৬ মাঘ  ১৪২৬  সোমবার ২০ জানুয়ারি ২০২০ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

৬ মাঘ  ১৪২৬  সোমবার ২০ জানুয়ারি ২০২০ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বড় বড় কার্ডবোর্ডের বাক্স, শুষ্ক বরফ দিয়ে মোড়া। বন্দরে বাক্সগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে ওর ভিতরে কী আছে। কিন্তু যা আছে, তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তা দিয়ে নতুন রূপ ফিরে পাবেন নিউজিল্যান্ডের অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় দগ্ধ হয়ে যাওয়া মানুষজন। আট হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার ওহাইয়ো থেকে এসব বাক্সে চামড়া এসে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ডে। এই চিকিৎসার সামগ্রিক দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার পিটার ওয়াটসন জানাচ্ছেন, ওহাইয়োর ওই টিস্যু ব্যাংক থেকে প্রায় ১৩০০ বর্গ ফুট চামড়া আনানো হয়েছে গ্রাফটিংয়ের জন্য। এভাবেই একটা প্রাকৃতিক ঘটনা ঘিরে মিলেমিশে যাচ্ছে দুই মহাদেশের দুই প্রান্ত।

গত সপ্তাহে বেড়াতে গিয়ে হোয়াইট দ্বীপে অগ্ন্যুৎপাতের জেরে বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের ৪৭ জন পর্যটক। তপ্ত লাভাস্রোতে তাঁদের মধ্যে অনেকের শরীর এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে প্রিয়জনকে চিনতে পারছেন না আত্মীয়রাও। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরাও বুঝতে পেরেছিলেন, ওই সব দগ্ধ রোগীকে পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে যে পরিমাণ চামড়া প্রয়োজন, তা তাঁদের সংগ্রহে নেই। তাই বাধ্য হয়ে ওহাইয়োর কমিউনিটি টিস্যু সার্ভিসে জরুরি ফোন করে চামড়া আনাতে হচ্ছে। তা দিয়ে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ ব্যক্তিকে নতুন রূপ দেওয়া যাবে। সংস্থার মুখ্য আধিকারিক ডায়ান উইলসনের কথায়, ”এই বিপর্যয় সামাল দিতে প্রচুর পরিমাণ চামড়া দরকার। আমরা সৌভাগ্যবান যে এত পরিমাণ চামড়া আমাদের সংগ্রহে ছিল, আমরা তা দিতে পেরেছি।”

[ আরও পড়ুন: ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, পর্যটকদের সতর্ক করল ফ্রান্স, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ]

নিউজিল্যান্ডের এই বিপর্যয়ে সে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ওহাইয়োর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াও নিজেদের সংগ্রহে থাকা ২০ বর্গ ফুট চামড়া দিয়েছে, দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য। তৈরি হয়েছে দক্ষ, প্রশিক্ষিত একটি দলও প্রস্তুত হচ্ছে গ্রাফটিংয়ের কাজ করতে। এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসক মহল একটি বিষয় নিয়েই চিন্তিত। এই দগ্ধদের সুস্থ করে তোলা যাবে কি না। এমনিতে সাধারণত মানবশরীরে বৃহৎ অঙ্গ থেকে চামড়া নিয়ে গ্রাফটিংয়ের কাজ হয়। ১০ থেকে ২০ বর্গ ফুট চামড়ায় ঢাকা থাকে পূর্ণবয়স্ক নারী বা পুরুষের শরীর। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রত্যেকের শরীরের অন্তত ৫০ শতাংশ দগ্ধ। তাই কোনও অংশ থেকেই চামড়া নিয়েই অন্যত্র গ্রাফটিং সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্লাস্টিক সার্জেন্ট ব্র্যাংকো বোজোভিক, যিনি মূলত ছোটদের সার্জারির দায়িত্বে রয়েছেন।

বাইরে থেকে এর জন্য চামড়া আনতে গেলে যে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, তা নিয়েও চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের কপালে। ওহাইয়ো থেকে ৩০-৪০ টি চামড়ার টুকরো পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ডের বন্দরে। আর ৬০ পাউন্ড শুষ্ক বরফে মোড়া অবস্থায় সাবধানে আনতে হয়েছে। সেটা অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত পৌঁছনোর জন্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তাও চিন্তার। 

[ আরও পড়ুন: ‘খবর জোগাড়ের জন‌্য যৌন সম্পর্কে জড়ান মহিলারা’, দাবি টেলিভিশন সঞ্চালকের]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং