রাজনীতি মানেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিজেপিতে কোন্দলের কথা ঘুরিয়ে স্বীকার দিলীপের

বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: দলের ক্যাপ্টেন দিলীপ ঘোষ। আর কোচ মুকুল রায়। একে অপরকে এক সময় এভাবে সম্ভাষণ করলেও প্রতি মুহূর্তে স্পষ্ট হচ্ছে ক্যাপ্টেন-কোচের বোঝাপড়া তলানিতে ঠেকেছে। দুই নেতার অনুগামীদের দিকে উঠছে সমান্তরাল শিবির চালানোর অভিযোগ। সে কথা যে অমূলক নয় তা ঘুরিয়ে মেনে নিলেন ক্যাপ্টেন দিলীপ। জানিয়ে দিলেন রাজনীতিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকবেই।

[মৃত্যু হলেও স্ত্রীর কাছে ফিরবেন না, তবে বৈশাখির পাশেই মেয়র]

বঙ্গের গেরুয়া রাজনীতি যে দলাদলির উর্ধ্বে উঠতে পারেনি তা স্পষ্ট হয়ে গেল দিলীপের মন্তব্যে। নদিয়ার রানাঘাটে তিন জেলার কর্মী সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়। সেখানে দুই নেতার প্রতিক্রিয়াতে বোঝা গেল ক্যাপ্টেন-কোচ আসলে কথার কথা, সেই রসায়ন কাজ করে না। সম্মেলনে আলোচনা হয় দলের নেতা, কর্মীদের একাংশের সেলফির প্রতি ঝোঁক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা জাহির করার প্রবণতা নিয়ে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও নানা বিষয়ে ক্ষোভ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতার চেষ্টা হলে দলে তাদের ঠাঁই হবে নাl তারা থাকলে দলের ক্ষতি হবে। আত্মপ্রচারের কোনও জায়গা নেই। এই ইস্যুতে উলটো সুর শোনা গেল মুকুল রায়ের মুখে। তিনি আবার সোশ্যাল মিডিয়ার দলের একাংশের মুখ খোলার বিষয়টিতে অন্যায়ের কিছু দেখছেন না। বিজেপি নেতা বলেন, ‘সোশাল মিডিয়া এখন একটা পার্ট। একে বাদ দিয়ে রাজনীতি হয় না। কে,কী বলছেন, তা যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে দেখা উচিত।

[জয়া বচ্চন ‘ডান্স গার্ল’, নরেশের কু-মন্তব্যে সংসদে তুমুল হট্টগোল]

দলের দুই নেতা পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে বিজেপি কর্মীরাও বেজায় বিভ্রান্ত। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুকুল রায়কে দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। মুকুল রায় নানাভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশকে তারা টিকিট দিতে চান। কিন্তু তাঁর যুক্তি খণ্ডন করে দিলীপ জানিয়ে দেন তিনি এমন ভুল করতে চান না। কারণ তাঁর অভিজ্ঞতা বলে তৃণমূল ছেড়ে যারা বিজেপিতে আসেন তারা জেতার পর ফের পুরনো দলে ফিরে যান। অতএব, এত সহজে টিকিট মিলবে না। এমনকী দিলীপ জানিয়ে দেন, তারা আগে নির্দল হয়ে জিতে আসুন। তারপর দলে নেওয়ার বিষয়টি দেখা হবে।

[মহারাষ্ট্রে দাঙ্গা বাধানোর ছক ছিল কৃষকদের, অভিযোগ বিজেপি নেতার]

মুকুল রায় বিজেপিতে আসা থেকে একপ্রস্থ দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে বিজেপির কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে। মুকুল রায় যেদিন রাজ্য বিজেপির দপ্তরে আসেন তখন তাঁকে সম্মান জানাতে প্রথম সারির নেতাদের সেভাবে দেখা যায়নি। বাইক মিছিল-সহ একাধিক ইস্যু দিলীপ এবং মুকুলের পরস্পরবিরোধী মত সামনে এসেছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা বলে আসলে দিলীপ দলের অন্তর্কলহের কথা মেনে নিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ মুকুল গেরুয়া শিবিরের যোগ দেওয়ার পর থেকে নানা বিষয়ই যে বেসুরো ঠেকছে।

[সুকমায় ফের মাওবাদী হামলা, শহিদ ৯ সিআরপিএফ জওয়ান]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *