নরেন্দ্র মোদি প্রথম সাক্ষাতেই আমাকে এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী করে তোলেন। তখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর যখন দেশের প্রশাসনিক প্রধান হলেন, তখনও তাঁর চিন্তাদর্শন বদলায়নি। ভারতকে উন্নত অর্থনীতি করতে চান। প্রত্যেক ভারতীয়র জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে চান। লেখক, নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও, অমিতাভ কান্ত।
ভারতের প্রথম ‘গ্রিন ফিল্ড’ শহর গড়ে তোলার যে-উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না– সেই আশা আমি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। সে-সময় আমি ‘দিল্লি-মুম্বই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর সিইও রূপে ভারতের শিল্প-ভিত্তিক নগরায়ণের পরবর্তী ধাপটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলাম। প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; তাঁদের যুক্তি ছিল, এমন প্রকল্পের জন্য ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নির্দিষ্ট করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল একটি বিষয়। এরপর আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলাম। নরেন্দ্র মোদি আমার কথা শুনলেন, ৫ মিনিট সময় নিয়ে ভাবলেন এবং বললেন, ‘১৫০ বর্গকিলোমিটার তো খুবই কম।’
আরও পড়ুন:
তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘যদি স্বপ্ন দেখতেই হয়, তবে বড় স্বপ্নই দেখো।’ মুখ্যমন্ত্রী মোদি ৭৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেওয়ার প্রস্তাব করলেন। এরপর ২০০৯ সালের মধ্যে গুজরাট সরকার ‘স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন’ (‘এসআইআর’) আইন প্রণয়ন করল এবং ‘মাস্টার প্ল্যান’ বা মহা পরিকল্পনা-সহ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধোলেরা এসআইআর’-এর ঘোষণা করল। সেই প্রথম কথোপকথনটিই তাঁর চিন্তাধারার বিশালতা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিল। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যাপক। তিনি জমিকে কোনও সীমাবদ্ধতা বা কোনও প্রকল্পকে বিচ্ছিন্ন কোনও উদ্যোগ রূপে দেখতেন না। বরং গুজরাট এবং কালক্রমে সমগ্র ভারতের জন্য অগ্রগতির এক নতুন চালিকাশক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। কর্মজীবনে যতজন দূরদর্শী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার নেতার সংস্পর্শে এসেছি– তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিছুকাল পরে দু’টি ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিট’-এ অংশ নিই এবং একটি উন্নত, গতিশীল ও বিশ্বমানের রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অদম্য আগ্রহ ও নিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করি। চেয়েছিলেন গুজরাট যেন এ দেশের সবচেয়ে উন্নত রাজ্যে পরিণত হয়; আর অসাধারণ স্বচ্ছতা ও উদ্দীপনা নিয়ে তিনি সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে গিয়েছেন।
২০১৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রে নতুন সরকার ক্ষমতায় এল। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রূপে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তৎকালীন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি অ্যান্ড প্রোমোশন’-এর সচিব মনোনীত হলাম। বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৪২তম দেখে হতাশ হয়েছিলেন। আমাদের একটিমাত্র ‘লক্ষ্য’-র প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন– নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতকে আরও সহজ, সরল ও দক্ষ করে তোলা। এভাবেই বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরে শুরু হল সেই কঠোর কর্মযজ্ঞ। ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড দেউলিয়া বিষয়ক কোড’, পণ্য ও পরিষেবা কর এবং সেকেলে নিয়মকানুন, পদ্ধতি ও আইন বাতিলের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন দফতরের মানসিকতা পরিবর্তন করা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা অবিচল থেকেছি এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি; কারণ খোদ প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফলে ভারত র্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল।
কর্মজীবনে যতজন দূরদর্শী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার নেতার সংস্পর্শে এসেছি– তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিছুকাল পরে দু’টি ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিট’-এ অংশ নিই এবং একটি উন্নত, গতিশীল ও বিশ্বমানের রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অদম্য আগ্রহ ও নিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করি।
এর পরপরই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি নিয়ে বেশ কয়েকটি উপস্থাপনা পেশ করি। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ভারতকে যদি একটি উৎপাদনকারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়– তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সমৃদ্ধি, উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সূচনা হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোবাইল ফোন (ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়) ও ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন; ওষুধ শিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সোলার মডিউল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য– সবক্ষেত্রেই এই অগ্রগতি দৃশ্যমান।
তরুণ ভারতীয়দের উদ্যোক্তা রূপে গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। যখন ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভারতে মাত্র ৩৫৬টি স্বীকৃত স্টার্টআপ ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রান্ত। কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী পুরো একটি দিন তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন; তাদের ভাবনার কথা শোনেন, উদ্বেগ বোঝেন এবং প্রথাগত সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে নতুন কিছু ভাবার জন্য তাদের উৎসাহিত করেন। তিনি বোঝেন, উদ্যোক্তা হওয়ার ‘অর্থ’ কেবল ব্যবসা করা নয়, বরং তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস জোগানো এবং আপন শর্তে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে সম্ভাবনার সীমা নেই– এমনকী, আকাশও তাঁর কাছে বাধা নয়। তিনি প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিচক্ষণ একজন নেতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ও সেগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে ভারত ‘এআই’, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি, ড্রোন, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ‘চন্দ্রযান ৩’ এবং ‘আদিত্য এল ১’-এর মতো মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের পাশাপাশি একটি প্রাণবন্ত বেসরকারি মহাকাশ-বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ভারতের ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ এবং ‘জাতীয় কোয়ান্টাম মিশন’ এআই ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলছে; এমন পরিকাঠামো, গবেষণা পরিবেশ ও দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে– যা ভারতকে প্রযুক্তির সামনের সারিতে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। আবার ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব নিশ্চিত করেন যে, দেশের উন্নয়ন ও শিল্প-প্রসার যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
তরুণ ভারতীয়দের উদ্যোক্তা রূপে গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। যখন ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভারতে মাত্র ৩৫৬টি স্বীকৃত স্টার্টআপ ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রান্ত।
এক দশক আগেও দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থ এবং ভারী বা জটিল কার্ডের আধিপত্য ছিল; ডিজিটাল লেনদেন ছিল ধীর গতির ও ব্যয়বহুল, এবং অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা যারা প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহার করছিলেন, তাঁদের নাগালের বাইরে। পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের মূলে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সামগ্রিক প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী নগদবিহীন অর্থনীতির উপর জোর দিলেন; ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোকে শক্তিশালী করে; ‘ইউপিআই’ ব্যবস্থাটি তৈরি ও চালু করা হয় ‘এনপিসিআই’। ব্যাঙ্ক, ফিনটেক সংস্থা, টেলিকম কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃ-পরিচালনযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তিনি ১০০ দিনে ১০০টি ‘ডিজিটাল মেলা’ আয়োজনের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ ‘ইউপিআই’-এর অভাবনীয় বৃদ্ধির নেপথ্যে প্রয়োজনীয় গতিবেগ তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ১.৭৮ কোটি ‘ইউপিআই’ লেনদেন হত, সেখানে এই ব্যবস্থাটি এখন বছরে ২৪ হাজার কোটিরও বেশি লেনদেন পরিচালনা করছে– যা সংখ্যার দিক থেকে ১৩ হাজার গুণেরও বেশি এবং অর্থমূল্যের দিক থেকে ৪ হাজার গুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত। ভারত ৭ বছরেই সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে।
২০১৬ সালের মধ্যেই ‘নীতি আয়োগ’-এর প্রধান রূপে দায়িত্ব গ্রহণ করি। মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি আলাদাভাবে ডেকে ভারতের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির উন্নয়নে কাজ শুরু করতে বলেন। চেয়েছিলেন– সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলির সমাধান আগে করতে। উন্নয়নের সুফল সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কাছেও পৌঁছে দিতে। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ‘আকাঙ্ক্ষী জেলা কর্মসূচি’-র সূচনা হয়; এই কর্মসূচির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার উপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থা প্রত্যক্ষ করি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, এই জেলাগুলোর রূপান্তরই ভারতের রূপান্তর ঘটাবে। ‘আকাঙ্ক্ষী’ শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শও নরেন্দ্র মোদিই দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, মৌলিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অনুন্নত জেলাগুলি উন্নতি ঘটতে শুরু করে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, এই জেলাগুলোর রূপান্তরই ভারতের রূপান্তর ঘটাবে। ‘আকাঙ্ক্ষী’ শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শও নরেন্দ্র মোদিই দিয়েছিলেন।
বেশ কয়েকটি সূচকে তারা দেশের সেরা জেলাদের ছাড়িয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই কর্মসূচির উপর নিবিড় নজর রাখতেন। সবসময় জোর দিতেন যেন তৃণমূল স্তরে প্রকৃত ফলাফলের উপরই মূল মনোযোগ বজায় থাকে। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে আমি যেসব বড় শিক্ষা পেয়েছি, তার অন্যতম হল, ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর পর্যালোচনা। ‘নীতি আয়োগ’-এর কাছে প্রত্যাশা থাকত যে, তারা যেন সবসময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসে, বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মূল্যায়ন করে এবং বিস্তারিত উপস্থাপনা করে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতেন, তথ্য আত্মস্থ করতেন এবং এরপর ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চিন্তা করতেন। তাঁর করা প্রশ্ন সবসময়ই বিষয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু স্পর্শ করত।
‘প্রগতি’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পর্যালোচনা এবং ‘পিএম গতিশক্তি’-র মতো সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক পরিকাঠামো উদ্যোগের ফলে প্রকল্পগুলির অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়েছে, এবং কোনও সমস্যা প্রকৃত সংকটে রূপ নেওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে ‘উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহ’ প্রকল্পের সংযোজন দেশের পরিকাঠামো ও উৎপাদন ক্ষমতা সক্রিয়ভাবে সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
অন্য অনেকের চেয়ে বেশি বার তাঁর আমি-ই উপস্থাপনা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি সাক্ষাতেই তাঁর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তীয় গভীরতা, শৃঙ্খলা এবং কৌতূহলের অনন্য সমন্বয় দেখেছি। আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। তা হল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ শ্রোতা। কাউকে চুপ করিয়ে না দিয়ে পুরো সভার মনোযোগ নিজের দিকে ধরে রাখতে পারেন। বৈঠকের সময় নিজের মতামত দেওয়ার আগে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ভারতের ‘জি ২০ শেরপা’ রূপে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর এহেন অভ্যাসটি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ, কোনও বিষয়ে কথা বলার আগে বৈঠকের অধিকাংশ সময় মনোযোগ দিয়ে অন্যদের কথা শুনেছি।
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করে আমি শিখেছি– কীভাবে বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করতে হয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হয়, চাপের মুখেও শান্ত থাকতে হয় এবং পরিস্থিতি যখন হতাশাজনক মনে হয়, তখনও অগ্রগতির সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়।
‘নীতি আয়োগ’ থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েছিলাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে ভারতের জি ২০ শেরপা রূপে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। কর্মজীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বটি ফলে কাঁধে তুলে নিলাম। তখন বিশ্ব গভীরভাবে বিভক্ত ছিল, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে এবং কোনও বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভারত সক্ষম।
এই দৃঢ় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই ‘নয়াদিল্লি নেতাদের ঘোষণা’ প্রণয়ন ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আলোচনার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নিবিড় এবং প্রায়শই ক্লান্তিকর; কিন্তু আমরা শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রদর্শিত ধৈর্য ও স্থিরতার আদর্শটিই অনুসরণ করে গিয়েছি। প্রচণ্ড চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রীকে কখনও কণ্ঠস্বর চড়াতে বা মেজাজ হারাতে দেখিনি। সংযমই তাঁর শক্তির উৎস; আর আশাবাদ তাঁর সহকর্মীদের নিজেদের নীতিতে অবিচল থাকার সাহস জোগায়। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করে আমি শিখেছি– কীভাবে বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করতে হয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হয়, চাপের মুখেও শান্ত থাকতে হয় এবং পরিস্থিতি যখন হতাশাজনক মনে হয়, তখনও অগ্রগতির সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়। শিখেছি, একজন নেতাকে অবশ্যই এমন কিছু কল্পনা করতে ইচ্ছুক হতে হবে, যা এখনও সামনে আসেনি, এবং সেই কল্পনার নেপথ্যে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জাতির পূর্ণ শক্তিকে একত্র করতে হবে।
১৫০ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে কথোপকথনের সময় তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ শুরু হয়। আধুনিক ভারতের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মূল লক্ষ্য: ভারতকে উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। প্রত্যেক ভারতীয়র জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনাকে ‘বডি শেমিং’, ‘জবাবদিহির দরকার নেই’, গর্জে উঠলেন টেলিপর্দার ‘পাবর্তী’
-
গঙ্গা-ফুলহারের দূরত্ব মাত্র পাঁচশো মিটার! বানভাসি ভূতনিতে উদ্ধারকার্যে আধাসেনা, ত্রাণবন্টনে জোর
-
নেই বিসিসিআইয়ের লোগো, নকশা অন্যরকম! এশিয়ান গেমসে কেন ‘অপরিচিত’ জার্সিতে টিম ইন্ডিয়া?
-
মোদির ‘প্রজেক্ট চিতা’র চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে বড় সাফল্য, কুনোয় আরও ৪ শাবকের জন্ম
-
ধুতি-পাঞ্জাবিতে ‘বাঙালিবাবু’ মোদি, প্রধানমন্ত্রীর মোমের মূর্তি বানিয়ে তাক লাগালেন সুশান্ত