Advertisement
Advertisement
Ritabrata Banerjee

ভোটের স্কিপার: এমন পার্টিজান আর কে আছে!

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বলছিলেন ক’দিন আগেই, তাঁকে যদি পার্টি চেয়ার মুছতেও বলে, তাহলে তিনি ১০০ শতাংশ মন দিয়ে সেটাই করবেন। তিনি দিনের শেষে পার্টিজান। কোনও দিন চাকরি করেননি। রাজনীতিই একমাত্র পেশা।

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৯:৫৮

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৯:৫৮

options
link
ভোটের স্কিপার: এমন পার্টিজান আর কে আছে! zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

এককালে বাম ঘাঁটির লোক। পরে বাম ভোলে, ওরফে, বহিষ্কার করে। ২০১৭ সালে, পার্টির নিয়ম লঙ্ঘন ও তথ্যফাঁসের অভিযোগে বহিষ্কার। তাতে কী ছাই! চেতনার রঙে পান্না সবুজ হয়ে আজ তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি।

বামেদের হ্যাটা করে দিব্যি গনগনে বক্তৃতা ঝাড়েন। বাঙালির প্রতি বিজেপির আলগা পিরিতকেও একহাত নেন নিজের বক্তিমেতে। মনে পড়ে, সংবাদমাধ্যমের সামনেই, সিপিএমে থাকাকালীনই স্বয়ং মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে কথা বলতে ডরায়নি এই বান্দা। কিন্তু এই ‘ঝুঁকেগা নেহি শালা’ গোছের রাজনৈতিক জন্মদাগ যা সিপিএমের কালে তাঁর চরিত্রে দগদগে সাঁটা ছিল, তা কি এখনও আছে? সন্দেহ হয়।

Advertisement

তেড়ে অভিযোগ করেছেন ঋতব্রত, ‘‘যখন যাঁকে প্রয়োজন, কখনও আব্বাস, কখনও নওসাদ, কখনও হুমায়ুন কবীর– সেলিম ব্যবহার করেছেন। হুমায়ুন কবীরের মতো ‘এলিমেন্ট’ বলছেন, সিপিএমকে জেতানো আমার লক্ষ্য নয়, সেলিম সাহেবকে জেতানোটা আমার লক্ষ্য।’’

অবশ্য নেড়া ক’বারই বা বেলতলায় যায়। গেলেও নির্ঘাত হেলমেট পরেই যায়। ফলে যে-কারণে একদল থেকে তিনি বহিষ্কৃত, সে কাজ আবারও অন্য দলে ঘটাবেন, এ নিতান্তই দুরাশা। তবুও, রাজনৈতিক রেওয়াজ অনুযায়ী বিপক্ষকে তিনি ক্ষুরবাক্যে তুলোধোনা করবেন, এ আর নতুন কী। তাছাড়া, পুরনো পার্টিজানদের ঘাঁতঘোঁত তাঁর চেনা। ফলে ইদানীং মহম্মদ সেলিমের বাড়া ভাতে ছাই দিচ্ছেন তিনি। সংবাদ প্রতিদিন.ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেড়ে অভিযোগ করেছেন, ‘‘যখন যাঁকে প্রয়োজন, কখনও আব্বাস, কখনও নওসাদ, কখনও হুমায়ুন কবীর– সেলিম ব্যবহার করেছেন। হুমায়ুন কবীরের মতো ‘এলিমেন্ট’ বলছেন, সিপিএমকে জেতানো আমার লক্ষ্য নয়, সেলিম সাহেবকে জেতানোটা আমার লক্ষ্য।’’ মহম্মদ সেলিমকে ‘কমিউনাল’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি! এমনকী, আজকের এই বাম-রাম জোটের যে তত্ত্ব, তার কারিগর হিসেবে মহম্মদ সেলিমকেই দায়ী করেছেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী ইত্যাদিকে বিরোধীরা অনেক সময়ই ‘ভিক্ষা’ বলে দেগে দিচ্ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিরোধীদের অর্থনীতির নানা প্যাঁচালো সূত্রে ফেলে দেখিয়ে দিয়েছেন একে আসলে ‘তোষণ’ বলে না মোটেই। প্রান্তিক মানুষের হাতে টাকা পৌঁছলে যে অর্থনীতিই শক্তিশালী হয়, সে কথা বারবার মনে করিয়েছেন।

বিধানসভার ভোটে (West Bengal Assembly Election) এই প্রথম ঋতব্রত। দাঁড়িয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে। নিজেকে বলেন ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে পলিটিক্যাল’। তা অবশ্য মানতেই হবে। কোনওকালেই চাকরি করেননি তিনি। পেশা হিসেবে রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছিলেন তরুণ বয়স থেকে। রোজ একটা নতুন দিন, রোজ একটা নতুন রাজনৈতিক লড়াই– এই বিশ্বাস তাঁর। এসআইআর পরবর্তীকালে উলুবেড়িয়া পূর্বের ভোটারদের কী পরিস্থিতি? ১৮ হাজার মানুষ সেখানে এখনও ‘বিচারাধীন’। ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) এই সংখ্যাতত্ত্ব আরও খতিয়ে দেখে বলেছেন, ‘৮৫ শতাংশ মানুষই সংখ্যালঘু।’ এই ভোটের বাজারে বিজেপির বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশনের গাজোয়ারির বিরুদ্ধে অনর্গল কথা বলেছেন তিনি। ৪৬ বসন্তে কোনওকালে যে হিন্দু ভোটার, মুসলমান ভোটার– এ হেন দু’জোড়া শব্দ শোনেননি, জানিয়েছেন। এই ভেদাভেদের বঙ্গীয়করণ যিনি ঘটিয়েছেন, তিনি শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল সরকারের নানা প্রকল্প, যার সঙ্গে টাকার লেনদেন রয়েছে– যেমন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী ইত্যাদিকে বিরোধীরা অনেক সময়ই ‘ভিক্ষা’ বলে দেগে দিচ্ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) সেই বিরোধীদের অর্থনীতির নানা প্যাঁচালো সূত্রে ফেলে দেখিয়ে দিয়েছেন একে আসলে ‘তোষণ’ বলে না মোটেই। প্রান্তিক মানুষের হাতে টাকা পৌঁছলে যে অর্থনীতিই শক্তিশালী হয়, সে কথা বারবার মনে করিয়েছেন।

বারবার ট্রোল হয়েছেন তিনি। তবে, ট্রোলে ভয় পান না ঋতব্রত। কারণ বিশ্বাস করেন ট্রোল ভোটের বিচারক নয়। কনফিডেন্সের এমন আঁটসাঁট মাস্‌ল থাকলে, তবেই না স্কিপার!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.