৩১ ভাদ্র  ১৪২৬  বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘টিক টক-টিক টক’। না ঘড়ির কাঁটার ছন্দ নয়। এ এক ভিডিও অ্যাপ। যাতে মশগুল প্রায় পাঁচ কোটি ৪০ লক্ষ ভারতীয়। তালিকায় রয়েছে আট থেকে আশি সকলেই। আপাত মজার এই ভিডিও অ্যাপই নাকি যৌনতায় ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাই এই ভিডিও অ্যাপ নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে এই অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি ভিডিও দেশের কোনও সংবাদমাধ্যমে না দেখানোরও নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাজ হাই কোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।

স্মার্টফোনের দৌলতে আজ প্রায় সকলের হাতের মুঠো রয়েছে চাইনিজ এই ভিডিও অ্যাপটি। যার সাহায্যে সহজেই ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়। নিছক নাচ-গান-সংলাপের ভিডিও নয়। এই অ্যাপের স্পেশ্যাল এফেক্টে ভিডিওগুলি বিশেষ মাত্রা পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সব এফেক্ট মজার হলেও তার আড়ালে যৌন উত্তেজক এফেক্টও থাকে বলে মাদ্রাজ হাই কোর্টে অভিযোগ করেন মাদুরাইয়ের প্রবীণ আইনজীবী ও সমাজকর্মী মুথু কুমার।

[আরও পড়ুন- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ালে অভিযোগ শুনবে হোয়াটসঅ্যাপও]

তিনি দাবি করেন, মজার মোড়কে বহু ক্ষেত্রেই পর্নোগ্রাফি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা আমাদের সংস্কৃতিকে অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর কুপ্রভাব পড়ছে শিশুমনেও। বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। তাই অবিলম্বে আদালত যাতে এই ভিডিও অ্যাপ নিষিদ্ধ করে। বুধবার এই মামলার শুনানিতে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চেয়েছে মাদ্রাজ হাই কোর্টে বিচারপতি এন কিরুবাকরন ও বিচারপতি এস এস সুন্দরের ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি আমেরিকার চিলড্রেন্স অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্টের মতো আইন এই দেশেও কার্যকর করা যাবে কিনা তা কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। আমেরিকায় অনলাইন যৌন ইন্ধনের কবল থেকে শিশুদের রক্ষা করতে রয়েছে বিশেষ এই আইনি সুরক্ষা।

[আরও পড়ুন- ফেক অ্যাকাউন্টে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বহু পেজ বন্ধ করল ফেসবুক]

আইনজীবী মুথুর অভিযোগ খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর বিষয় পরিবেশনের ফলে সমাজে টিকটকের প্রভাব বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে শিশুমনে। আদালতের রায় শুনে মামলাকারীর আইনজীবী নীলামিগম বলেন, “অন্তর্বতীকালীন এই নির্দেশে আমরা খুশি।” যদিও টিকটক-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় আইনকে মান্যতা দিতে সংস্থা দায়বদ্ধ। তাই আদালতের এই সংক্রান্ত নির্দেশের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন। আদালতের নির্দেশ হাতে পেলে সেইমতো পদক্ষেপ করবে টিকটক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অ্যাপে নিরাপদ ও সদর্থক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই কাজ করছেন তাঁরা।

[আরও পড়ুন-অবাঞ্ছিত কল রিসিভ করে ক্লান্ত? মুক্তি পান এই পাঁচ সহজ উপায়ে ]

কয়েকমাস আগে এআইডিএমকে-এর এক বিধায়ক থামিমুন আনসারি তামিলনাড়ু বিধানসভায় এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে অ্যাপটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেন। এর উত্তরে তামিলনাড়ুর তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মণিকানন্দন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান। চিনের রাজধানী বেজিংয়ের বাইটড্যান্স কোম্পানির এই সোশ্যাল ভিডিও অ্যাপটি ২০১৯ সালে ভারতে চালু হয়। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এটি ডাউনলোড করে এক কোটি মানুষ। তার আগে ২০১৮ সালে এই অ্যাপটি বিশ্বের নন-গেম অ্যাপ ডাউনলোডের তালিকায় চার নম্বরে ছিল।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং