BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বনগাঁয় বড়মার আবেগ উসকে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: April 29, 2019 3:52 pm|    Updated: April 29, 2019 3:52 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাঝ বৈশাখের তীব্র গরম, তার উপর রমজান মাসের দিনভর উপবাস৷ জোড়া ফলার মাঝে লোকসভা নির্বাচন৷ ভরা গ্রীষ্মে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হবে৷ তবুও একটু কষ্ট সহ্য করেই ভোট দিন, ভোটটা নষ্ট করবেন না৷ একেকটি ভোট বহুমূল্য৷ সোমবার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুরের সমর্থনে বাগদায় প্রচারে গিয়ে জনগণের উদ্দেশে এই আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

[ আরও পড়ুন : বেড-টি পেতে দেরি, সকাল থেকে আসানসোলের কোনও খবরই জানেন না মুনমুন]

মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা৷ সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজনীতির বাইরে পারিবারিক সখ্যের জেরেই বনগাঁ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে ঠাকুরবাড়ির গৃহবধূ মমতাবালা ঠাকুরকে৷ বঙ্গ রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায় এবং বনগাঁর ঠাকুরবাড়ি একটা বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির সম্পর্ক বেশ ভাল, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট৷ বনগাঁয় মুখ্যমন্ত্রী ভোটপ্রচারে গিয়ে সেই সম্পর্ক নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়বেন, তা স্বাভাবিক৷ হলও তাই৷ বনগাঁ দলীয় প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুরকে সমর্থনের কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতাবালা খুব কাজের মেয়ে৷ ওর কথা আমার কাছে নিজে বলেছিলেন বড়মা৷ অনেকদিন ধরে আমি বড়মার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলাম৷ তাঁর ছেলে কপিলকৃষ্ণকে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলাম৷ সাংসদ হয়েছিল৷ ওর মৃত্যুর পর বড়মাই আমাকে মমতাবালার কথা বললেন৷ ও বিদায়ী সাংসদ৷ আপনারা আবার ওকে নির্বাচিত করুন৷ ও কাজ করবে৷’ এনিয়ে নাম না করে বিজেপিকেও তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, ‘কোথায় ছিল তখন, যখন বড়মা অসুস্থ হন? আমিই খবর পেয়ে ছুটে এসে বড়মাকে হাসপাতালে ভরতি করাই৷ কেউ কোনও খোঁজ নেয়নি৷ আর ভোটের আগে এসে ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা৷’

[ আরও পড়ুন : ১০৯ বছরেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটদান কাঁকসার বৃদ্ধের]

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গত বিধানসভার ফলাফল নিয়েও বিশ্লেষণ করেন৷ বাগদা বিধানসভাটি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত৷ ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা থেকে তৃণমূলের পরাজয় হয়েছিল৷ জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অভিজ্ঞ নেতা দুলাল বর৷ আপাতত তিনি শিবির বদলে বিজেপিতে৷ লড়ছেন লোকসভা ভোটে৷ তবে অন্য কেন্দ্রে৷ সেকথা মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগেরবার আমরা বাগদায় জিততে পারিনি৷ এবার আশা করি, বাগদার মানুষজন আমাদের সমর্থন করবেন৷ আপনারা মমতাবালাকে জিতিয়ে দেবেন৷’ এই এলাকায় রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ানও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মোদি সরকারের সমালোচনায় উঠেছে এনআরসি ইস্যুও৷ মমতা বলেন, ‘এনআরসিতে বাদ যাওয়া ৪০ লক্ষের মধ্যে রয়েছে ২২ লক্ষ বাঙালির নামও৷ আমি বলেছিলাম, বাংলা এঁদের সকলকে আশ্রয় দেবে৷ ওখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মমতাবালা, মহুয়া, সুখেন্দুশেখরদের পাঠিয়েছিলাম৷ ওদের বিমানবন্দরে আটকে রেখেছিল৷ তবুও আমি প্রতিবাদ জারি রেখেছিলাম৷ এখন বলছে, ক্ষমতায় এলে বাংলাতেও এনআরসি করবে৷ আমি বলি, হাত দিয়ে দেখো বাংলায় এনআরসি করতে এলে, কী হবে৷’

[ আরও পড়ুন : ‘গুলি চালানোর সাহস কীভাবে হয়?’ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তোপ শতাব্দীর]

বনগাঁ কেন্দ্রে লোকসভা ভোটের লড়াই আবার পারিবারিক লড়াইও হবে৷ এই কেন্দ্রে ঠাকুরবাড়ির ছেলে শান্তনু ঠাকুর গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী৷ তাঁর লড়াই নিজের জেঠিমার সঙ্গে৷ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিবারের কে জয়ী হবে, তা অবশ্য বোঝা যাবে ২৩ মে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement