সঙ্ঘশ্রী সেনগুপ্ত: আমাদের পুজোয় বেশি কিছু ছিল না বটে। কিন্তু এত আনন্দ হত, বুকের কাছে খুশি টলমল করত। ছোট পিসি আসবে সপ্তমীর দিন। দিল্লি থেকে কালই পিসির চিঠি পৌঁছেছে। কী আনন্দ, ছোট্ট দুটো ভাই বোন আসবে! মাম্মা বলত, “মণি ওরা তোমারে দেইখ্যা শিখব, তুমি লক্ষী হইয়া থাইক্যো।” কী চাপ! কতটা ভালো হতে হবে, যাতে আমাকে দেখে ওরা আদর্শ দিদি ভাবতে পারে? ষষ্ঠীর দিন রান্নাঘরে নারকেল ভাঙা চলছে। সন্দেশ হবে। যার ছাঁচ দেশ থেকে এনেছে মাম্মা। আমাদের তো দেশ নেই, আছে একটা স্বপ্ন,সবই যেখানে একটু বেশি সুন্দর। নারকেলের সন্দেশ বানানোর আগের দিন গোলাপফুল ছাঁচ, প্রীতি নিও ছাঁচ, মনে রেখো ছাঁচ ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হত।
পরদিন কুড়ানিটায় একটু গঙ্গাজল দিয়ে কাচা শাড়ি পরে মা কাজ শুরু করত। ছোটখাটো নারকেলের পাহাড় তৈরি হত,তার পর বাটা হত ঠাকুরের শিলে। মাম্মাও শুদ্ধবস্ত্র পরে উনুনের ঢিমে আঁচে সেই নারকেল বাটা বসিয়ে দিত লোহার কড়াইতে। তৈরি হত সাদা ধবধবে সন্দেশ। কিচ্ছুটি ধরার উপায় নেই, সব যাবে মণ্ডপে, দুর্গাপুজোয় লাগবে তো। কিন্তু ওই যে নারকেল কুড়ানো, ওই যে কর্পূর মেশানো গন্ধ তার মানেই পুজো এসে গেছে ।
[আরও পড়ুন: সপ্তমীতে রাজ্যে এলেও সুকান্তর অনুরোধ রাখছেন না নাড্ডা! প্রশ্ন বিজেপির অন্দরে]
তারও আগে মাম্মার ঘরের বড় রেডিওটায় যখন গমগম করে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ বেজে উঠত আমাদের মফসসলে তখন থেকে পুজো শুরু হত। ঠিক করা ছিল, যখন ‘তব অচিন্ত্য রূপচরিত মহিমা’ শেষ হবে, আমরা চাদর নিয়ে বেরিয়ে পড়ব। বড়মাঠের বরফের মতো শিউলিফুল বিছিয়ে আছে। আরও পড়ছে টুপটুপ করে। সব ফুল জমা করতাম মণ্ডপে নিত্যপুজোর জায়গায়। যেখানে ঠাকুর বানানো হত, তার পাশে। একাজ করতে কেউ বলেনি আমাদের। আসলে এটাই ছিল পুজো আসার উত্তেজনা।
জামা তো হত দুটো বা তিনটে। তাও প্রত্যেকদিন ঘ্যানঘ্যান করে মাকে আলমারি থেকে বের করে দিতে বলতাম। আঙুল ছোঁয়াতাম জামাগুলোর ওপর। নাক ডুবিয়ে গন্ধ নিতাম। বলতাম, “মা,আর একবার পরে দেখি?” মা বলত, “দূর পাগলি, বার বার পরলে পুরনো হয়ে যাবে তো, তখন?” বিকেলবেলা কড় গুনে হিসাব করতাম, কার কটা জামা হল। টেনেটেনে এক-দুই-তিন বললেই যেন সংখ্যাটা বাড়বে।
[আরও পড়ুন: সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন পুজো পারফেক্ট ২০২৩: সেরা ১২ পুজো]
সপ্তমীতে আমরা সকাল থেকেই এক দৌড়ে মণ্ডপে। মায়ের মুখটা কেমন চকচক করত, ঠিক পিসিমণির মতো, বাপের বাড়ি এসেছে তো তাই। ঢাকিরা ঢাক বাজাচ্ছে, আজ কলা বৌ আনতে গঙ্গায় যাব। আমরা ছোটরাও, সকলে খুশি নতুন জামা পরে। আমার কিন্তু চোখে জল আসত! যাহ্ তাহলে পুজো এসেই গেল, মানে চারদিন পর চলেই যাবে। আবার একবছর অপেক্ষা। কুহু বলতো, কাঁদছিস নাকি? আমি বলতাম, ‘নাহ্ কিছু পড়েছে চোখে।’
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপ জ্বরে কাবু বাঙালির শাড়ির বাজারও! আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ডিজাইনার সিল্কের দাম জানেন?
-
রাম মন্দিরে চুরিতে অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপির, এবার বেফাঁস বিনয় কাটিহার-ব্রিজভূষণরা
-
রক্ষাকবচ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের, যেকোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন অভিষেক!
-
মহিলা বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলছেন রামমোহনের বংশধর! কে এই প্রিয়নাজ চ্যাটার্জি?
-
রিঙ্গার্স ল্যাকটেট মামলায় স্বস্তি, অবসরের পর সাসপেনশন প্রত্যাহার আলাউদ্দিনের