Advertisement
Advertisement
Dipsita Dhar

ভোটের স্কিপার: বাকপটু দীপ্সিতা বামেদের জট খুলবেন?

দীপ্সিতা মনে করেন না, এই ৩৪ বছরের রাজত্বে বামেদের কোনও ভুল নেই। সদ্যপ্রয়াত অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি বাম সমর্থক– কিন্তু এই সত্য জেনে যে, বামেদেরও নানা ভুল রয়েছে। দীপ্সিতাও নানা সময়ে বামেদের নানা ভুল প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু বিশ্বাস করেছেন যে সেই ভুল বামেরা শুধরে নিতে পারে।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১২:৫২

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১২:৫২

options
link
ভোটের স্কিপার: বাকপটু দীপ্সিতা বামেদের জট খুলবেন? zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। সংক্ষেপে ‘দিদি’, ওরফে ‘ডিডি’। ‘DD-কে বলো’ এই স্লোগানে বর্তমানে বিখ্যাত। এতদিন যে-যে মৌলিকতার কারণে বামেদের খ্যাতি ছিল, তা টিকে রইল তো বটেই, নতুন করে এই ‘DD-কে বলো-র কারণে খ্যাতি জুটল কপালে। দীপ্সিতা ধর, যাঁরা তাঁকে ফলোটলো করেন দিব্য জানবেন যে, যে-কোনও মুহূর্তে তিনি কড়কে দিতে পারবেন। কথাবার্তায় সতর্ক, ভানহীন। এক্কেবারে স্পষ্ট ঝকঝকে রাজনৈতিক অভিব্যক্তি তাঁর। যুক্তির প্রবল বিক্রমে বিপক্ষ যে কোনও দিন ধরাশায়ী হয়ে পড়তে পারে। বামেদের যে ক’জন পুরনো ঘরানার, যাঁদের মধ্যে আদি বাম গন্ধ রয়েছে, যাঁরা প্রায়শই ঝুঁকে পড়ে সত্যিকারের আমমানুষের প্রতি, যাঁদের গায়ের গন্ধে কোনও ডিওড্রেন্ট নেই– দীপ্সিতা সেই সব মানুষের হয়ে, সেইসব মানুষের পক্ষে চিরকাল সওয়াল করেছেন।

দীপ্সিতা, বারবার, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথাও বলেছেন নানা সাক্ষাৎকারে। সে অর্থে কালো মানুষদের ‘সেক্সি’, ‘স্টানিং’ ইত্যাদি নানা অভিধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনও দিনই ‌‘সুন্দরী’ বলা হয়নি। দীপ্সিতাকে নানা কথার আবডালে না-জড়িয়ে খুব স্পষ্ট করেই বলতে চাই তিনি চমৎকার সুন্দরী। শুধুমাত্র তাঁর বাহ্যিক রূপে নয়, তাঁর বক্তব্যে মুগ্ধ হওয়ার মতো লোকও আমার ধারণা কম কিছু নেই। দুঃখের ব্যাপার, দীপ্সিতার সঙ্গে তাঁদের হয়তো বা এখনও তেমন দেখাসাক্ষাৎ হয়ে ওঠেনি।

Advertisement

দীপ্সিতা, সেই ঘরানার বামপন্থী, যে বামপন্থায় মেঘ কালো করে আসেনি। ঝকঝকে হাসির এই স্কিপার বর্তমানে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় যুগ্ম-সম্পাদক। দমদম উত্তর থেকে তিনি বাম প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। প্রচারাভিযানে, তাঁর সঙ্গে আমমানুষের কথোপকথন, ভালোবাসা দেখে বামমানুষদের আশা জাগে বইকি।

দীপ্সিতা মনে করেন না, এই ৩৪ বছরের রাজত্বে বামেদের কোনও ভুল নেই। সদ্যপ্রয়াত অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি বাম সমর্থক– কিন্তু এই সত্য জেনে যে, বামেদেরও নানা ভুল রয়েছে। দীপ্সিতাও নানা সময়ে বামেদের নানা ভুল প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু বিশ্বাস করেছেন যে সেই ভুল বামেরা শুধরে নিতে পারে। বামেদের যে সমস্ত তরুণ তুর্কির প্রতি সাধারণ মানুষ অল্প হলেও বিশ্বাসের প্রতিমা তৈরি করতে শুরু করেছেন, তাঁদের মধ্যে খুব নিশ্চিতভাবেই রয়েছেন দীপ্সিতা।

তিনি চিরকালই ‘বাড়ির মেয়ে’। বাঙালির নিজের। সে অর্থে কোনও ‘সেলেব্রিটি’ আদবকায়দা তাঁর নেই। এমনকী, তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, ‘ দু’বছর আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এই বছর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য— পরপর দু’বার হেভিওয়েট প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কেমনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন?’ তিনি উত্তর দেন: ‘আমাদের লড়াই তো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়। আমরা ‘আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল’ লড়ছি। একটা নির্দিষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে নিকাশী, জমা জল, রাস্তাঘাটের অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছে আমাদের। কিন্তু একজন মন্ত্রীর কেন্দ্রে তো আরও অ্যাডভান্সড কিছু দাবি করার কথা তাদের! সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কানেক্টিং ফ্লাইওভার, বা কলেজ-ইউনিভার্সিটির দাবি করতে পারেন সাধারণ মানুষ! কিন্তু তা তো হচ্ছে না! এখনও তাঁরা বলছেন, এখানে নর্দমা পরিষ্কার হয় না! অথচ সেই খালের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।’

বোঝাই যায়, দীপ্সিতা, সেই ঘরানার বামপন্থী, যে বামপন্থায় মেঘ কালো করে আসেনি। ঝকঝকে হাসির এই স্কিপার বর্তমানে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় যুগ্ম-সম্পাদক। দমদম উত্তর থেকে তিনি বাম প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। প্রচারাভিযানে, তাঁর সঙ্গে আমমানুষের কথোপকথন, ভালোবাসা দেখে বামমানুষদের আশা জাগে বইকি।

কিন্তু স্কিপার হিসেবে তিনি কতটা পরিণত? মানুষ কতটা বিশ্বাস করতে পারবেন ঝকমকে দীপ্সিতাকে? উত্তর দেবে ৪ মে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.