Advertisement
Advertisement
Aditi Munshi

শিক্ষিত মানুষের যদি এই ভাষা হয়, আর সে দায়িত্ব পায়, সেই সমাজের অবস্থা সত্যিই চিন্তার: অদিতি

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক হয়েছিলেন অদিতি মুন্সি। এছাড়াও তাঁর পরিচিতি সুমধুর ভক্তিগীতির জন্য। ধরা দিলেন অকপট প্রশ্নোত্তরে।

Advertisement
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ২১:০৯

link
বৃষ্টি ভাণ্ডারী
বৃষ্টি ভাণ্ডারী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ২১:০৯

options
link
শিক্ষিত মানুষের যদি এই ভাষা হয়, আর সে দায়িত্ব পায়, সেই সমাজের অবস্থা সত্যিই চিন্তার: অদিতি zoom

সঙ্গীতজগতের পরিচিত মুখ থেকে রাজনীতির ময়দানে নেত্রী, ২০২৬ নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থী। কী কী কাজ হয়েছে, ফের বিধায়ক হলে কী করবেন? সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে ভোটের খুঁটিনাটি নিয়ে মুখোমুখি অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi)।

প্রশ্ন: সদ্য মা হয়েছেন আপনি। সন্তান সামলে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন জোর কদমে, অনুভূতি কেমন?
উত্তর: অনুভূতির দিক থেকে কিছুটা হেকটিক। তবে আমার পরিবার যেহেতু সবরকমভাবে আমার পাশে রয়েছে, তাই এতগুলো কাজ একসঙ্গে সামলে উঠতে পারছি।
প্রশ্ন: আপনি এমন একজন প্রার্থী, যিনি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধীদের নিশানায় খুব একটা থাকেন না। বরং তাদের অভিযোগের তীর আপনার স্বামী দেবরাজের দিকেই। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
উত্তর: ওঁদের নিয়ে আমার খুব একটা কথা বলতে ভালো লাগে না, কারণ, কথা বলার জন্য, যাকে নিয়ে আলোচনা করব, তারও তো একটা বিশ্বাসযোগ্যতা দরকার। আমার তরফ থেকে সেই ক্রেডিবিলিটি মেলে না।

Advertisement

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Aditi Munshi

প্রশ্ন: আপনার প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারী, বেশ কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “অদিতি মুন্সি কী তাঁর স্বামীর দুর্নীতির দায়ও নেবেন? তিনিও কি তাঁর সঙ্গে জেলে যাবেন?”
উত্তর: একজন স্ত্রী হিসেবে, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওরা করছে, যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে, হ্যাঁ! আমিও আমার স্বামীর সঙ্গে জেলেও যেতে রাজি। কিন্তু ওঁরা কি প্রমাণ দিতে পারবে? মিথ্যাকে বহন করার মতো শক্তি কি তাদের আছে? যিনি উপরে আছেন, তিনি সব দেখছেন, সব শুনছেন।

প্রশ্ন: তরুণজ্যোতি আরও দাবি করেছেন যে, তৃণমূল অদিতি মুন্সির মুখকে ব্যবহার করছে।
উত্তর: আমি এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, যাদের ন্যূনতম সহবৎ নেই। ওঁদের শিক্ষা, রুচি, কথাবার্তা, শব্দচয়ন, কোনওটাই আমার সঙ্গে মেলে না। তাই ওঁদের নিয়ে আমি খুব একটা মন্তব্য করি না। আমি শুনেছি, তরুণজ্যোতি নাকি একজন বড় আইনজীবী। এত অভিযোগ তুলছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। আইনজীবী বলতে একজন শিক্ষিত মানুষকেই বুঝি। সমাজে যদি একজন শিক্ষিত মানুষের ভাষা এমন হয়, আর মানুষ যদি তাঁকে দায়িত্ব দেয়, তবে সেই সমাজের অবস্থা কী হবে, সত্যিই চিন্তার বিষয়।

“আমি বিশ্বাস করি, আমি সমাজকে যা দেব, সেটাই একদিন আমার কাছে ফিরে আসবে।চারদিকে যখন এত নেগেটিভিটি, তখন আমার সবসময় মনে হয়েছে, এক সেকেন্ডের হাসি বা একটি কথায় যদি কারও মন এক মুহূর্তের জন্যও ভালো হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই আমার গুরু-শিক্ষা।”

প্রশ্ন: ফের বিধায়ক হলে আপনার প্রথম কাজ কী হবে?
উত্তর: আমাদের অনেকগুলো কাজের অ্যাজেন্ডা রয়েছে। বিধানসভার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, আলো, জল। নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, যা প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে করে যেতে হয়। এর পাশাপাশি আমরা মূলত ফোকাস করছি আমাদের যুবসমাজের ওপর। আমাদের মনে হয়, অনেক প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে রয়েছে, যারা অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে না বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে না। কিন্তু মেধা কখনো অর্থের ওপর নির্ভর করে না। সেই প্রতিভাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা একটি ডেডিকেটেড ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন তৈরির পরিকল্পনা করেছি। এর পাশাপাশি, আমাদের এলাকায় অনেক পশুপ্রেমী মানুষ রয়েছেন। তাই একটি বেসিক ফার্স্ট-এইড সুবিধাসহ একটি মেডিকেল সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি, বাড়ি বা রাস্তায় থাকা পশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা যাতে দেওয়া যায়। আমি একজন মহিলা হিসেবে মনে করি, বাইরে কাজ করতে যাওয়া মহিলাদের জন্য ওয়াশরুমের অভাব একটি বড় সমস্যা। তাই জনবহুল ও কর্মস্থল ‘পিঙ্ক টয়লেট’ তৈরি করার ভাবনা রয়েছে। যেখানে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে এবং জরুরি সব সুবিধাও থাকবে। 

প্রশ্ন: জয়ী হবেন— এ নিয়ে আপনি নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাসী?
উত্তর: আমি আমার কাজে বিশ্বাসী। যেমন আমি আগেই বলেছি, আমি সবসময় ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। আমি আমার কাজ করে যাই, আর ফল তিনি দেন।
প্রশ্ন: ২০২৬-এর নির্বাচনে আমরা একটি ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করছি, আক্রমণাত্মক ভাষা এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। তবে অদিতি মুন্সির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নতুন নয়, এটা কি ব্যক্তি অদিতির স্বভাবেরই প্রতিফলন, নাকি সচেতনভাবে আপনি এই ধারা বজায় রাখেন?
উত্তর: এভাবে কিছু ‘অ্যাডপ্ট’ করা সহজ নয়। একদিন না একদিন তা প্রকাশ পেয়ে যায়। যারা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন, আজও আমি আমার গুরুদের শিক্ষাই অনুসরণ করি। আমি বিশ্বাস করি, আমি সমাজকে যা দেব, সেটাই একদিন আমার কাছে ফিরে আসবে।চারদিকে যখন এত নেগেটিভিটি, তখন আমার সবসময় মনে হয়েছে, এক সেকেন্ডের হাসি বা একটি কথায় যদি কারও মন এক মুহূর্তের জন্যও ভালো হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই আমার গুরু-শিক্ষা। তাই এটাকে আমি আলাদা করে ‘অ্যাডপ্ট’ করিনি, আমি এটাকে যাপন করি। আমি বরাবরই এমন, সবসময় এমনই থাকব। আর ভোটের লড়াই? সেটা তো ভোটের ময়দানেই দেখা যাবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.