ভোটের দিন জীবনহানির ভয়ে মুখ খোলেননি, পুলিশকর্মীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া:  গান্ধীজির তিন বাঁদরের কথা মনে আছে তো? পঞ্চায়েত ভোটের ডিউটির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল। পোস্ট ভাইরাল হতেই বিতর্কে জড়ালেন কনস্টেবল সুব্রত মাহাতো। পুরুলিয়ার বেলগুমা পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন সুব্রতবাবু। গত ১৪ মে সোমবার ভোটের ডিউটিতে যান পুরুলিয়ার মফস্বল থানার বিরগিরির বুথে। ডিউটি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ভারচুয়াল দুনিয়ায়। লিখলেন,‘‘আমি পুলিশ। ভোটের দিন মুখে তালা লাগিয়ে চুপ করেছিলাম জীবন হানির ভয়ে। তালা খোলার চাবি লুকিয়ে রেখেছি চাকরি হানির ভয়ে।” সঙ্গে থাকল গান্ধীজির তিন বাঁদরের ছবি। পোস্টের পরেপরেই হু হু করে লাইকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাল্লা দিয়ে শেয়ারের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কমেন্ট বক্স ভরে যায় বাহবা ও প্রশংসায়।

[বাঁকুড়ায় ব্যালট বাক্স বহনকারীদের হাতে রঙিন ফিতে বাঁধার নিদান প্রশাসনের]

তবে সুব্রত মাহাতোর ক্ষেত্রে এ কোনও নতুন ব্যাপার নয়। এর আগে ২০১৫-র পুরভোটেও তিনি ডিউটি করে ছিলেন। আসানসোলের একটি বুথে সেই সময়  চোখের সামনে ছাপ্পা ভোট দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেবারও বিতর্ক কম হয়নি। এবারও পঞ্চায়েত ভোটের পর ফেসবুক পোস্ট। ইতিমধ্যেই সেই পোস্টকে ঘিরে পুলিশ মহলে বিতর্ক ছড়িয়েছে। এদিন নিজের করা পোস্ট নিয়েই এই কনস্টেবলকে প্রশ্ন করা হলে সাফ জানিয়ে দেন, “সোশ্যাল সাইটে আমি যা পোস্ট করেছি, সেখান থেকে সরে দাঁড়াব না। কারণ ওই পোষ্ট আমার নিজস্ব মতামত। এর সঙ্গে আমার পেশা ও রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। আমি আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত মতামত পেশ করতেই পারি।”

police-purulia

দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়ার বাসিন্দা সুব্রত মাহাতো বরাবরই প্রতিবাদী। পুলিশের চাকরিতেও তাঁকে বারবার প্রতিবাদী চেহারায় দেখেছেন সহকর্মীরা। কিন্তু নিজের কাজ সম্বন্ধে তিনি ভীষণ সচেতন। তাই সকলের কাছে পরিচিত মুখ এই সুব্রত মাহাতো। বিশেষ করে গত পুরভোটে তাঁর অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর তাঁকে ভালভাবে চিনে গিয়েছেন সকলেই। উল্লেখ্য, এই প্রতিবাদী পুলিশকর্মী আগে প্রয়াত বিধায়ক কে পি সিং দেও, বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন ও জয়পুরের বিধায়ক শক্তিপদ মাহাতোর দেহরক্ষী ছিলেন।

[বিজেপিকে ছাপ্পা ভোটের সুযোগ করে দিল খোদ তৃণমূল প্রার্থী! হইচই কাঁকসায়]

ছবি: অমিত সিং দেও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *