সৌদির ক্বারী, হায়দরাবাদের নিরাপত্তারক্ষী থেকে বিজেপি যোগ! লাগাতার বিতর্কে ‘খাবি খাচ্ছেন’ হুমায়ুন
শুরু থেকেই পরস্পর বিরোধী কথা বলেছেন হুমায়ুন। বারবার তাঁকে নিয়ে হাসাহাসিও হয়েছে। যার খেসারত তাঁকে দিতে হতে পারে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে।
আরও পড়ুন:
সদ্য প্রকাশ্যে আসা ভিডিও-টি কোনও এক বিজেপি নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের কথোপকথনের। ওই কথোপকথনে হুমায়ুন বলছেন, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। আমার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”
হুমায়ুন বলেন, “আমি অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন পাব। মোহন যাদব-শুভেন্দু অধিকারীরা আমাকে বলেছেন, আমাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে দেবে।” কিন্তু তাঁর পক্ষে ৭০-৮০ আসন পাওয়া সম্ভব কি? জবাবে হুমায়ুন বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আমি মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা ছেপে ফেলেছি। সেটার জন্য আমার কিছু টাকার দরকার। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা দরকার।”
আরও পড়ুন:
ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই হুমায়ুনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসরা একযোগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম রীতিমতো চড়া সুরে বলেন, “টাকার বিনিময়ে মুসলমানদের ভাবাবেগ নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলাটা অন্যায়। এটা পাপ। এর পরে ওই কুলাঙ্গার, কীট হুমায়ুনকে একটা ভোটও দেওয়া উচিত নয়।”
গত বছর ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় তথাকথিত ‘বাবরি’ মসজিদের শিলান্যাসের আগে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, তাঁর মসজিদ শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে দেশবিদেশ থেকে বহু অতিথি আসবেন। কর্মসূচিতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে আসছেন দুই ‘ক্বারী’ অর্থাৎ মক্কার ইমাম। সেই মতো দুই ইমামকে কেন্দ্রস্থলে রেখে পুরো কর্মসূচি হয়। পরে জানা যায় ওই দুই ইমাম বা ক্কারী আসলে বাংলারই বাসিন্দা। একজন মুর্শিদাবাদেরই দৌলতাবাদের বাসিন্দা সুফিয়া। দ্বিতীয় জন, শেখ আবদুল্লা পূর্ব মেদিনীপুরের...
যদিও হুমায়ুনের দাবি, তাঁকে অপদস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি সৌদির ইমাম আনার জন্যই এক মধ্যস্থতাকারীকে দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁর আসা যাওয়া থাকার খরচও ওই মধ্যস্থতাকারীকে দেন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন মক্কা থেকে দু’জন ক্কারীকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন সৌদি থেকে কোনও ক্কারী আসেননি। ওই দুজন রাজ্যেরই।
ক্কারীর পর দেহরক্ষী বিতর্ক। হুমায়ুন শুরুতে দাবি করেন, হায়দরাবাদ থেকে ৮ জন বাউন্সার এসেছেন তাঁর জন্য। কিন্তু পরে জানা যায় হায়দারবাদ থেকে যে ৮ জন বাউন্সার এসেছে বলে জানানো হয়েছিল, আদতে নাকি তারা কলকাতার। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন আজপ নেতা। তাঁর দাবি ছিল, ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি নাকি ফের প্রতারিত হয়েছেন। পরে অবশ্য হুমায়ুনকে কেন্দ্র সরকার নিরাপত্তা দেন।
১০ লক্ষ লোক নিয়ে ব্রিগেডে সভার দাবি! হুমায়ুন দাবি করেছিলেন তিনি নিজের দলের নাম প্রকাশ্যে আনবেন ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষকে নিয়ে জনসভা করে। কিন্তু পরে সেসব আর হয়নি। বেলডাঙায় কয়েক হাজার লোক নিয়েই সভা হয়। তাতে নাম প্রকাশ করেন দলের। প্রথম দিন যেসব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন পরে সেসব প্রার্থীদের অনেকেই নাম প্রত্যাহার করে নেন।
এ তো গেল প্রার্থী বিতর্ক। রাজ্যে কত আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি লড়বে, কাদের সঙ্গে জোট করবে, এসব নিয়েও বহু বিতর্ক হয়েছে। শুরুতে হুমায়ুন এক তরফা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কংগ্রেস, সিপিএম এবং আইএসএফকে জোটে নেবেন। কার জন্য কটা আসন ছাড়বেন সেটাও ঘোষণা করেন। যদিও পরে দেখা যায় মূল ধারার কোনও দলই তাঁর সঙ্গে জোটে রাজি নয়। শেষে AIMIM-এর সঙ্গে সমঝোতা করে ভোটে নেমেছে হুমায়ুনের দল।
রাজ্যে কত আসনে লড়বেন তিনি, কোন আসনে নিজে লড়বেন, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি কত আসন পাবে, এসব নিয়েও পরস্পর বিরোধী কথা বলেছেন হুমায়ুন। বারবার তাঁকে নিয়ে হাসাহাসিও হয়েছে। আসলে রাজনীতির অন্ধগলিতে ইদানিং খানিক খাবি খাচ্ছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। সবটাই নিজের অপরিণামদর্শিতা, এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য। যার খেসারত তাঁকে দিতে হতে পারে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে।