ভুয়ো অনলাইন ‘সাট্টা মটকা’য় ঘনাচ্ছে বিপদ। কখনও ‘জোড়ি’ আবার কখনও বা ‘তিন নম্বরে’ চলছে সেই অনলাইন জুয়া। আর তাতেই কলকাতা, এমনকী বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারাও লাখ লাখ টাকা খুইয়ে চলেছেন বলে অভিযোগ। এমনকী, অনেকেই কষ্ট করে রোজগারের টাকা পরিবারের পিছনে খরচ না করে অনলাইন জুয়ায় খরচ করেছেন। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো এই অনলাইন ‘সাট্টা মটকা’য় টাকা লগ্নি করলে বিপুল টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বলে ফাঁদ পাতছে কয়েকটি চক্র তথা সাইবার জালিয়াতরাও। এবার এই ব্যাপারে কড়া হয়েছে লালবাজার। পুলিশের পক্ষে এই ব্যাপারে লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই প্রতারণা, জালিয়াতি, আইটি আইন ও ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং’ বা প্রোগ আইনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে মামলা।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, কাগজে লেখা সাট্টার উপর কড়া নজর রয়েছে লালবাজারের। প্রত্যেকটি থানাও নজর রাখছে সাট্টার উপর। গত কয়েক বছরে শহরের কয়েকটি জায়গায়, বিশেষ করে দক্ষিণ শহরতলি, পূর্ব কলকাতা বা রেললাইনের ধারে নির্জন জায়গায় সাট্টা খেলা হলেও গত কয়েক মাসে সেই ঠেকগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এর পরই লালবাজারের নজরে আসে অনলাইনে ‘সাট্টা মটকা’। যেহেতু মাটির কলসির মধ্যে নম্বর লেখা কাগজ ফেলে ফের তা কলসি থেকে তোলার পর হারজিতের ফল বের করা হত, তাই মটকা নামেই সেই সাট্টার পরিচয় দেওয়া হয়। অনলাইন সাট্টা হয় তারই ভিত্তিতে। বেশিরভাগ সময় ‘জোড়ি’ বা দু’টি নম্বরের খেলা হয় এই অনলাইন গেমে। ‘জোড়ি’তে পরপর দু’টি নম্বর মিলে গেলে সেই ব্যক্তি জিতে যান। একই ভাবে তিনটি বা তার একাধিক নম্বরেরও খেলা হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় চলে এই অনলাইন সাট্টা মটকা।
আরও পড়ুন:
গোয়েন্দা পুলিশের মতে, জুয়াড়িদের কাছে কলকাতায় একটি অনলাইন সাট্টা বিশেষ চাহিদাপূর্ণ। ভুয়ো ওই অ্যাপ লাইনলোড করার পর সাট্টায় বহু মানুষ লগ্নি করে টাকা খোয়াচ্ছেন, এমন তথ্য বহুদিন ধরেই গোয়েন্দাদের কাছে আসছিল। তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, এর পিছনে একটি চক্র রয়েছে। জুয়াড়িদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেখানে তাঁদের ভুয়ো অ্যাপের লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। সেই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই তাঁরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় অনলাইনে সাট্টা খেলতে পারবেন। এই অ্যাপের প্রচার করতে এই চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউবকে ব্যবহার করছে। সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, অনলাইন সাট্টা মটকা খেললে জুয়াড়িরা কিছু না কিছু পুরস্কার জিতবেনই। এক কোটি ব্যক্তি প্রত্যেকদিন এই অনলাইন সাট্টায় লগ্নি করছেন। গোয়েন্দারা জেনেছেন, যাঁরা প্রথমে অল্প টাকা লগ্নি করতে শুরু করেন, তাঁরা কিছু টাকা ফেরত পান। এতে তাঁদের লোভ বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক সময়ই পরবর্তীকালে বেশি টাকা লগ্নি করলে তাঁরা হারতেন। কিন্তু জুয়ায় টাকা লগ্নির নেশা ছাড়ত না। এবার মামলা দায়ের করার পর লালবাজারের সাইবার থানার আধিকারিকরা তদন্ত শুরু করেছেন। এই চক্রের সদস্য কারা, কারাই বা এই ভুয়ো অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে অনলাইনে সাট্টা মটকা চালাচ্ছে, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তিলক কেটে দিন’, গণপতি দর্শনে গিয়ে পুরোহিতকে আবদার শাহরুখের, বাদশার ভক্তিতে মুগ্ধ নেটপাড়া
-
আইএফএ শিল্ডের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ্যে, ডুরান্ড হেরে শিল্ডে নজর মোহনবাগানের
-
মধ্যপ্রদেশের পর এবার দিল্লি, সাড়ে ৪ ঘণ্টায় যমুনার ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সাফাই বিট্টুর
-
ইমিগ্রেশন ছাড়াই ভারত ছাড়েন ৩ ইতালীয়! অভিযুক্ত কর্মীকে সাসপেন্ড করল এয়ার ইন্ডিয়া
-
পুজোয় সান্দাকফু, ফালুট ঘোরার প্ল্যান, ফের চালু এন্ট্রি ফি, কত টাকায় মিলবে ভ্রমণ পাস?