Advertisement
Advertisement
Ashok Dinda

ভোটের স্কিপার: বাংলার ক্রিকেট নিয়ে সরব, কিন্তু বিধায়ক হিসেবে ডুমুরের ফুল!

২০২১ সালের ভোটের আগে তিনি টুইট করেছিলেন: ‘আর নয় রাজনৈতিক হত্যা। আসবে অশান্তি। শান্তির বার্তা নিয়ে বঙ্গে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীজি। এবার আসবে আসল পরিবর্তন।’ ‘আসবে অশান্তি’! কী মুশকিল, যা লিখেছেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি একবার দেখবেনও না! এই বাংলা লেখার হাল নিয়ে বাংলা দখলের পরিকল্পনা করেন কী করে!

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ২০:০৩

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ২০:০৩

options
link
ভোটের স্কিপার: বাংলার ক্রিকেট নিয়ে সরব, কিন্তু বিধায়ক হিসেবে ডুমুরের ফুল! zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ডুমুরের ফুল, সব জায়গায় না। নিজের এলাকা, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায়। ২০২১ সালের ভোটে (West Bengal Assembly Election) জিতে দিব্যি বছর পাঁচেকের জন্য বিধায়ক পদে আসীন ছিলেন। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নামতে এক বৃদ্ধ রীতিমতো পাকড়াও করে ঝেড়ে দিলেন। কী কেস? তাঁকে এলাকায় দেখাই যায় না। সমস্যার কথা জানাবেন কাকে! ফলে বেকায়দায় অশোক দিন্দা (Ashok Dinda)। তিনি যতই লংজাম্প দিয়ে বল করুন না কেন, শচীন তাঁকে যেমন ধুনে দিয়েছিলেন– এই বৃদ্ধও তাই। কপাল খারাপ যে, আমনে-সামনে পড়ে গিয়েছেন। যতই বিধায়ক হও, যতই জাতীয় দলের ফাস্ট বোলার হও না কেন, ভোটের বাজারে আমমানুষের ক্ষোভ শুনতেই হবে। ভোটের সময়, কারণ এর বাইরে এলাকায় কোথায় পাওয়া যাবে বিধায়কদের? কিছু ব্যতিক্রমী নেতানেত্রী আছেন বটে, কিন্তু অশোক দিন্দা তাঁদের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই পড়েন না।

২০২৫ সালে নবান্ন অভিযানে পুলিশকে কটূক্তি ও হেনস্তার কেস গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। আবার অভয়া আন্দোলন চলাকালীন জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, স্রেফ স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। মনে রাখতে হয়, ৪২ দিন ধরে চলেছিল কর্মবিরতি। শেষে অনশনও। প্রচুর মানুষ, জনতার ভিড় ছিল তাঁদের পাশে। সেই পরিস্থিতিতে কেন যে অশোর দিন্দা এমন ভাবুক হয়ে পড়লেন, কে জানে!

অশোক দিন্দা জিতেছিলেন। কিন্তু জিতেও তেমন কিছু করতে পারেননি। বারেবারেই একালের অপভাষায় ‘ছড়িয়ে ফেলেছেন’। ২০২১ সালের ভোটের আগে তিনি টুইট করেছিলেন: ‘আর নয় রাজনৈতিক হত্যা। আসবে অশান্তি। শান্তির বার্তা নিয়ে বঙ্গে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীজি। এবার আসবে আসল পরিবর্তন।’ ‘আসবে অশান্তি’! কী মুশকিল, যা লিখেছেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি একবার দেখবেনও না! এই বাংলা লেখার হাল নিয়ে বাংলা দখলের পরিকল্পনা করেন কী করে!

Advertisement

তবে এই যে ময়নায়, তাঁর এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে বৃদ্ধের কাছ থেকে বকা খেয়ে থতমত অশোক দিন্দা– তিনি সবসময় অবশ্য এইরকম ভদ্রলোকোচিত কাজ করেন না। মনে পড়বে আপনাদের, ২০২৫ সালে নবান্ন অভিযানে পুলিশকে কটূক্তি ও হেনস্তার কেস গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। আবার অভয়া আন্দোলন চলাকালীন জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, স্রেফ স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। মনে রাখতে হয়, ৪২ দিন ধরে চলেছিল কর্মবিরতি। শেষে অনশনও। প্রচুর মানুষ, জনতার ভিড় ছিল তাঁদের পাশে। সেই পরিস্থিতিতে কেন যে অশোর দিন্দা এমন ভাবুক হয়ে পড়লেন, কে জানে!

বাংলার ক্রিকেটাররা কেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে চান্স পাবেন না, সে নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি! যদিও একবার আইপিএল-এ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে একটি বাই-সহ শেষ ওভারে তিনি ৩০টি রান দিয়েছিলেন। বাংলার খেলোয়াড়রা নিশ্চয়ই তাঁর মতো উদাহরণ হতে চাইবেন না।

জাতীয় দলে বলের কনট্রোল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বারবার। লাইন-লেংথ কিছুতেই ঠিক থাকেনি। বাংলার হয়ে তিনি অবশ্য সাফল্য পেয়েছেন। বাংলার ক্রিকেটাররা কেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে চান্স পাবেন না, সে নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি! যদিও একবার আইপিএল-এ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে একটি বাই-সহ শেষ ওভারে তিনি ৩০টি রান দিয়েছিলেন। বাংলার খেলোয়াড়রা নিশ্চয়ই তাঁর মতো উদাহরণ হতে চাইবেন না। মনে পড়ে, সঞ্জয় মঞ্জরেকর, ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রবল মার খাওয়া বোলারদের তারপর থেকে ‘দিন্দা অ্যাকাডেমি’ বলতে শুরু করেন। যা পরবর্তীকালে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও অশোক দিন্দার বোলিং গড় ততটাও খারাপ না, যতটা তিনি ট্রোলড। তবে কে-ই বা স্কোর দেখে ক্রিকেট মনে রাখেন!

রাজনীতি যদিও ক্রিকেট নয়। এখানে স্কোর বড় ফ্যাক্টর। অশোক দিন্দার স্কিপার হিসেবে স্কোর কিন্তু প্রথমবার নেমেই চমৎকার। এখন দেখার, নিজের গড়ে গত পাঁচ বছর ডুমুরের ফুল হওয়া সত্ত্বেও আবারও কি তিনি জনগণের ভালোবাসা পাবেন! সময় উত্তর দেবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.