গ্রীষ্মকালে সাত পাকে বাঁধা পড়ছেন? স্কিনকেয়ারে এই ভুলগুলো করলেই কনের সাজ মাটি
অনেক সময়েই দেখা যায়, পার্লারের দামী ফেসিয়াল অথবা ডি-ট্যানিং ত্বকের ক্ষতি করে। বিয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে হয়তো ত্বক ভরে উঠল অসংখ্য ব্রণতে! এ যেন যে কোনও টু-বি-ব্রাইডের সবচাইতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন!
অনেক সময়েই দেখা যায়, পার্লারের দামী ফেসিয়াল অথবা ডি-ট্যানিং ত্বকের ক্ষতি করে। বিয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে হয়তো ত্বক ভরে উঠল অসংখ্য ব্রণতে! এ যেন যে কোনও টু-বি-ব্রাইডের সবচাইতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন! কখনও আবার এমনটা না হলেও দেখা যায়, প্রচুর খরচ করেও মেক-আপ খোলতাই হল না ত্বকে। বিউটিশিয়ান হয়তো জানালেন, ত্বক ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবান নয়, তাই এমনটা হচ্ছে!
আরও পড়ুন:
কী করা যায় তবে? কঠিন কিচ্ছু না, একেবারে সহজ রোজের স্কিনকেয়ারেই মিলবে ফল, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল কী কী ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন হতে পারে। সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মে একই স্কিনকেয়ারে ভিন্নভাবে সাড়া দেয় আমাদের ত্বক। তা যে প্রসাধনই বেছে নেওয়া হোক না কেন, তাতে উপস্থিত উপাদানগুলি যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এ সময়ে।
সানস্ক্রিন – গ্রীষ্মকালে অল্প সময় সূর্যের আলোয় বেরোলেই ট্যান পড়ে। শুধু যে ত্বকের রঙ মলিন হয়, তাই নয়। সূর্যের ক্ষতিকর ইউ-ভি রে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। তাই রইল সহজ সমাধান। কোনও অবস্থাতেই সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া চলবে না! ‘এসপিএফ ফিফটি’ যুক্ত সানস্ক্রিনই যথেষ্ট, তবে খেয়াল রাখতে হবে ফর্মুলায়। ক্রিম জাতীয় সানস্ক্রিনে ঘাম হতে পারে, তাই জেল-বেসড সানস্ক্রিনই প্রাধান্য পাক এই মরশুমে।
ফেসওয়াশ – বিবাহ অনুষ্ঠানের আগের দিনগুলোয়, অবশ্যই প্রাত্যহিক স্কিনকেয়ার রুটিনের অঙ্গ হয়ে উঠুক ফেসওয়াশ। অনেকের ত্বকই তৈলাক্ত হয়ে ওঠে গ্রীষ্মকালে। বিশেষত সকালে ঘুম থেকে উঠলে মুখের টি-জোনে তেল জমতে দেখা যায়। ফেসওয়াশ দিয়ে দিনের অন্তত দুইবার মুখ না ধুলে, ত্বক থেকে এই তেল যায় না। বাইরে বেরোলে, তাতে ধূলিকণা জমে, যা থেকে আচমকাই র্যাশ বেরতে পারে।
আরও পড়ুন:
টোনার – কেবল ফেসওয়াশ যথেষ্ট নয়, সঙ্গে অবশ্যই রাখতে হবে টোনার। কারণ ক্ষারজাতীয় তরল দিয়ে মুখ ধোয়ার পর, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। ত্বকের ধরণ কেমন, তৈলাক্ত নাকি শুষ্ক, সেই বুঝে উপযুক্ত টোনার ব্যবহার করতে হবে। মুখ ধুয়ে, শোকানোর পর, টোনার স্প্রে করুন। অথবা তুলোয় নিয়ে ছড়িয়ে নিন মুখের সর্বত্র। হাওয়ায় তা শুকাতে দিন।
জেল ময়শ্চারাইজার – ত্বকে ব্যবহার্য যে কোনও ধরনের প্রসাধনের ক্ষেত্রেই প্রাধান্য দিন জেল-বেসড প্রোডাক্টগুলিকে। তাতে যেন হাইলুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন অথবা অ্যালোভেরার নির্যাস থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। এ সময় সহজেই ব্রণ-দাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অ্যালোভেরা বা নারকেলের জেল ত্বককে শীতল করে। আচমকা ‘ব্রেক আউট’ হওয়া থেকে আটকায়।
স্ক্রাব ব্যবহারে সাধু সাবধান – সাধারণত ত্বকের যে ধরনের ময়লা ফেসওয়াশে যায় না, স্কিনের ওপেন পোর-এর ভিতর জমে থাকে, সেসব নির্মূল করতে প্রয়োজন পড়ে স্ক্রাবের। তাই প্রতিদিন তো একেবারেই নয়, সপ্তাহে বড়জোর দুইবার স্ক্রাব করা যেতে পারে, বলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু গ্রীষ্মকালে স্ক্রাব করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা। কারণ ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে, অ্যাকনে কিংবা ব্রণতে ভরে যেতে পারে মুখমণ্ডল!
পর্যাপ্ত ঘুম – কোনও বাহ্যিক মেক-আপই নববধূকে তেমন উজ্জ্বলতা দিতে পারবে না, যা পারবে পর্যাপ্ত ঘুম! রাতের পর রাত ঘুম না হলে চোখের তলায় ডার্ক সার্কেল দেখা যায়। হজমের সমস্যা হয়। ঠোঁট ও চোখ শুষ্ক লাগতে শুরু করে। এই ধরনের সমস্যা কখনওই কেবল মেক-আপে ঢাকা যায় না। ফলে উদ্বেগ পাশে সরিয়ে রেখে জোর করেই ঘুমাতে হবে এই সময়ে।
শরীরের স্কিনকেয়ার – কেবল মুখে নয়, বাকি শরীরেও সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। নিয়মিত জেল-বেসড সাবান অথবা গ্লিসারিন যুক্ত বডিওয়াশ ব্যবহার করুন স্নানের সময়। পায়ের পাতা, কনুই, হাঁটু নিয়মিত এক্সফোলিয়েট করুন ভালো স্ক্রাব ব্যবহার করে। কেনা প্রসাধন ব্যবহারের ইচ্ছে না থাকলে, বাড়িতেই কফি, চিনি মিশিয়ে বানিয়ে নেওয়া যায় ঘরোয়া স্ক্রাব।
ওয়েট ওয়াইপ - বদলাতে হবে আরও নানা ছোট বদ অভ্যাস, যা সাধারণত বদ অভ্যাস বলেই মনে করি না আমরা। যেমন, ঘাম হলে, মুখ ঘষে মছার বদলে, আলতো হাতে মুছতে হবে লিনেন কাপড়, সুতির কাপড় কিংবা ব্লটিং পেপার দিয়ে। মেডিকেটেড ওয়েট ওয়াইপ সব সময়ই সঙ্গে রাখতে পারলে ভালো। এমনকী, ব্রাইডাল হ্যান্ডব্যাগটি যখন গোছাবেন, সেখানেও অবশ্যই রাখতে হবে ওয়েট ওয়াইপ।
চুলের যত্ন – চুল ঘেমে যাচ্ছে বলে গ্রীষ্মকালে যে কেবলই শ্যাম্পু করে যাবেন, তেমন কিন্তু নয়। বারবার শ্যাম্পুর ফলে চুল রুক্ষ হয়। নারকেল তেলে চুলের ম্যাসাজ করা অত্যন্ত জরুরি। যদি দিনের অন্য সময় সম্ভব না হয়, তবে রাতে শুতে যাওয়ার আগে চুলে তেল মেখে শক্ত বিনুনি করে নিন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন ভালো করে। নিয়মিত বদলান বালিশের কভার।
দুর্গন্ধ রোধ – দেহের দুর্গন্ধ এড়াতে কেবল ডিওডরেন্ট যথেষ্ট নয়। গরমকালে অনেক সময়েই ঘাম জমে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়, যা থেকে উৎকট গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। তাই কখনওই স্নান বাদ দেওয়া যাবে না রুটিন থেকে। বিশেষত যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ব্যায়ামের পর শরীরের ঘাম কেবল মুছলেই হবে না। অবশ্যই স্নান সারুন সাবান দিয়ে। কৃত্রিম ডিও-র বদলে ব্যবহার করুন সেন্ট বা আতর।
সঠিক খাদ্যগ্রহণ – শরীর যদি ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবান না থাকে, তবে বাইরের মেক-আপ কোনও কাজেই লাগবে না! কড়া ডায়েটিং-এর প্রয়োজন নেই, তবে শরীর সুস্থ রাখে এমন খাবার খেতেই হবে গ্রীষ্মকালে। অতিরিক্ত তেলমশলা যুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। দুধ চায়ের নেশা থাকলেও আপাতত তা সরিয়ে রাখাই ভালো। বদলে শাঁসালো ফল, টক দই, ডিটক্স ওয়াটার অবশ্যই থাকুক খাদ্যতালিকায়।