লাস্যময়ী প্রেমিকাকে ধর্ম বদলের প্রস্তাব, বিকিনি ছবি মুছতে চাপ! বিতর্কে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ক্রিকেটার
ভারতীয় ক্রিকেটে ভয়াবহ বিতর্ক! এবার এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ।
আসলে সদ্যই প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক অভিষেক ত্রিপাঠী সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন। ওই সাংবাদিকের দাবি, উত্তরপ্রদেশের এক মুসলিম ক্রিকেটার নিজের প্রেমিকাকে ধর্মান্তরে চাপ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ওই মহিলাকে নাকি অন্য পুরুষদের সঙ্গে হাত মেলাতে পর্যন্ত নিষেধ করেছেন তাঁর প্রেমিক ক্রিকেটার। এমনকী সোশাল মিডিয়ায় তাঁর যা যা বিকিনি ছবি রয়েছে সেসবও ডিলিট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কে ওই মহিলা সঞ্চালিকা? অভিষেক নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ওই মহিলা নির্দিষ্ট কোনও সংস্থা বা টিভি চ্যানেলের হয়ে সঞ্চালনা করেন না। বরং তিনি আইপিএলের মতো বিভিন্ন লিগে সঞ্চালনার কাজটা করেন। ওই সঞ্চালিকাকে যে আইপিএলেও সঞ্চালনা করতে দেখা গিয়েছে সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন ওই সাংবাদিক। তাঁর আরও দাবি, ওই সঞ্চালিকাকে নাকি কোরানের আয়াত মুখস্থ করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
প্রমাণ হিসাবে নেটিজেনদের দাবি, কানাডা ফেরত লাস্যময়ী এশা সোশাল মিডিয়ায় বরাবর খোলামেলা। একসময় নিয়মিত বিকিনি পরিহিত ছবি পোস্ট করতেন তিনি। তাঁর ইনস্টা হ্যান্ডেলে ভূরি ভূরি খোলামেলা ছবি ছিল। সেসবের বেশিরভাগই এখন উধাও। আগে যতটা খোলামেলা ছবি ছিল সেগুলি তিনি ডিলিট করে দিয়েছেন। তাছাড়া সমীরের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তিনি ধর্মেও মুসলিম। ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার করছেন নেটিজেনরা।
ডানহাতি এই ব্যাটার প্রয়োজনে অফ-স্পিন বলও করতে পারেন। স্পিন বোলারদের বিরুদ্ধে দাপুটে ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি বিখ্যাত। উত্তর প্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রথম নজর কাড়েন। ২০২৩ সালের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তিনি দারুণ পারফরম্যান্স করেন। ওই টুর্নামেন্টে উত্তর প্রদেশের হয়ে সর্বাধিক ২৭৭ রান করেন। তাঁর হিটিং পাওয়ারও বেশ নজর কাড়া।
২০২৪ সালের আইপিএল মরশুমে চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে ৮.৪০ কোটি টাকায় দলে নেয়। পরবর্তীতে ২০২৫-২০২৬ মরশুমে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালস দলে যোগ দেন। এতদিন সেভাবে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এবার তিনি সুযোগ পেয়েই কামাল দেখাচ্ছেন। এখন এ হেন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এশা বা সমীর কেউই কোনওদিন নিজেদের প্রেমের কথা স্বীকার করেননি। আবার এশা এখনও সমীরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অভিযোগও করেননি। স্রেফ একজন সাংবাদিকের পোস্টের ভিত্তিতে সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের নিয়ে কাটাছেঁড়া হচ্ছে। যা রীতিমতো আপত্তিকর। এভাবে কোনও পোক্ত প্রমাণ ছাড়া উদীয়মান একজন ক্রিকেটারকে নিশানা করে কি তাঁর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না। বা এশারও কি সম্মানহানি হচ্ছে না? প্রশ্ন উঠছেই।