পাতার এই গাছ রাখতে পারেন ঘরের ভিতর। তবে বারান্দা বা বাগানেও একইভাবে বেড়ে উঠতে পারে। ঘরে রাখলে, উষ্ণতা তো নয়ই, বরং শীতলতা চায় এই গাছ। তাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরেও দিব্যি রাখা চলে। ঘরে যদি ওয়ার্ম লাইট থাকে, তবে যেন গাছ খুশি হয়! হ্যাঙ্গিং পটে রাখলে ঘরের শোভা বাড়ে। হাওয়া পরিশুদ্ধ করে ইংলিশ আইভি।
স্ট্রিং অফ পার্লস - আপাদমস্তক সবুজ, অথচ দেখলে মনে হয় যেন প্রতিটি লতা জুড়ে সাজানো রয়েছে অসংখ্য মুক্তোর দানা। বাড়ির যে জানলাটি দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো আসে, সেখানে রাখতে পারেন এই সাক্যুলেন্ট। মাটি যদি শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায়, কেবলমাত্র তখনই জল দেওয়া চলে। পুঁতির মালার মতো ঝুলে থাকে লতানো গাছটি, তাই হ্যাঙ্গিং পট ছাড়া রাখার উপায় নেই!
গোল্ডেন পোথোস - গাছের ব্যাপারে যারা এক্কেবারে নভিস, এই লতানো গুল্ম তাদের জন্য পারফেক্ট। খুব কম আলোতেও বাড়তে পারে। জল দিতে ভুলেও গেলেও এ গাছের কিচ্ছু আসে যায় না! পাতার আকার পানপাতার মতো। রঙ সবজে হলেও তাতে সোনালি আভা চোখে পড়ে। উঁচু শেলফের উপর অতি সাধারণ পটেই বসানো যেতে পারে এই গাছ, যার অপর নাম ‘ডেভিল’স আইভি’।
আরও পড়ুন:
স্ট্রিং অফ হার্টস - প্রতিটি লতানো শাখায় যেন ঝুলে রয়েছে ছোট্ট ছোট্ট ‘হার্ট’! পাতার রঙ কালচে সবুজ। কখনও বা দেখলে মনে হয় যেন রুপালি রঙের আভাস রয়েছে তাতে। কখনও আবার তা বেগুনি বলেও বোধ হয় চোখে। হ্যাঙ্গিং পটে ঝুলিয়ে রাখা যায়। অথবা উঁচু শেলফের মাথায় মাটি-রঙা টবে। সামান্য একটু আলো না-হলেই চলে না! তবে জলের প্রয়োজন কেবল তখন, যখন মাটি শুকিয়ে যায়।
লিপস্টিক প্ল্যান্ট - একরাশ পাতাবাহারের মাঝে এই গাছ একটু আলাদা। ঘন সবজে পাতা ছাড়াও তাতে দেখতে পাওয়া যায় উজ্জ্বল লাল ছোট ফুল। যেন এক-একটি শাখার শেষে ফুটে রয়েছে একগোছা লাল লিপস্টিক! তবে ফুল না-ফোটা অবস্থাতেও এই গাছ দেখতে ভালো লাগে। ঘরের ওয়ার্ম লাইটই যথেষ্ট। বাতাস একেবারে রুক্ষ হয়ে উঠলে তবেই দরকার জলের।
বারো’জ টেল - যেন একরাশ ঝুপড়ি লেজ! হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এই সাকুলেন্ট এক্কেবারে নিরীহ। অনেকে অবশ্য মনে করেন, একে ঠিক লেজ নয়, বরং মোটা বিনুনির মতো দেখতে! দেওয়ালের রঙ যদি হলুদ অথবা কমলাটে হয়, তবে ভীষণ মানায় এই ফ্যাকাশে সবজে সাকুলেন্ট। তবে দেখতে ঘন হলেও, পাতাগুলি আসলে বড়ই কোমল। তাই স্থানান্তর করতে হলে সাবধান হতেই হয়।
ট্রেডসক্যানশিয়া এত খটমট নাম মনে না থাকলে ‘ওয়্যানডারিং জিউ’ বলেও ডাকা যায় এই গাছকে। পাতার সিংহভাগই বেগুনি। তবে ভালো করে দেখলে, চোখে পড়ে রুপালি আর সবুজের আভাসও। পাতা প্রায়শই অনেকখানি বেড়ে যায়, তাই সময়ে সময়ে ছেঁটে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। যেখানে রাখা হবে, সেখানের আলো উজ্জ্বল হলে ভালো। জলও দিতে হবে প্রায় রোজ।