দু’বছর আগেই বিজেপির সঙ্গে ‘ডিল’ রাঘবের, মধ্যস্থতায় বলি অভিনেতা! কবে গেরুয়া শিবিরে আপ সাংসদ?
রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। যা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
আরও পড়ুন:
এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস। তখন মণীশ সিশোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন থেকে শুরু করে একের পর এক আপ শীর্ষ নেতা আবগারি কেলেঙ্কারিতে জেলে। অন্য আপ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আচমকা দিল্লি জল বোর্ডে তল্লাশি চালায় ইডি। জল বোর্ডের এক আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় রাঘব দিল্লি জল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
আরও পড়ুন:
আপের সূত্রের দাবি, সেসময় রাঘব ভয় পেয়ে যান। তাঁর আশঙ্কা ছিল কেজরিওয়ালের অন্য সঙ্গীদের মতো এবার তাঁকেও জেলে যেতে হবে। সেই আশঙ্কা থেকে দলের কাউকে না জানিয়েই তিনি চলে যান লন্ডন। বেশ কয়েক মাস ফেরেননি। দলের সমর্থনে একটি টুইট পর্যন্ত করেননি। তাতে দলের অনেকের গোঁসা হয়েছিল। যদিও রাঘব শিবির দাবি করে, নিজের চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি।
আপের দাবি, ২০২৫ নির্বাচনে রাঘবকে কেজরিওয়ালের নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। এখানেই শেষ নয়। তিনি পঁচিশের নির্বাচনে দিল্লিতে কোনও জনসভা করতে রাজি হননি। শুধু রোড শো এবং শোভাযাত্রা করেন। সাংগঠনিক বৈঠক করেন। বস্তুত সেই ২০২৪ নির্বাচন থেকেই সরাসরি বিজেপিকে কোনওভাবেই আক্রমণ করেননি রাঘব।
কিন্তু কেন? আপ সূত্রের দাবি, রাঘব জল বোর্ডের সেই তল্লাশিতে এত ভীত হয়ে যান যে বিজেপির সঙ্গে ডিল করে নেন। সেসময় তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথে বিজেপির শীর্ষ নেতা। চমকপ্রদভাবে আপের ওই শীর্ষনেতার সঙ্গে রাঘবের যোগাযোগ করিয়ে দেন, এক বলিউড অভিনেতা। তাঁর মধ্যস্থতাতেই আপে থেকে এতদিন বিজেপির হয়ে কাজ করছিলেন রাঘব। অন্তত এমনটাই দাবি আপ সূত্রের।
তাহলে রাঘব কি এবার সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন? তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, সে সম্ভাবনা এখনই নেই। রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে আরও দু'বছর মেয়াদ রয়েছে রাঘবের। এই দু'বছর তিনি দলের অন্দরে থেকেই আপ শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করবেন। যেমনটা করছেন স্বাতী মালিওয়াল। তবে পাঞ্জাবের ভোটের আগে বিজেপি যদি চায়, তাহলে যোগদান হলেও হতে পারে।
প্রকাশ্যে রাঘব বলছেন, “আমি বুঝতে পারছি না কেন আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, আমি তো সাধারণ মানুষের কথা বলি। তাতে আম আদমির লাভ হয়। তাতে আম আদমি পার্টির সমস্যাটা ঠিক কোথায়? ওরা কেন আমার কণ্ঠরোধ করছে। মানুষের কথা বলা কি অপরাধ?” রাঘবের সাফ কথা, “আমাকে হয়তো নীরব করা যাবে, কিন্তু হারানো যাবে না। মানুষের পাশে থাকব। মানুষের কথা বলব।”
তড়িঘড়ি রাঘবের এই বার্তার জবাব দিয়েছে আপ। দলটির জাতীয় মিডিয়াপ্রধান অনুরাগ ধান্ডার রাঘবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে তুমি ভীত হয়ে পড়েছ রাঘব। তুমি মোদির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাও। তুমি দেশের আসল সমস্যাগুলো তুলে ধরতে ভয় পাও।” ধান্ডা বলেন, “ওই সময়ে আমরা হয় দেশকে বাঁচানোর জন্য লড়াই করতে পারি, অথবা বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে শিঙাড়ার দাম কমানোর কথা বলতে পারি।”