BREAKING NEWS

২৩ আষাঢ়  ১৪২৭  বুধবার ৮ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

তৈলবীজে আরও বেশি ফলন চান? অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে করুন চাষ

Published by: Sayani Sen |    Posted: April 22, 2019 8:31 pm|    Updated: April 22, 2019 8:31 pm

An Images

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: কৃষি অর্থনীতিতে দানা শস্যের পরেই তৈলবীজের কথা উঠে আসে। বলা যায় ধান চাষের বিকল্প তৈলবীজ। এ রাজ্যে বর্তমানে তৈলবীজ চাষের ক্ষেত্র ক্রমেই বাড়ছে। এখানকার আবহাওয়ায় আট থেকে ন’ধরনের তৈলবীজ চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে রয়েছে সরষে, তিল, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, কুসুম, সয়াবিন, নাইজার, তিসি।

সরষে: আমাদের রাজ্যে তথা গোটা দেশে মোটের উপর তিন প্রকারের সরষে চাষ হয়। সেগুলি হল টোরি, শ্বেতসরিষা ও রাই সরিষা।

টোরি:
এই সরষের উন্নততর জাত হল অগ্রণী ও পাঞ্চালী। জলনিকাশী ব্যবস্থাযুক্ত বেলে এবং দোআঁশ মাটিতে এই চাষ হয়ে থাকে। আশ্বিনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কার্তিকের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই সরষের বীজ বপন করতে হয়। সারিতে বীজ বোনা প্রয়োজন। একর প্রতি আড়াই থেকে তিন কিলোগ্রাম বীজ বপন করা দরকার। বেশ কয়েকবার লাঙল ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করা প্রয়োজন। মাটিতে রসের অভাব থাকলে হালকা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে।

[ আরও পড়ুন: মাছ চাষে এবার ভেষজ পদ্ধতি ব্যবহারে জোর মৎস্য দপ্তরের]

শ্বেত সরিষা: এই সরষের উন্নত জাত হল বিনয়, সুবিনয়, ঝুমকা। হলদে রঙের হয় বলে একে হলুদ সরিষাও বলা হয়। জলনিকাশী ব্যবস্থা যুক্ত বেলে দোআঁশ বা শুধুমাত্র দোআঁশ মাটিতে এই জাতের সরষের চাষ করতে হবে। কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বীজ বপন প্রয়োজন। এই সরষেতেও একর প্রতি আড়াই থেকে তিন কিলোগ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। যেভাবে টোরি সরষের জমি তৈরি করতে হয় সেভাবে শ্বেত সরিষাতেও জমি তৈরি করতে হবে।

রাই: এই সরষের উন্নত জাত হল সীতা, বরুণা, সরমা ও ভাগীরথী। টোরি ও শ্বেত সরিষার মতো রাই সরষেরও জলনিকাশী ব্যবস্থা যুক্ত বেলে ও দোআঁশ মাটিতে খুব ভাল চাষ হয়। এই সরষের বীজ কার্তিকের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বপন করা যায়। একর প্রতি আড়াই থেকে তিন কিলোগ্রাম বীজ বপন করা প্রয়োজন। জমি তৈরির পদ্ধতিও বাকি দুই জাতের সরষের মতোই।

তিল: এর উন্নত জাত হল তিলোত্তমা, রমা। এই চাষ সব মাটিতে হলেও দোআঁশ মাটি বেশি উপযোগী। ফাল্গুন থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত একর প্রতি তিন কিলোগ্রাম বীজ সারিবদ্ধভাবে বু্‌নতে হয়। জমি তৈরির পদ্ধতি সরষের মতোই। এই চাষে সাধারণত দু’টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম ক্ষেত্রে সেচ দিতে হবে বপনের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর। আর দ্বিতীয়বার সেচ দিতে হবে ২০-২৫ দিন পর।

চীনাবাদাম: এই চীনাবাদামের উন্নত জাত হল জেএল-২৪, একে-১২ ও একে-২৪। এই চীনাবাদামেও জল নিকাশি যুক্ত বেলে দোআঁশ বা শুধুমাত্র দোআঁশ মাটি চাষের জন্য উপযোগী। এই চাষ বছরে দু’বার হয়ে থাকে। বছরের ফাল্গুন-চৈত্র ও জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বু্‌নতে খোসা ছাড়ানো বাদাম একর প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ কিলোগ্রামের প্রয়োজন।

[ আরও পড়ুন: পরিত্যক্ত জমিতে করুন অশ্বগন্ধার চাষ, জেনে নিন পদ্ধতি]

সূর্যমুখী: সব ধরনের মাটিতেই সূর্যমুখীর চাষ করা যায়। তবে চাষ ক্ষেত্রে জল নিকাশি ব্যবস্থা থাকা চাই। এই চাষে হাইব্রিড সবচেয়ে ভাল। একর প্রতি দু’কিলোগ্রাম বা বিঘা প্রতি ৬৫০ গ্রাম হাইব্রিড বীজ প্রয়োজন। অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বীজ বপনের আদর্শ সময়।

কুসুম: সব ধরনের মাটিতে কুসুমের চাষ হয়ে থাকে। এই চাষে উন্নত জাত হল জ্যোতি, ক্রান্তি। কার্তিক মাসে একর প্রতি সাড়ে চার কিলোগ্রাম বীজ বপন করতে হয়।

সয়াবিন: জলনিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত দোআঁশ ও এঁটেল কেবলমাত্র দোআঁশ মাটি সয়াবিন চাষে সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এই চাষে উন্নত জাতগুলি হল জেএস-৩৩৫, ক্লার্ক-৪৩ ইত্যাদি।

[ আরও পড়ুন: চাষের কাঁচা লঙ্কায় পোকার আক্রমণ? এই উপায়েই পেতে পারেন নিস্তার]

নাইজার: মোটের উপর সব ধরনের মাটিতেই নাইজার জন্মায়। তবে আমাদের রাজ্যে লাল কাঁকুরে মাটিতে এই চাষ কম-বেশি হয়ে থাকে। উন্নত জাতগুলি আইজি পি-৭৬, নম্বর-৭১। শ্রাবণ মাসে একর প্রতি দু’ থেকে তিন কিলোগ্রাম বীজ বোনা হয়।

তিসি: আমাদের রাজ্যে ধানের মরশুম শেষ হলে অনেকেই জমি ফেলে না রেখে তিসির বীজ বপন করেন। রাজ্য বেশি পরিমাণেই তিসির উৎপাদন হয়। তিসি চাষের উন্নত জাতগুলি হল নীলা, শুভ্রা, হীরা, মুক্তা। জল দাঁড়ায় না এইরকম যেকোনও জমিতে তিসির চাষ বেশ ভালই হয়ে থাকে। কার্তিক মাসে তিসি বোনা যায়। একর প্রতি আড়াই থেকে তিন কিলোগ্রাম বীজবপন করা যায়।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement