রামকৃষ্ণলোকে স্বামী আত্মস্থানন্দ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রামকৃষ্ণলোকে স্বামী আত্মস্থানন্দ। প্রিয় মহারাজকে একবারের জন্য দেখতে রবিবার রাত থেকে অনুরাগীদের ভিড় বেলুড়ে। মঠ ও মিশনের পঞ্চদশ  অধ্যক্ষ স্বামী আত্মস্থানন্দের শেষকৃত্য সোমবার রাতে সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

[লন্ডনে মসজিদ থেকে বের হতেই মুসলিমদের পিষল গাড়ি, ছড়াল আতঙ্ক]

প্রায় আড়াই বছর হাসপাতালে। মূত্রনালীতে সংক্রমণ-সহ বার্ধক্যজনিত কারণে রবিবারে বিকেলে প্রয়াত হন স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ। তাঁর প্রয়াণ সংবাদ পেয়ে রামকৃষ্ণ মিশন হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত। রাতে অ্যাম্বুল্যান্স করে মহারাজের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বেলুড় মঠে। মঠের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিতর রামকৃষ্ণদেব, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দর প্রতিকৃতির সামনে রাখা হয় মরদেহ। শুরু হয় মন্ত্রোচ্চারণ। এর জন্য সারা রাত মঠ খোলা ছিল। অগণিত ভক্তরা প্রিয় মহারাজকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সোমবার দিনভর একই ব্যবস্থা রয়েছে। রাত নটা নাগাদ মহারাজের দেহ নিয়ে বেলুড় মঠে মন্দির পরিক্রমা হবে। রাত সাড়ে নটায় হবে শেষকৃত্য। গঙ্গার তীরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর অন্তিম সংস্কার হবে। মাদার টেরিজার পর এই প্রথম কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টি হতে চলেছে। রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া হবে গান স্যালুট। থাকবেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম। ভক্তদের সুবিধার জন্য এদিন প্রশাসনের তরফে বেলুড় মঠে যাতায়াতের জন্য বেশ কিছু বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরেই বেলুড় মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষকে হাসপাতালে দেখে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বামী আত্মস্থানন্দজীর প্রয়াণের খবরে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। জানান,  আর্তের সেবায় আত্মস্থানন্দজীর অবদান অনস্বীকার্য। সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রমী এক জীবন। মানবতার অপূরণীয় ক্ষতি হল। গুজরাটের রাজকোট মিশনে আত্মস্থানন্দজির সংস্পর্শে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। অধ্যক্ষকে মোদি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন এবং গুরুজি বলে সম্বোধন করতেন। এমনকী আত্মস্থানন্দজি অসুস্থ হওয়ার পর তিনি কলকাতায় এসে দেখে গিয়েছিলেন। অধ্যক্ষর প্রয়াণের ঘটনা ছুঁয়ে গিয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। টুইটারে তিনি জানান, স্বামী আত্মস্থানন্দজির প্রয়াণ খুব কাছের কাউকে হারানোর সমান। জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি গুরুজির সঙ্গে কাটিয়েছেন। কলকাতা গেলেই আশীর্বাদের জন্য যেতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *