গুঁড়িয়ে গিয়েছে রাসায়নিক অস্ত্রাগার, ‘মিশন সাকসেসফুল’ বলে অভিযান শেষের ডাক ট্রাম্পের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘দুর্দান্ত কাজ করেছে মার্কিন সেনা। কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগে দারুন কাজ হয়েছে। মার্কিন সেনার ধারেকাছে কেউ আসতে পারবে না।’ এই বলে সিরিয়ায় অভিযান শেষ বলে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রাগার গুঁড়িয়ে দেওয়া গিয়েছে। সেগুলির আর কোনও অস্তিত্ব নেই।

যদিও সিরিয়া এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, কোনও অস্ত্রাগারেরই ক্ষতি হয়নি। যদিও মার্কিন সেনা কর্তৃক প্রকাশিত এক স্যাটেলাইট ছবি কিন্তু সেই দাবি মানছে না। বরং ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আসাদের অস্ত্রাগারগুলির প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। একটি গবেষণাগার প্রায় ধুলোয় মিশে গিয়েছে। সিএনএন সূত্রে খবর, আমেরিকা, ফ্রান্স ও ব্রিটেন একসঙ্গে মোট ১০৫টি মিসাইল ছুড়েছে সিরিয়ায় তিনটি টার্গেট লক্ষ্য করে। হামলার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন, তিনটি টার্গেটই সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রাগার। পেন্টাগনের মুখপাত্র ড্যানা হোয়াইট বলেন, ‘প্রত্যেকটি মিসাইলই নিখুঁত নিশানায় গিয়ে লেগেছে।’

স্যাটেলাইট ছবিও সে কথাই জানাচ্ছে। শুক্র ও শনিবারে মার্কিন মিসাইলের ধাক্কায় সিরীয় সেনার হোমস ঘাঁটিটি মানচিত্র থেকে প্রায় উধাও। মার্কিন সেনার দাবি, ওই এলাকায় একটি রাসায়নিক অস্ত্রের গবেষণাগার, একটি গুদাম ও একটি কম্যান্ড পোস্ট ছিল। এখন চারপাশে শুধুই ধ্বংসস্তুপ। দামাস্কাসের বাজরাহ রিসার্চ সেন্টারটিরও প্রায় একই অবস্থা। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে এখন আর ওই গবেষণাগারটির কোনও অস্তিত্বই নেই।

যদিও সিরিয়ার দাবি, মার্কিন সেনার দেওয়া তথ্য অসত্য। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের হুমকির পরই সিরিয়ার তারতাস নৌঘাঁটি থেকে উধাও হয়েছে ১১টি রুশ যুদ্ধজাহাজ। মাত্র একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন রয়ে যায় বন্দরে। সেটির সুরক্ষায় আবার মোতায়েন করা হয় অত্যাধুনিক ‘এস-৪০০’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। পালটা স্যাটেলাইটের ছবি প্রকাশ করে সিরীয় সেনার দাবি, মার্কিন হামলার পালটা জবাব দিতে গোপনে সাগরে পাড়ি দিয়েছে রুশ রণতরীগুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *