Advertisement
Advertisement
Afrin Begum

ভোটের স্কিপার: অধিকার বুঝে নেওয়া প্রখর দাবিতে

ভোটের আগে প্রার্থীদের যে সম্পত্তির তালিকা প্রকাশিত হয়, সেখানে আফরিন জানিয়েছেন তাঁর স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। শূন্য– এদেশে খুব জরুরি সংখ্যা। কারণ বহু বহু মানুষ এই শূন্যের বলয়েই বেঁচে রয়েছেন। খাদ্য নেই, অর্থ নেই, স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই, বাসাবাড়ি নেই– এমন মানুষের সংখ্যা এ দেশে তো কম কিছু নয়। আফরিন নিঃসন্দেহে এদেশেরই এক অতিসাধারণ মানুষের পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকতে চাইবেন।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:১১

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:১১

options
link
ভোটের স্কিপার: অধিকার বুঝে নেওয়া প্রখর দাবিতে zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

‘লালের কাছে নতুন ঋণ/ সঙ্গে আছেন আজ আফরিন।’ না, বামেদের তরফে বালিগঞ্জের দেওয়ালে এমন কোনও লিখন দেখা গেল না। স্লোগানও না। কারণ বামেরা পুজো ও ব্যক্তিপুজো– কোনওটাতেই বিশ্বাস করে না। বরং, দিনেশ দাসের ওই কবিতা, ‘মাঝরাত্তিরে চাঁদের কাস্তে/ ধারালো হচ্ছে আস্তে আস্তে’– এতেই সম্ভবত বামেদের বিশ্বাস টিকে থাকবে। মাত্র ক’দিন আগে ইদ চলে গেল। আফরিন বেগম (Afrin Begum), এই ভোটে বামেদের কনিষ্ঠতম প্রার্থী, চাঁদের দিকে তাকিয়ে কি ভাবছিলেন দিনেশ দাসের এই কবিতা?

জন্ম খাস কলকাতায়, বালিগঞ্জে। এ বছর তিনি প্রার্থী হয়েছেন নিজের এলাকায়। লোকালয়ের যা যা সমস্যার কথা শুনছেন প্রচারের সময়, মনে হচ্ছে তা শুধুই এলাকার সমস্যা নয়। সমস্যাটা যেন তাঁর পরিবারেরই, নিজের সমস্যাই। এই ব্যাপারটাই তাঁর আশা-ভরসার জায়গা। ছাত্র-রাজনীতি করেছেন দীর্ঘকাল। এইবার দেখার যে, সেই অভিজ্ঞতায় পুষ্ট হয়ে বিধানসভা ভোটের আবহে তিনি কী করতে পারেন। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে সিপিআইএম বালিগঞ্জেই ছিল দ্বিতীয় নম্বরে। অর্থাৎ বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল বামেরা। সেখানে আফরিন বাম উত্থানের আশা করতেই পারেন।

Advertisement

আফরিন গবেষক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। বারেবারেই তিনি এসআইআর আর নির্বাচন কমিশনকে নানা বক্তব্যে একহাত নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রীতির পরিবেশ, দায়িত্ব সহকারে বিজেপি নষ্ট করছে– এই তাঁর সারকথা।

ভোটের আগে প্রার্থীদের যে সম্পত্তির তালিকা প্রকাশিত হয়, সেখানে আফরিন জানিয়েছেন তাঁর স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। শূন্য– এদেশে খুব জরুরি সংখ্যা। কারণ বহু বহু মানুষ এই শূন্যের বলয়েই বেঁচে রয়েছেন। খাদ্য নেই, অর্থ নেই, স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই, বাসাবাড়ি নেই– এমন মানুষের সংখ্যা এ দেশে তো কম কিছু নয়। আফরিন নিঃসন্দেহে এদেশেরই এক অতিসাধারণ মানুষের পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকতে চাইবেন। তবে চাইবেন এই পরিস্থিতি বদলাক। বদলে যাক তাঁদের দিন আনি দিন খাইয়ের মধ্যে থাকা দুঃস্বপ্নগুলোকে। একজন বামকর্মী হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই এই শূন্য নিয়ে হতাশ নন।

আফরিন গবেষক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। বারেবারেই তিনি এসআইআর আর নির্বাচন কমিশনকে নানা বক্তব্যে একহাত নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রীতির পরিবেশ, দায়িত্ব সহকারে বিজেপি নষ্ট করছে– এই তাঁর সারকথা। এসআইআর হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে বারবার করে বিজেপি এক ধরনের ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করেছিল। তাদের হাতিয়ার ছিল ‘রোহিঙ্গা’– এই ট্যাগ দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো, মানুষের প্রতি মানুষের সন্দেহ তৈরি করা। এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেকথা স্মরণ করে আফরিন বলেছেন, ‘কোথায় সেই রোহিঙ্গারা?’ মাঝখান থেকে অকারণে প্রচুর লোক সংশয়ে ভুগলেন! আত্মহত্যা পর্যন্ত করলেন অনেকে! আফরিনের এই প্রতিনিধিত্ব আসলে এই সব মানুষের হয়েও।

আফরিন মনে করেন কোনও প্রার্থীই আসলে ‘হেভিওয়েট’ নন। হেভিওয়েট আদপে মানুষ। যে কোনও স্কিপারেরই তো এমনটাই ভাবা উচিত! আফরিন আশাবাদী– মানুষের হাতেই একদিন আবারও দেখা যাবে লাল পতাকা। লাল মিছিলে মানুষ আবার রুখে দাঁড়াবে।

এক জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এসে তিনি বলেছেন, এবার যাঁরা ভোট দেবেন তাঁরা যেন মনে রাখেন ভোট দিতে না-পারা মানুষের কথা। কাদের জন্য তাঁরা এই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন– এবারের ভোট আসলে সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট। শুধু এই-ই নয়। ভোটের সময় যে কেন্দ্রীয় বাহিনি আসবে, এ বছর নিয়ম জারি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনির বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর করা যাবে না। তিনি স্পষ্টত কেন্দ্রের এই স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধেও সরব। স্বাভাবিকভাবেই তিনি, স্রেফ বিজেপির বিরুদ্ধে নয়। তৃণমূল সরকারের প্রতি তাঁর রোষ যথেষ্টই। বারবার স্মরণ করিয়ে দেন, বামফ্রন্ট আমলে কখনও বিজেপির বাড়বাড়ন্ত হয়নি। আজকের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক দ্বেষের নেপথ্যে বিজেপির যে দাদাগিরি, তা তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক ফ্যালাসি।

আফরিন মনে করেন কোনও প্রার্থীই আসলে ‘হেভিওয়েট’ নন। হেভিওয়েট আদপে মানুষ। যে কোনও স্কিপারেরই তো এমনটাই ভাবা উচিত! আফরিন আশাবাদী– মানুষের হাতেই একদিন আবারও দেখা যাবে লাল পতাকা। লাল মিছিলে মানুষ আবার রুখে দাঁড়াবে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকার আগে, যে-দেওয়াল লিখন, সেখানে থাকবে লড়াইয়ের কথাই। এভাবেই এ কলকাতায় বেড়ে ওঠার ঋণ, চুকিয়ে দিতে চান বেগম আফরিন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.