চোখ থেকে পেরেক বের হলেও বিপন্মুক্ত নয় বালক করিম

স্টাফ রিপোর্টার: চোখ থেকে অস্ত্রোপচার করে পেরেক বের করা গেলেও, বিপদ কাটেনি ক্যানিংয়ের করিম মোল্লার। আট বছরের করিমের মস্তিষ্কের ‘ফ্রন্টাল লোব’—এ গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে পেরেকটি। নিবিড় পর্যবেক্ষেণে শিশুটিকে রেখেছেন এনআরএসের চিকিৎসকরা। সঙ্গে রয়েছেন শিশুটির ঠাকুমা। করিমের চিকিৎসায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয়, তার জন্য ভাঙা পা নিয়েও ছুটির দিনে হাসপাতালে যান ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাস। দফায় দফায় তিনি স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ‘আপডেট’—ও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন করে করিমের খোঁজ নেওয়া হয়।

[গরুপাচার বন্ধ হওয়াই কি বসিরহাটে অশান্তির মূল কারণ?]

দ্বৈপায়নবাবু জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর শিশুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কথাবার্তা বলছে। তরল খাবারও দেওয়া হয়েছে। এদিন শিশুটির মস্তিষ্কের ক্ষতের গভীরতা জানতে থ্রি—ডাইমেনশনাল ‘সিটি স্ক্যান’ হয়। তাতেই দেখা যায়, বাঁ চোখ দিয়ে ঢুকে পেরেকটি শিশুর মস্তিষ্কের ‘ফ্রন্টাল লোব’—এর অনেকটাই ক্ষতি করেছে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিশুর চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। শনিবার খেলতে খেলতে উঁচু থেকে পড়ে বাঁ চোখে পেরেক ঢুকে যায় করিমের।বাড়ির লোকেরা করিমকে প্রথমে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ক্যানিং থেকে শুরু করে কলকাতা, পাঁচটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দেয় করিমকে। এমনকী এনআরএসও দুপুরে ফিরিয়ে দিয়েছিল মুমূর্ষু শিশুটিকে। অধের্ক পেরেক চোখে নিয়েই এনআরএসের গেটের সামনে বসেছিল করিমের পরিবার। চাপে পড়ে শনিবার রাতে এনআরএস কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ভর্তি নেয়। রাতে অপারেশনের পর বের করা হয় পেরেকটি।

[বিতর্কিত মন্তব্যের জের, এফআইআর দায়ের রূপার বিরুদ্ধে]

কেন শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পাঁচটি হাসপাতাল ঘুরতে হল তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, নবান্ন থেকে স্বাস্থ্যভবন, সবাই অখুশি। গত ফেব্রুয়ারিতে টাউন হলে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, পরিকাঠামো থাকলে জরুরি অবস্থায় কোনও রোগীকে ফেরানো যাবে না। শিশুটির চিকিৎসাপর্ব চুকে যাওয়ার পর এই নিয়ে শোকজ করা হতে পারে এনআরএস-সহ অভিযুক্ত হাসপাতালগুলিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *