Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Purulia

মাথার দাম ছিল ১ কোটি, ৪০ বছর জঙ্গল যুদ্ধ শেষে বাংলায় পুলিশের জালে শীর্ষ মাও নেতা

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম ৮০-র দশকে ছাত্র জীবন থেকেই অতি বামপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে পড়েন।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:৫৬

link
অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:৫৬

options
link
মাথার দাম ছিল ১ কোটি, ৪০ বছর জঙ্গল যুদ্ধ শেষে বাংলায় পুলিশের জালে শীর্ষ মাও নেতা zoom
গ্রেপ্তার শীর্ষ মাওবাদী আকাশ।
Advertisement

চার দশকের অবসান। বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা পুলিশের ত্রাস চার দশক পর গ্রেপ্তার এই বঙ্গেই। পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নিতে গিয়েই কলকাতা টাস্ক ফোর্সের জালে সিপিআই (মাওবাদী)-র এক মাত্র সক্রিয় সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। আকাশের গ্রেপ্তারি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য পুলিশের। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে দুটি ব্যাগ। যার মধ্যে মাও পুস্তক-পুস্তিকা, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম রয়েছে বলে খবর। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

আকাশের স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনিও সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জেলেই আছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম ৮০-র দশকে ছাত্র জীবন থেকেই অতি বামপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে পড়েন। পরে পিডব্লুজি-র সদস্য হন। ওই সময় তিনি বাংলার সারেঙ্গা, গোয়ালতোড় এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকায় দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজ করেন। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) গঠন হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে পুরোদমে কাজ শুরু করেন। লালগড় আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল তাঁর। ফলে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। এছাড়াও বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তবে কিষানজির মৃত্যুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এরপরেই জঙ্গলমহল থেকে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সদলবলে ফেরার সময় ৪ আগস্ট ঝাড়খণ্ড পুলিশের জালে তিনজন গ্রেপ্তার হন। একজন আত্মসমর্পণ করেন। তারপরেই বঙ্গ ব্রিগেডের সামরিক বাহিনী নিজের হাতে ভেঙে দেন। ৬৪-র অসীম মণ্ডল উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমর ব্যথার কারণে ৪০ বছর পর অবশেষে ১৩-১৪ আগস্ট জঙ্গলে একে ৪৭-সহ কিছু নথিপত্র রেখে গাড়ি ধরে বেরিয়ে যান। তার পর শচিন, মিতা , জবারাও এই রাজ্যের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তাঁরা সকলেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, আকাশ কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ করবেন না। পাশাপশি কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি ঠিক হলে পরিকল্পনা ছিল ফের জঙ্গলমহলে ফিরে আসার। তাই তো তাঁর দেহরক্ষী মঙ্গল এবং তাঁর স্ত্রী মালতী এখনও জঙ্গলেই রয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, আটকের আগে আকাশের কাছে নগদ দেড় লাখ টাকার মতো ছিল। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু পরিচিত এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছেও আত্মগোপন করার কথা ভেবেও সন্দেহের বসে বিভিন্ন জায়গা বদল করে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

পুলিশের সূত্রে খবর, আকাশের স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনিও সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জেলেই আছেন। আকাশের গ্রেপ্তারিতে স্বস্তি পেল বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা পুলিশ-সহ মাও দমনে কাজ করা

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.