বিজেপি-কংগ্রেসে ভরসা নেই? ভোটের ফলে জোরালো হচ্ছে তৃতীয় ফ্রন্টের স্বপ্ন, বৈঠকে মমতাও
স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা বা লোকসভার নির্বাচনের বিস্তর ফারাক। ভোটারদের ইস্যু, মানসিকতা সবকিছুই বদলে যায় নির্বাচনভেদে।
হিসাব বলছে, রাজস্থানে নির্দলদের ঝুলিতে গিয়েছে ২২৭৩টি আসন। বিজেপি-কংগ্রেসের ঠিক পরেই সংখ্যার নিরিখে নির্দলদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। এবং এই ধারাটা দেখা যাচ্ছে মূলত শহরে। বিজেপি-কংগ্রেসের হেভিওয়েট পছন্দ করছেন না আমজনতা, বরং নির্দলদের পাশাপাশি ভরসা রাখছেন আপ-সিপিএমের উপরেও। দুই দল বোর্ডও গড়তে চলেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র-রাজ্যে ক্ষমতাসীন থেকেও কেন জনসমর্থন হারাচ্ছে বিজেপি?
আরও পড়ুন:
মূলত শহরাঞ্চলেই বিজেপির ভোট কমেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালের মতো হেভিওয়েট নেতার গড়েও হেরেছে বিজেপি। সাধারণত শহরাঞ্চলে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং উচ্চবর্ণ বরাবরই গেরুয়া শিবিরের পাশে থেকেছে। কিন্তু বিকানের কেন্দ্রে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। ফলপ্রকাশের পর কর্ণী সেনা দাবি করেছিল, তারা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার করেছে। সংরক্ষণ প্রথার বিরোধিতায় সরব হয়েছে। সেকারণেই বিজেপির ভোট কমেছে।
আদর্শগত দিক থেকে উচ্চবর্ণের সমর্থন হারাতে পারে বিজেপি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দৈনন্দিন সমস্যার জেরেও শহরবাসী মুখ ফিরিয়েছেন পদ্মশিবিরের থেকে। রাস্তার বেহাল দশা, আবর্জনার স্তূপ শহরের নানা জায়গায়-এসব দেখেও ক্ষমতাসীন দলের উপর তিতিবিরক্ত ভোটাররা। বর্ষাকালে যেহেতু এই সমস্যা বাড়ে, তাই বর্ষায় নির্বাচনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। সরকারি স্কুলের বেহাল দশাও বিজেপির ধাক্কা খাওয়ার অন্যতম কারণ।
কংগ্রেস সাফল্য পেলেও তারা কিন্তু বিজেপির হারানো জমি দখল করতে পারেনি, এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান। বরং উঠে এসেছে আপ, সিপিএম, আরএলপির মতো ছোট দলগুলি। নির্দিষ্ট কিছু এলাকা কেন্দ্র করে তথাকথিত ছোট দলের গড় তৈরি হয়েছে। জাট অধ্যুষিত এলাকায় মাথাচাড়া দিচ্ছে ২০১৮ সালে তৈরি হওয়া আরএলপি। দলের মূল লক্ষ্য হল, জাটরা যেন বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক হয়ে না থাকে। বরং কিংমেকার হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:
রাজস্থানের এই ফলাফল প্রভাব ফেলতে চলেছে জাতীয় রাজনীতিতেও। তৃণমূল, ডিএমকের মতো আঞ্চলিক দলগুলি 'বড় দাদা' বিজেপি-কংগ্রেসের হাত ছেড়ে দিতে উদ্যোগী হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসের সাথে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রত্যাখাত হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, তারপরই ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা। ডিএমকে সদ্যই কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট ত্যাগ করেছে।
বিজেপি-কংগ্রেসের 'দাদাগিরি' থেকে বেরিয়ে, এনডিএ-ইন্ডিয়ার পালটা তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে তুলতে চাইছে 'ছোট' দলগুলি। তাদের আশা জোগাচ্ছে সম্প্রতি 'ককরোচ' আন্দোলনের সাফল্য, রাজস্থান ভোটের ফলাফল ইত্যাদি। এনডিএ'র মধ্যে এখনও পর্যন্ত ভাঙনের গুঞ্জন নেই। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট একেবারে সুতোয় ঝুলছে। প্রতীক 'হারানো' মমতার পাশে দাঁড়ালেও কংগ্রেস আদৌ ইন্ডিয়া জোটের রাশ ধরে রাখতে পারবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে।
তবে স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা বা লোকসভার নির্বাচনের বিস্তর ফারাক। ভোটারদের ইস্যু, মানসিকতা সবকিছুই বদলে যায় নির্বাচনভেদে। এই বড়মাপের নির্বাচনগুলিত নির্দল বা তৃতীয় ফ্রন্টের বড় সাফল্যের সেরকম নিদর্শন নেই। তবে একথা বলা যেতেই পারে, বিজেপি-কংগ্রেস নির্ভরতা থেকে শহুরে ভোটারদের মন ঘুরছে। সেটারই প্রমাণ রাজস্থানের পুরভোট।