সুইডেনেও বিজেপি! সাংসদ হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাতনি, কে এই নীলা?
সাংসদ হয়ে নীলার লক্ষ্য, যাদের ভোটাধিকার নেই তাদের হয়ে কথা বলা।
চারবছর ধরে সুইডেনে ক্ষমতায় ছিল দক্ষিণপন্থী দলের জোট। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সুইডেনবাসী পরিবর্তন চেয়েছেন। সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ১৭৬টি আসন। অন্যদিকে দক্ষিণপন্থী দলগুলি আটকে গিয়েছে ১৭৩ আসনে। ক্ষমতা দখলের জন্য় ৩৪৯ সদস্যের সংসদে ১৭৫টি আসন দরকার ছিল। সেই ম্যাজিক ফিগার পেয়েছে মধ্যম এবং বামপন্থী দলগুলি।
আরও পড়ুন:
ওই দলগুলির মধ্যে অন্যতম হল সুইডেনের গ্রিন পার্টি। ৪৫ বছর আগে এই দল তৈরি হয়েছিল মূলত পরিবেশগত কারণে। তাদের দাবি ছিল, দেশের অন্যান্য দলগুলি পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মোটেই ভাবিত নয়। কিছুটা বাম ঘেঁষা এই মধ্য়মপন্থী দল আত্মপ্রকাশের মাত্র ৭ বছর পরেই জায়গা করে নেয় রিকসদাগ বা সুইডিশ সংসদে। ২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোটের শরিক ছিল গ্রিন পার্টি।
সেই দলের টিকিটে লড়ে স্টকহোম থেকে নির্বাচিত হয়েছেন নীলা। তাঁর জন্ম সুইডেনে। কিন্তু ছোটবেলায় বেশ কয়েকটা বছর তিনি কাটিয়েছেন মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে। তারপর পড়াশোনার জন্য ফের পাড়ি দেন সুইডেনে। জোড়া এমবিএ করেছেন তিনি। তবে ভারতে নীলার রাজনৈতিক পরিচয় হল, তিনি বিজেপি বিধায়কের ভাইঝি। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের জলসম্পদ মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিখে পাটিলের ভাইয়ের মেয়ে এই নীলা।
বিজেপি নেতার ভাইঝি হলেও, নীলার মন কংগ্রেস ঘেঁষা। তার প্রধান কারণ, ঠাকুরদা বালাসাহেব ভিখে পাটিল। দীর্ঘদিন তিনি হাত শিবিরে ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রীও হন, তবে সেটা শিব সেনার টিকিটে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারে। ভারী শিল্প মন্ত্রী হিসাবেও কেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। ২০০৪ সালে আবার কংগ্রেসে ফেরেন। নীলার কথায়, রাজনীতিতে সাফল্য় তাঁর ঠাকুরদাকে গর্বিত করবে।
আরও পড়ুন:
নীলা বলছেন, "আমার বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর তখন ঠাকুরদা আমাকে কেন্দ্রীয় বাজেট পড়তে দিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে ওঁর খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে এখন ঠাকুরদাকে খুব মিস করি। শেষ দিকে প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই আমাদের কথা হত।" ২০১৬ সালে বালাসাহেবের মৃত্যু হয়। তার দশ বছর পর নীলা নির্বাচিত হলেন সংসদে। স্বর্গত ঠাকুরদা এই সাফল্যে গর্বিত হবেন, আশায় গ্রিন পার্টির সাংসদ।
৪১ বছর বয়সি নীলা প্রায় ২৫ বছর ধরে রাজনীতিতে আছেন। তবে দলবদল করেননি কখনও। মূলত অর্থ এবং শুল্ক বিষয়ক নানা দায়িত্বে ছিলেন। দলের যুব মোর্চাতেও একাধিক পদে দেখা গিয়েছে নীলাকে। সম্প্রতি স্টকহোমের সিটি কাউন্সিলেও কাজ করেছেন তিনি। এবার সরকারে তাঁর দল। ২২টি আসন পেয়েছে গ্রিন পার্টি। ৬.১২ শতাংশ ভোট গিয়েছে দলের ঝুলিতে।