নাটকের কর্মশালায় ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব, অভিযুক্ত পরিচালক

নন্দন দত্ত ও সৌরভ মাজি: নাট্য প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে কুপ্রস্তাবের শিকার হতে হল শিক্ষার্থীদের। প্রশিক্ষক প্রেমাংশু রায় অভিনয় শিখতে আসা মেয়েদের কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিনেত্রীদের অভিযোগ। এমনকি মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকলেও বর্ধমান রবীন্দ্র ভবনে নাট্য প্রশিক্ষণশালায় নিয়মিত মদ্যপান করতেন বলেও অভিযোগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব বর্ধমান জেলা ও তথ্য-সংস্কৃতিক আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী জানান, কর্মশালার নাট্যকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমাংশু রায়কে কর্মশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিনেত্রী থেকে নাট্য প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া নাট্য কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়া-সহ সর্বত্র প্রতিবাদে সরব হলেও পুলিশের কাছে কোথাও লিখিত অভিযোগ জানায়নি। তবে কর্মশালায় বিক্ষোভের জেরে বুধবার রাতে বর্ধমান রবীন্দ্রভবনে পুলিশ গিয়ে নাট্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু প্রেমাংশু রায়ের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।


তিন জেলার নাট্য কর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণশালা শুরু হয় বর্ধমান রবীন্দ্র ভবনে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের নাট্যকর্মীরা তাতে অংশ নেয়। গত আট অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নাট্যকর্মশালায় বীরভূম থেকেও বেশ কিছু নাট্যকর্মী সেখানে অংশ নেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নাট্য একাডেমির বাইরেও জেলা থেকে অভিনয় প্রতিভা বিকাশের জন্য মিনার্ভা রেপাটারি নামে এই প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়। মিনার্ভার পক্ষ থেকে নাট্য প্রশিক্ষক হিসাবে প্রেমাংশু রায় প্রশিক্ষণশালায় অংশ নেন। নাট্যকর্মীদের অভিযোগ, গত দুদিন ধরে রাত্রে প্রেমাংশুবাবু মদ্যপ অবস্থায় এক এক মহিলা অভিনেত্রীকে ডেকে তাদের অশোভন কথাবার্তা থেকে কুপ্রস্তাব দেন। মহিলাদের অভিযোগ মিনার্ভাতে এক বছরের কাজের চুক্তির জন্য তার সঙ্গে রাত কাটানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। বুধবারই নাট্যকর্মীরা এনিয়ে সরব হয়। বর্ধমান রবীন্দ্রভবনে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি বুঝে পুলিশ যায়। নাট্যকর্মীরা পুলিশের  সঙ্গে কথা বললেও তারা কোনও লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা সরব হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সিউড়ি জেলা তথ্য সাংস্কৃতিক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিউড়ির নাট্যকর্মীরা। তাঁরা দাবি করেন রুচিশীল এই গণমাধ্যমে এমন অরুচিকর মানুষকে রাখা চলবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সিউড়ির নাট্যকর্মী মুকুল সিদ্দিকী, দেবাশিস দত্তরা জানান, প্রথমত নাট্যজগতে সাবলীলভাবে মেয়েদের অংশগ্রহণে এখনও অনেক বাধা আছে। তার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে তাদের যদি কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় নাটক সম্বন্ধে তাদের ধারণা কী হবে।  পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য আধিকারিক কুশল চক্রবর্ত্তী জানান, প্রেমাংশু বাবুর মুখের ভাষা ও তার আচরণ  অশোভন লাগায় নাট্যকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

[  ‘অভিনেত্রীরা স্বেচ্ছায় সহবাস করে পরে শ্লীলতাহানির ধুয়ো তোলেন’ ]

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুক পোস্ট করে পরিচালক জানান,  ‘ ঘরে ফোন করে ডাকার ব্যাপারটা সত্য। কিন্তু, যে উদ্দেশ্য ফেসবুক লাইভে বলা হয়েছে সেটা ভুল। আমার ঘরে প্রায় সকলে মিলে আড্ডা হচ্ছিল। রাহুল নামের একটা ছেলে অসাধারণ বাঁশি বাজাচ্ছিলো। কিছু মেয়ে অন্য ঘরে আড্ডা দিচ্ছিলো । তখন আমি বলি , ওদেরও ডাক। আড্ডা দি সবাই মিলে। সেটাও আমার ভুল। কারন , আমার বোঝা উচিত ছিলো সকলেই ভীষণ ঘরোয়া মেয়ে, তারা এই ডাকাটাকে ভুল ভাবতেই পারে ! আমি এটার জন্যেও ক্ষমাপ্রার্থী। যারা আমার সাথে কাজ করেছেন তারা জানেন , আমি ভীষন ইয়ার্কি করতে করতে কাজ করি। সেই ইয়ার্কি গুলোও এদের সাথে করা আমার উচিত হয়নি । কারন, এদের অনেকের সেই ইয়ার্কি গুলো নেবার মন তৈরী হয়নি , সেটা আমি বুঝতে পারিনি! সেই ইয়ার্কি গুলো থেকে যে আসলে ওদের কিছু জনের ভীতরে বারুদ জমা হচ্ছিলো সেটা আমি আঁচ করতেই পারিনি! আসলে, বাকি অধিকাংশ ছেলে / মেয়ে রা (যারা ফেসবুক লাইভে ছিলো না) ওই ইয়ার্কি গুলো খুবই উপভোগ করতো , তাই আমি বুঝতে পারিনি। আমি ক্ষমা প্রার্থী!’

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *