কেরিয়ার ভালো করে শুরু হওয়ার আগেই শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল ভারতের সুপার স্পাই অজিত ডোভালের। এমনকী ইন্টেলিজেন্সের চাকরি হারালে অন্য বিকল্প কী হবে তা নিয়েও পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিলেন ২০ বছরের তরুণ আইপিএস। সম্প্রতি আইআইটি রুড়কির এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের কেরিয়ারের চরম কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোভাল বলেন, ‘আমি তখন ২০ বছর বয়সি তরুণ আইপিএস। সিকিমে এক অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমায়। সিকিম তখন ভারতের অংশ ছিল না। সেই প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে তখন। এই অবস্থায় সিকিমে গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমায়। কাজ ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো, চিনা সেনা (PLA)-র গতিবিধির খুঁটিনাটি তথ্য জোগাড় করে দিল্লিতে পাঠানো। সেই লক্ষ্যেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি দল পাঠাই আমি। ৬ দিন পর ফিরে আসার কথা ছিল সেই দলের সদস্যদের। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা ফেরেনি।”
আরও পড়ুন:
জানতে চাওয়া হয়, আমি কি কাউকে সীমান্তে পাঠিয়েছিলাম? আমি তাঁদের জানাই হ্যাঁ। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোনও খবর পাইনি। ওপার থেকে বলা হয়, চিনের সেনা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে।
ডোভাল বলেন, “তাঁদের না ফেরায় চূড়ান্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁদের কোনও খবর আমি পাচ্ছিলাম না। এমনকী হিমস্খলনে তাঁরা চাপা পড়েছেন কি না তাও জানি না। দুশ্চিন্তা শুধু পেশাগত দিক থেকে নয়, মানবিক দিক থেকেও প্রবল উদ্বেগ শুরু হয়। এদিক থেকে কখনও খবর না এলেও হেডকোয়ার্টার থেকে আমার কাছে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয়, আমি কি কাউকে সীমান্তে পাঠিয়েছিলাম? আমি তাঁদের জানাই হ্যাঁ। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোনও খবর পাইনি। ওপার থেকে বলা হয়, চিনের সেনা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ভারতে ফেরানো হয়েছিল ঠিকই কিন্তু চিনের হেফাজতে তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। তাঁরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েন।” এই ঘটনার পর ডোভালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি বসানো হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দাবি, “সেই সময় আমার মনে হয়েছিল আমার কেরিয়ার এখানেই শেষ। আমার তখন ২০ বছর বয়স। ইন্টেলিজেন্সের চাকরি গেলে বিকল্প কী করা যায় তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছি। আমার সেই পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত অপেশাদার, যদিও তদন্তে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।” ডোভাল বলেন, পরে জানা যায় যে সদর দপ্তর থেকে সরবরাহ করা নকশা এবং মানচিত্রগুলিতে কিছু ভুলত্রুটি ছিল। এই ভুলের কারণেই পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল। তাঁর কথায়, সেই কয়েকটি দিন চূড়ান্ত মানসিক যন্ত্রণার মাঝে এক প্রবীণ শেরপার সঙ্গে ডোভালের কথা হয়, তিনিও ভারতে এজেন্ট ছিলেন। তিনি তাঁকে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছিলেন সেই সময়। তা হল, ১. আপনি কোথায় আছেন? ২. আপনি কোথায় যেতে চান? ৩. সেখানে যাওয়ার রাস্তা কী? যদি সম্ভব হয়, তাহলে কীভাবে ফিরবেন? ডোভাল বলেন, বরফাবৃত পাহাড়ে বহু বছর ধরে কাজ করা শেরপার এই কথাটি তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
থাইল্যান্ডে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা! মুসলিম রাষ্ট্র চেয়ে ভয়াবহ লড়াইয়ের পথে জঙ্গি সংগঠন
-
ভোটের আগে হিংসা ছড়ানোর পরিকল্পনা! অডিও কাণ্ডে হুমায়ুনকে তলব পুলিশের
-
এমডি-কার্ডিওলজিস্ট, সব ডিগ্রিই ভুয়ো! বর্ধমানে প্রকাশ্যে ‘ডাক্তারবাবু’র জালিয়াতি
-
এনজেপি স্টেশনে গ্রেপ্তার ৪ রোহিঙ্গা, কোন পথে দেশে ঢুকছে অনুপ্রবেশকারীরা?
-
কালিম্পংয়ে বসে চিকেনস নেকের তথ্য পাচার! পুলিশের জালে আফগান যুবক, বড় নির্দেশ পুলিশের