কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)— সংবাদ প্রতিদিন-এর ‘ঘরের ছেলে’! চিফ এডিটর, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) তিনি বেলেঘাটা বিধানসভা আসনের প্রার্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ স্নেহধন্য। অনেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের প্রেক্ষিতে ‘ফিনিক্স পাখি’ বলেন তাঁকে। রইল বেলাঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর সাক্ষাৎকার।
প্রশ্ন: রাজ্যসভা, নাকি ডোর-টু-ডোর প্রচার- কোনটা বেশি পছন্দের?
উত্তর: দু’টোর অভিজ্ঞতা দু’রকম। দুইয়ের জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তবে সরাসরি মানুষের কাছে যাওয়া একেবারে অন্যরকম। এতদিন বহু মানুষের জন্য ভোট চেয়েছি। অন্য রাজ্যেও করেছি। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্য ভোট চাইতে মানুষের কাছে যাওয়ার আলাদা রোমাঞ্চ আছে।
প্রশ্ন: পরেশ পালের মতো হেভিওয়েট নেতাকে সরিয়ে নেত্রী তোমার উপর আস্থা রেখেছেন। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না কি?
উত্তর: পরেশদা আমারও নেতা, আমার দাদা। অনেক পুরনো সম্পর্ক। ওর শরীর অসুস্থ থাকায় এবারে লড়ছেন না। ফলে ‘সরিয়ে দেওয়া’ বলাকে আমি সমর্থন করছি না। তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেছেন এবং আমার কর্মীসভায় বক্তব্যও রেখেছেন।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে, বেলেঘাটায় আরও অনেক দাবিদার ছিলেন। বিরোধীদের মতে, তাদের সামলানোর চাইতে তোমাকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলাতে হয়েছে বেশি!
উত্তর: ভুল ধারণা! যারা বলছেন, বেলেঘাটার গ্রাউন্ড রিয়ালিটি সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। এই কেন্দ্রে অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা আছেন। ৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা অত্যন্ত দক্ষ। ফলে তাঁদের মধ্যে কারও যদি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাতে তো দোষের কিছু নেই। কিন্তু প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলনেত্রী এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। এখানে আমাকে কোনও জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়নি। সকলেই বরং মনপ্রাণ দিয়ে আমাকে গাইড করছেন। তাছাড়া এটা আমার হোম কনস্টিটিউয়েন্সি।
প্রশ্ন: জীবন সাহার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: অত্যন্ত ভালো। রাজনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে দাদা-ভাইয়ের মতো।
“বামেদের ‘নতুন মুখ’ বলে যারা হাজির হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে পুরনো কোথাও জামানত জব্দ হয়ে নতুন করে ফিরতে চাইছে। সিপিএমের উচিৎ কর্মীদের শেখানো যে, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়। যে কেন্দ্রে হেরেছ, পরের পাঁচ বছর সেখানটাকেই নার্স করো। তার বদলে তাকে পাঠাচ্ছে আর এক জায়গায়! ওদের কিছু ছেলে-মেয়ে ভালো, কিন্তু রাজনীতি-দর্শন-সংগঠন— সব পচা!”
প্রশ্ন: শাসকদলের একাংশের মত, এবং বিশেষজ্ঞরাও বলছে, বেলেঘাটায় বাম-বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন দেখে মনে হচ্ছে তোমাকে ‘ওয়াকওভার’ দিয়ে দেওয়া হয়েছে!
উত্তর: ভোটে কখনওই ‘ওয়াকওভার’ হতে পারে না। সিপিএম-এর প্রার্থী বহুদিন ধরেই লড়ছেন এবং হারছেন। কংগ্রেসেরও একই অবস্থা। মানুষ বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে, মানুষকে ভোটার লিস্টে হয়রান করার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন। প্রথম দফার ভোটের পর বিরাট চর্চা চলছে যে ভোটের পারসেন্টেজ বেশি, আমি গত ১৮ ডিসেম্বর বলেছিলাম, এসআইআর-এর কারণে এমনটা হতে চলেছে। এ তো সরল পাটিগণিত! যারা মৃত, যারা অন্য কোথাও শিফট করেছেন, তাদের নাম বাদ গিয়েছে। যেসব জেনুইন ভোটার বাদ গিয়েছে, তা নিয়ে তো মুখ্যমন্ত্রী লড়ছেন। ভোটের হার যত বেশি, ততই জোরালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন।
প্রশ্ন: অর্থাৎ এসআইআর-বিরোধী ভোট পড়েছে?
উত্তর: এসআইআর-বিরোধী ভোট, উন্নয়নের পক্ষে ভোট।
প্রশ্ন: তোমার জয় হবে কি না, তাও জানো নিশ্চয়ই?
উত্তর: এখন থেকেই বলা ঠিক নয়, তবে আমি আত্মবিশ্বাসী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে গোটা বাংলা সমর্থন করছে, বেলেঘাটা তো বাংলার বাইরে নয়। সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দল পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। এলাকার ৮জন কাউন্সিলর দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সকাল-দুপুর-রাতের প্রচার, মাঝে অফিসে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে একটু সময় কাটানো, তারপর কাগজের প্ল্যানিং— এ সমস্ত আমাকে অক্সিজেন দেয়।
প্রশ্ন: এসব ছাড়াও তো তোমার ক্লাব আছে, সিনেমার শুটিং করেছ, উপন্যাস লিখছ, তার সঙ্গে আবার প্রচার আর অফিস! এই মাল্টিটাস্কিংয়ের রহস্য কী?
উত্তর: এটা খানিকটা অভ্যাস। আমি কপিল দেবের ভক্ত। ওঁর একটা কথা আমি খুব সম্মান করি—‘যেখানে প্যাশন থাকে, সেখানে প্রেশার হতে পারে না’! আমি চেষ্টা করি, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আটচল্লিশ ঘণ্টা খুঁজে বের করতে।
প্রশ্ন: তুমি প্রার্থী হওয়ার পর উত্তর কলকাতার সভাপতি টিপস দিয়েছেন?
উত্তর: সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বলছ? আমি ওঁকে বলেছিলাম, আপনার বাড়িতে চা খেয়েই শুরু করি বরং! উনি খুব সুন্দরভাবে সেসব ব্যবস্থা করেছিলেন। উনি খানিক অসুস্থ এখন, খুব বেশি উত্যক্ত করতে চাই না তাই। তবে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও ওঁ ছিলেন।
প্রশ্ন: চতুর্থবারের মমতা সরকার হলে নাকি তুমি মন্ত্রী হচ্ছ?
উত্তর: তেমন কিছু ভাবছি না। এই মুহূর্তে যেখানে রয়েছি, জীবনে সেটাই আমার পরম প্রাপ্তি। তাছাড়া আরও নানারকমের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকি। সাংবাদিকতা আমার প্রথম পছন্দ। লেখালিখির কাজে আমি পর্যাপ্ত সময় দিতে চাই।
প্রশ্ন: প্রিজন ভ্যান থেকে নীল বাতি— টার্নিং পয়েন্ট কী? সবাই জানতে চায়!
উত্তর: আমি জ্ঞানত কোনও অন্যায় করিনি। ঈশ্বর জানেন, বিচারকেরা জানেন। সে জন্যই জীবনে আজ এই দিনটি দেখতে পাচ্ছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে স্নেহ করতেন, যা অনেকের সহ্য হচ্ছিল না। সেখান থেকেই দূরত্ব বাড়া। আমিও কিছুটা ইম্ম্যাচিওর ছিলাম, কেবল সামনের দিকটাই দেখতাম, পিছনদিকে দেখিনি। পিঠেই ছুরি মারা হল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুভব করেছেন, আমিও বুঝেছি। জীবনে কী দরকার, কতটুকু দরকার, কাজ এবং পারফরম্যান্সের গুরুত্ব বুঝেছি। মানুষ চিনতে শিখেছি।
প্রশ্ন: তোমার একটা ডায়লগ মনে রাখার মতো— “আমার পতন দেখেছে কিছু লোক, আমার উত্থান আমি গোটা পৃথিবীকে দেখিয়ে ছাড়ব!” এই ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান যাদের যাদের দেখানোর ছিল, দেখালে?
উত্তর: এটা তো কেবল প্রার্থীপদ পাওয়ার বিষয় নয়। আমার বন্দিজীবন, বিতর্ক, আমার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া, তারপর আবার মূল স্রোতে ফিরে আসা। প্রেসিডেন্সি জেলের সেল-এ বসে একটা উপন্যাস লিখছি। সেটা প্রকাশিত হচ্ছে আনন্দবাজার গোষ্ঠীর পূজাবার্ষিকীতে। আনন্দ পাবলিশার্স বই করছে। সংবাদ প্রতিদিন-এর চিফ এডিটর হলাম, দলের মুখপাত্র হলাম, মমতাদি-অভিষেকের সঙ্গে দলের কাজ করা, কর্মীদের সঙ্গে মিটিং মিছিলে অংশ নেওয়া। কেউ হয়তো ঈর্ষার কারণে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু আমি সকলকে অনুভব করাতে চাই যে কতরকম কাজ করতে পারি।

প্রশ্ন: আর জি কর আবহে অনেকেই গা বাঁচিয়েছিল। কিন্তু তুমি সে সময় অল-আউট ব্যাট করলে! সেটাই কি স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: না, সেটা আমার কর্তব্য ছিল, কারণ যা ঘটেছিল তা অত্যন্ত কুৎসিত। কিন্তু মূল সমস্যা হল, সেটা ঘিরে সিপিএম-বিজেপি কুৎসার রাজনীতি শুরু করল। মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দার অঙ্ক মেলানোর চেষ্টা করল। আমি কেবল সেই অপ্রিয় সত্য তুলে ধরেছি। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন। তবু এই ঘটনা কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী চক্রান্ত শুরু হল। আমি বা আমার মতো কেউ কেউ সে সময় ঝড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, সমালোচিত হয়েও মাননীয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছি। মানুষকে আসল ঘটনা বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তারা আজ সেটা বুঝতে পারছেন।
প্রশ্ন: অভয়ার মা পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন।
উত্তর: তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। একটি শোকাহত পরিবারকে নিয়ে আমি রাজনৈতিক সমালোচনা করতে পারি না। কিন্তু কোন বিজেপি? উন্নাও-হাথরস-প্রয়াগরাজ-দিল্লি-মণিপুর-ওড়িশা-বিলকিস… বিজেপির এমপি মেয়েদের শ্লীলতাহানি করে। অভয়ার মা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। ওরা দশ সেকেন্ড টাইম দেয়নি! আজ তারা পানিহাটিতে চলে গেল! প্রধানমন্ত্রী বলছে, জিতলে ওঁকে বিচার দেব! হাস্যকর নয়? ফাইল খুলব বলছেন, ফাইল তো সিবিআইয়ের হাতে। এতদিন খোলেননি কেন? আর না জিতলে ফাইল খুলবেন না? শোকাহত পরিবার হয়তো কোনও বিভ্রান্তির কারণেই এক নারীবিদ্বেষী শক্তির হাতে গিয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন: বামেরা তরুণদের প্রার্থী করেছে। কেউ বলছেন বামেদের ভোট বাড়বে, কেউ বলছেন বাড়বে না। সাংবাদিক কুণাল ঘোষ কী মনে করেন?
উত্তর: নতুন মুখকে সাধারণত আমি সমর্থন করি। কিন্তু বামেদের ‘নতুন মুখ’ বলে যারা হাজির হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে পুরনো কোথাও জামানত জব্দ হয়ে নতুন করে ফিরতে চাইছে। সিপিএমের উচিত কর্মীদের শেখানো যে, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়। যে কেন্দ্রে হেরেছ, পরের পাঁচ বছর সেখানটাকেই নার্স করো। তার বদলে তাকে পাঠাচ্ছে আর এক জায়গায়! এমন কি-বা ভালো ফল হবে? ওদের কিছু ছেলে-মেয়ে ভালো, কিন্তু রাজনীতি-দর্শন-সংগঠন— সব পচা!
প্রশ্ন: ‘কর্পূর’ মুক্তি পেয়েছে। ব্রাত্যদার একটা সিনেমা আসছে। তোমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবন কি অভিনয়ে সাহায্য করেছে?
উত্তর: আমি গানবাজনা-নাটক-অভিনয় পছন্দ করি। সুযোগ পেলেই নাটক দেখতে যাই। অরিন্দম শীল ও ব্রাত্য বসু আমাকে অভিনয়ে অনেক সাহায্য করেছেন। কাজটা আমি উপভোগ করেছি।
“আমি মোহনবাগানের সমর্থক। ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারলে প্রবল আনন্দ পাই। এবং ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারলে আমার খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমি মনে করি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল একে অপরের পরিপূরক। এবং অবশ্যই মহামেডান। ময়দানটাকে বাঁচতে গেলে যে ভাইব্রেশনটার দরকার, তার জন্য প্রত্যেকটা টিমকেই থাকতে হবে।”
প্রশ্ন: তিনটে সিনেমাতেই তোমাকে খলনায়কের চরিত্রে দেখা গিয়েছে। এবার কি নায়কের চরিত্রে দেখা যাবে?
উত্তর: আমার যা বয়স-হাইট-চেহারা, তাতে কেউ নায়কের চরিত্রে ভাববে না। তবে অভিনয়ে জোর দেওয়ার চেষ্টা করি। চরিত্র এমন করব, এক টেক-এ ‘ওকে’ হয়ে যাবে, ডিরেক্টর অবাক হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: দেব হাতে খড়্গ নিয়ে তোমার হয়ে বেলেঘাটায় প্রচার করল। অথচ তুমি ‘রঘু ডাকাত’ সিনেমার বিরোধিতা করে ফেসবুক পোস্ট করেছিলে!
উত্তর: দেব এমনিতে ভালো ছেলে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর অভিনেতা, ক্রাউডপুলার। পরিশ্রমের দিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই যদি কেউ হয়, তাহলে সে ও। এছাড়াও কোটি কোটি কর্মী কাজ করছেন অবশ্যই।
প্রশ্ন: তুমি মোহনবাগানের সহ-সভাপতি। বেলেঘাটার ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তোমাকে ভোট দেবে?
উত্তর: কেন দেবে না, বিরাট ভোট দেবে! ওরা আমায় ভালোবাসে। আমি মোহনবাগানের সমর্থক। ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারলে প্রবল আনন্দ পাই। এবং ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারলে আমার খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমি মনে করি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল একে অপরের পরিপূরক। এবং অবশ্যই মহামেডান। ময়দানটাকে বাঁচতে গেলে যে ভাইব্রেশনটার দরকার, তার জন্য প্রত্যেকটা টিমকেই থাকতে হবে।
প্রশ্ন: নন্দীগ্রামে দীর্ঘদিন দায়িত্বে ছিলে, সেখানকার ফলাফল কেমন হবে বলে মনে করছ?
উত্তর: নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী ‘লোডশেডিং’ করে জিতেছিল। ওটা আসলে জেতা নয়। আমাকে যখন ওখানে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী, ১০,৪৫৪ ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে দিয়েছিলাম। এবারও আমি কনফিডেন্ট, অভিষেক যেভাবে কাজ করছে, তাতে নন্দীগ্রাম ১-এ ১০-১২ হাজার লিড হওয়া উচিত। এবং নন্দীগ্রাম ২-এ বিজেপি আগে যা করত, এবার তা পারবে না। ফলে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করই জিততে চলেছেন।
প্রশ্ন: সাংবাদিক কুণাল ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক নির্বাচনকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: সাংবাদিক কুণাল ঘোষ এবার তেমন ঘোরাঘুরি করেনি। আমি বহু বছর ধরে যা যা প্রেডিকশন দিয়েছি, সংখ্যা ধরে মেলানো যাবে, এ কথা ঘোষিত। এমনকী জেলে বসেও! তবে বিভিন্ন সোর্স থেকে যা খবর পেয়েছি, তাতে আমার ধারণা আগের চাইতেও বিপুল ভোটে তৃণমূল জিতবে। এক, তৃণমূলের মোট ভোট বাড়বে। দুই, ভোটের হার বাড়বে তৃণমূলের। তিন, আগের বারের তুলনায় জেতা আসনগুলোতে জয়ের ব্যবধান বাড়বে। চার, মোট আসনের সংখ্যাও বাড়বে।
প্রশ্ন: ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতলে কোথায় খাওয়াবে?
উত্তর: ভোটার সংখ্যা কমেছে। ৬০ হাজারের বেশি ভোট কেটে দিয়েছে। এখনও ফাইনাল লিস্ট পাওয়া যায়নি। আমি আত্মবিশ্বাসী, সারা বাংলার মানুষ যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, বেলেঘাটার মানুষও তার ব্যতিক্রম নন। আমি নিমিত্ত মাত্র। সমস্ত নেতা-কর্মীরা যেমন পরিশ্রম করছেন, তাতে আমি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। খাওয়ার জন্য ফুটপাথ টু ফাইভ-স্টার— যেখানে বলবি চলে যাব! খাওয়া ছাড়া জীবন হয়?
প্রশ্ন: বিরোধীদের যদি গানে উত্তর দিতে বলি, কোন গান বাছবে?
উত্তর: গান থাক, আমি বিরোধীদের বলব, ‘কর্পূর’ দেখে আসুন, কারণ কর্পূরের মতোই উবে যাবেন চার তারিখ! থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস, থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থবারের জন্য মা-মাটি-মানুষের সরকার নবান্নে আসছে!
নিবেদিত


