মৃতের হাড় গুঁড়ো করে স্যুপ, দেহ কেটে খাওয়ানো হয় শকুনকে! বিশ্বের ৫ হাড়হিম শেষকৃত্যের রীতি
কোথাও কোথাও দেহ নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার রীতিও রয়েছে।
প্রথমেই আসা যাক অঘোরি সাধুদের শেষকৃত্যের কথায়। সাধুর মৃত্যুর পর দেহটিকে মাথা নিচু করে এবং পা উপরে রেখে পদ্মাসনে উপবিষ্ট অবস্থায় সমাধি দেওয়া হয়। প্রায় মাসদেড়েকে এভাবেই রাখা হয় দেহ। তাতে পচন ধরে। নানা জীবাণু জন্মায় শরীরে। দেড় মাস পর মাথা ছাড়া বাকি অংশ গঙ্গায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়। তাতে অঘোরিদের পাপ গঙ্গায় ধুয়ে যায় বলেই বিশ্বাস।
আরও পড়ুন:
তিব্বতের 'স্কাই বিউরিয়াল' রীতিও বেশ ভয়ংকর। দেহ সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে মঠে বা নির্দিষ্ট স্থানে আনা হয়। ওঝা মন্ত্রপাঠ করেন। এরপর দেহটি পাখিদের খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়। শকুন সব মাংস খেয়ে নেয়। তারপর হাড়গুলি উদ্ধার করে গুঁড়ো করা হয়। ছাতুর সঙ্গে মিশিয়ে অন্য পাখিদের দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত পবিত্র ও গোপনীয়।
'সোকুশিনবুতসু' জাপানের প্রাচীন প্রথা। এই প্রক্রিয়ার একেবারে প্রথম ধাপ কঠোর উপবাস। বিষাক্ত চা পান করানো হয়। তারপর ওই ব্যক্তির জীবন্ত সমাধি তৈরি করা হয়। দেহ শুকিয়ে গেলে তা একটি ছোট কাঠের বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ধ্যানমগ্ন অবস্থায় সমাধিস্থ করা হয় তাঁকে। বাক্সে ছোট নল ও ঘণ্টা থাকে। ঘণ্টা বাজানো বন্ধ হলে নলটি খুলে ফেলা হয়। বাক্সটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
'ফামাদিহানা'ও হল ভয়ংকর সৎকার রীতি। মৃত ব্যক্তির দেহ কবর থেকে তুলে নতুন সিল্কের কাপড়ে মুড়ে নাচগান করা হয়। বাজানো হয় ঢাকঢোল। পচাগলা দেহ বা হাড় কোলে নিয়ে নাচেন পরিবারের লোকজন। এটি শোকের নয়, বরং পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান ও পরিবারকে একত্রিত করার উৎসব। প্রতি ৫ থেকে ৭ বছর পর এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসির 'তোরাজা' উপজাতির শেষকৃত্যও বেশ ভয়ংকর। মৃত ব্যক্তিকে মৃত মনে করেন না তাঁরা। বিশ্বাস করেন ব্যক্তিটি কেবল অসুস্থ। তাই দেহ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। মৃতদের পাথরের গুহায়, গাছের কোটরে বা পাহাড়ের গায়ে ঝুলন্ত কাঠের বাক্সে রাখা হয়। মাসের পর মাস বা বছর ধরে এভাবেই রাখা হয়। প্রতিদিন খাবার ও পানীয় দেওয়া হয়।